ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেষ হলো জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন তায়েফের বুকে যে মসজিদ মুসলিমদের জন্য এক টুকরো সান্ত্বনা পে স্কেলে বদলাচ্ছে ইনক্রিমেন্ট নীতি, কোন গ্রেডে কত শিগগিরই ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগ অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে জোবায়েদকে হত্যা, তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র বাংলাদেশি সমর্থকদের স্কালোনির ধন্যবাদ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান ‘মত পার্থক্য থাকতে পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়’ শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষিতে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে আইফার্মারের সাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

পৃথিবী থেকে যে ছয়টি জিনিস হারিয়ে যাচ্ছে

বাঙালী কঠ ডেস্কঃ পৃথিবী থেকে অনেক সম্পদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। মূলত ঠিকমতো ব্যবহার না হওয়ার কারণেই এসব জিনিস বিলুপ্ত হতে বসেছে। পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে বসা এরকম ছয়টি জিনিস হচ্ছে বালু, ফসফরাস, হিলিয়াম, মাটি, কলা এবং কক্ষপথের জায়গা।

বালি : প্রাকৃতিকভাবে যতটা বালু তৈরি হচ্ছে আমরা তার চেয়ে বেশি পরিমাণে ব্যবহার করছি। এ কারণে দ্রুতগতিতে হারিয়ে যাচ্ছে বালু। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, বালুর ঘাটতি তৈরি হওয়া কীভাবে সম্ভব, যেখানে আমাদের সৈকত আছে, মরুভূমি ভর্তি বালু আছে। কিন্তু সত্যিটা হলো, বালু হচ্ছে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে বেশি তুলে নেওয়া কঠিন পদার্থ— যার সঙ্গে নুড়িও থাকে। জাতিসংঘ বলছে, প্রাকৃতিকভাবে যে হারে বালু তৈরি হয়, আমরা তারচেয়ে অনেক বেশি হারে ব্যবহার করছি। বালু কমে যাওয়ার ফলে হুমকিতে পড়ছে ইকো-সিস্টেম।

হিলিয়াম : গ্যাস বেলুনে সাধারণত সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় হিলিয়াম গ্যাস। এর বাইরে চিকিত্সা শাস্ত্রে অতিপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হিসেবেও হিলিয়ামের ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু এই হিলিয়াম গ্যাস সীমিত একটি সম্পদ, যা মাটির অনেক নিচ থেকে বের করে আনা হয়। আমাদের হাতে আর কয়েক দশক সময় আছে যার মধ্যে এই গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে যাবে। গ্যাসের মজুদ শেষ হয়ে গেলে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে হিলিয়াম গ্যাস।

কলা : বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে যে কলার চাষ করা হয়, তার বেশিরভাগই এখন ‘পানামা ডিজিজ’ নামের একটি ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হচ্ছে। কলা গাছে পানামা রোগটি অতি দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৫০ সালে ঠিক একই রকমের একটি রোগে বিশ্বের কলা চাষ বন্ধ হয়ে যায়। তখন চাষিরা গ্রস মাইকেল জাত থেকে সরে এসে ক্যাভেন্ডিস জাতের কলা চাষ করতে শুরু করেন। কিন্তু যদি রোগের কারণে এই জাতটিও হারিয়ে যায় তাহলে হয়তো একদিন পৃথিবী থেকেও হারিয়ে যাবে কলা।

মাটি : পৃথিবীর মাটি হঠাৎ করে পৃথিবী থেকে কোথাও উড়ে যেতে পারবে না। কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে এটি নিয়েও উদ্বেগের কারণ আছে। মাটির সবচেয়ে উপরের অংশ থেকে গাছপালা বা উদ্ভিদ তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ সংগ্রহ করে। ডব্লিউডব্লিউএফ নামের একটি এনজিও—যারা বিশ্বের প্রকৃতি রক্ষায় কাজ করে তাদের ধারণা, গত ১৫০ বছরে বিশ্বের মোট ভূমির অর্ধেকের মতো উপরের মাটি হারিয়ে গেছে।

ফসফরাস : আগুন জ্বালানোর জন্য দিয়াশলাইতে ফসফরাসের ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু যে হারে ফসফরাসের মজুত ফুরিয়ে আসছে তাতে আশঙ্কা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। মানব ডিএনএ গঠনের জন্য এটা শুধু জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিতেই যে গুরুত্বপূর্ণ তা নয়, বরং এটি কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত দরকারি একটি সার তৈরিতে ব্যবহূত হয়। এখন যেভাবে চলছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে যে, আমাদের বর্তমান ফসফরাসের খনিগুলো আর ৩৫ থেকে ৪০০ বছর পর্যন্ত যোগান দিতে পারবে।

কমে যাচ্ছে কক্ষপথের জায়গা : ২০১৯ সাল পর্যন্ত কক্ষপথে প্রায় পাঁচ লাখ বস্তু পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। এর মধ্যে মাত্র ২০০০ বস্তু কার্যক্ষম-স্যাটেলাইট। কক্ষপথে এখন পর্যন্ত কোনো ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এছাড়া কক্ষপথে থাকা এসব অপ্রয়োজনীয় এবং উচ্ছিষ্ট জিনিসপত্র পরিষ্কার করারও এখন পর্যন্ত কোনো প্রযুক্তি নেই। ফলে এ ধরনের জিনিসে পৃথিবীর চারদিকের কক্ষপথ ক্রমেই ভরে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় কক্ষপথের জায়গাও সংকুচিত হয়ে পড়বে।-বিবিসি

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পৃথিবী থেকে যে ছয়টি জিনিস হারিয়ে যাচ্ছে

আপডেট টাইম : ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০১৯

বাঙালী কঠ ডেস্কঃ পৃথিবী থেকে অনেক সম্পদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। মূলত ঠিকমতো ব্যবহার না হওয়ার কারণেই এসব জিনিস বিলুপ্ত হতে বসেছে। পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে বসা এরকম ছয়টি জিনিস হচ্ছে বালু, ফসফরাস, হিলিয়াম, মাটি, কলা এবং কক্ষপথের জায়গা।

বালি : প্রাকৃতিকভাবে যতটা বালু তৈরি হচ্ছে আমরা তার চেয়ে বেশি পরিমাণে ব্যবহার করছি। এ কারণে দ্রুতগতিতে হারিয়ে যাচ্ছে বালু। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, বালুর ঘাটতি তৈরি হওয়া কীভাবে সম্ভব, যেখানে আমাদের সৈকত আছে, মরুভূমি ভর্তি বালু আছে। কিন্তু সত্যিটা হলো, বালু হচ্ছে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে বেশি তুলে নেওয়া কঠিন পদার্থ— যার সঙ্গে নুড়িও থাকে। জাতিসংঘ বলছে, প্রাকৃতিকভাবে যে হারে বালু তৈরি হয়, আমরা তারচেয়ে অনেক বেশি হারে ব্যবহার করছি। বালু কমে যাওয়ার ফলে হুমকিতে পড়ছে ইকো-সিস্টেম।

হিলিয়াম : গ্যাস বেলুনে সাধারণত সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় হিলিয়াম গ্যাস। এর বাইরে চিকিত্সা শাস্ত্রে অতিপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হিসেবেও হিলিয়ামের ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু এই হিলিয়াম গ্যাস সীমিত একটি সম্পদ, যা মাটির অনেক নিচ থেকে বের করে আনা হয়। আমাদের হাতে আর কয়েক দশক সময় আছে যার মধ্যে এই গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে যাবে। গ্যাসের মজুদ শেষ হয়ে গেলে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে হিলিয়াম গ্যাস।

কলা : বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে যে কলার চাষ করা হয়, তার বেশিরভাগই এখন ‘পানামা ডিজিজ’ নামের একটি ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হচ্ছে। কলা গাছে পানামা রোগটি অতি দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৫০ সালে ঠিক একই রকমের একটি রোগে বিশ্বের কলা চাষ বন্ধ হয়ে যায়। তখন চাষিরা গ্রস মাইকেল জাত থেকে সরে এসে ক্যাভেন্ডিস জাতের কলা চাষ করতে শুরু করেন। কিন্তু যদি রোগের কারণে এই জাতটিও হারিয়ে যায় তাহলে হয়তো একদিন পৃথিবী থেকেও হারিয়ে যাবে কলা।

মাটি : পৃথিবীর মাটি হঠাৎ করে পৃথিবী থেকে কোথাও উড়ে যেতে পারবে না। কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে এটি নিয়েও উদ্বেগের কারণ আছে। মাটির সবচেয়ে উপরের অংশ থেকে গাছপালা বা উদ্ভিদ তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ সংগ্রহ করে। ডব্লিউডব্লিউএফ নামের একটি এনজিও—যারা বিশ্বের প্রকৃতি রক্ষায় কাজ করে তাদের ধারণা, গত ১৫০ বছরে বিশ্বের মোট ভূমির অর্ধেকের মতো উপরের মাটি হারিয়ে গেছে।

ফসফরাস : আগুন জ্বালানোর জন্য দিয়াশলাইতে ফসফরাসের ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু যে হারে ফসফরাসের মজুত ফুরিয়ে আসছে তাতে আশঙ্কা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। মানব ডিএনএ গঠনের জন্য এটা শুধু জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিতেই যে গুরুত্বপূর্ণ তা নয়, বরং এটি কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত দরকারি একটি সার তৈরিতে ব্যবহূত হয়। এখন যেভাবে চলছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে যে, আমাদের বর্তমান ফসফরাসের খনিগুলো আর ৩৫ থেকে ৪০০ বছর পর্যন্ত যোগান দিতে পারবে।

কমে যাচ্ছে কক্ষপথের জায়গা : ২০১৯ সাল পর্যন্ত কক্ষপথে প্রায় পাঁচ লাখ বস্তু পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। এর মধ্যে মাত্র ২০০০ বস্তু কার্যক্ষম-স্যাটেলাইট। কক্ষপথে এখন পর্যন্ত কোনো ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এছাড়া কক্ষপথে থাকা এসব অপ্রয়োজনীয় এবং উচ্ছিষ্ট জিনিসপত্র পরিষ্কার করারও এখন পর্যন্ত কোনো প্রযুক্তি নেই। ফলে এ ধরনের জিনিসে পৃথিবীর চারদিকের কক্ষপথ ক্রমেই ভরে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় কক্ষপথের জায়গাও সংকুচিত হয়ে পড়বে।-বিবিসি