ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

ওসমান ফারুকের যুদ্ধাপরাধ তদন্তে ধর্মমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে মামলায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকেও ওসমান ফারুকের অপরাধ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন মামলা সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি থেকে ট্রাইব্যুনালের সংস্থা তদন্ত কাজ শুরু করে। এর আগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থায় অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি মামলার আইও এবং তদন্ত কাজে সহায়তার জন্য একজন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়া হয়। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অভিযোগের সম্পৃক্ততা মিলেছে বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম সানাউল হক  বলেন, ‘ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা ও মামলা পরিচালনা করার জন্য প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

তদন্তে ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে এবং অপরাধের সম্পৃক্ততা মিলছে।’

তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান  জানান, ড. ওসমান ফারুকের মামলা তদন্ত করার জন্য একজন তদন্তকারী এবং প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তার অপরাধের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু হয়েছে। আইওর সঙ্গে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সানাউল হক ময়মনসিংহ গিয়েছিলেন।

ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছিল ২০১৬ সালের ৪ মে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে একজন তদন্ত (আইও) কর্মকর্তা এবং একজন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার হেলাল উদ্দিনকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মামলার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছি। তদন্তের রেকর্ড ও নথিপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে।’

তদন্তে নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহ করার জন্য মার্চ মাসের শেষ দিকে ময়মনসিংহ শহরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে মুক্তিযোদ্ধাসহ মামলা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পয়েন্ট আকারে নোট নেয়া হয়। সেদিন তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সানাউল হক, মামলার আইও মো. হেলাল উদ্দিন ও অপর সদস্য মনোয়ারা বেগম ময়মনসিংহ ঘুরে আসেন বলে জানান হেলাল উদ্দিন।

তবে তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলা ও বিচারের স্বার্থে এসব এখনই প্রকাশ করা যাবে না।’

হেলাল উদ্দিন বলেন, ওসমান ফারুকের মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করতে গিয়ে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান স্যার, জেলার মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিতদের পরিবার ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ১২-১৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল ময়মনসিংহস্থ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আশেপাশের এলাকা ও বধ্যভূমি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৫ সালে ময়মনসিংহ ৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির এমপি এমএ হান্নানের বিরুদ্ধে একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে ওসমান ফারুকসহ ১১ জনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য খোঁজ পায়। অনুসন্ধান শেষে ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত সংস্থার কমপ্লেইন রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের মধ্যদিয়ে মামলার তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। তদন্ত কাজে সহায়তা করতে প্রসিকিউশন শাখার একজন কর্মকর্তা প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে গত ১৬ জানুয়ারি নিয়োগ দেয়া হয়।

সায়েদুল হক সুমন বলেন, ‘ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা তদন্তের জন্য আমাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শুরু করেছেন। আমার ময়মনসিংহ যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু যাওয়া হয়নি।’

২০১৬ সালের ৪ মে ধানমণ্ডিস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বলেছিলেন, ওসমান ফারুক স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন- এর পক্ষে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। এরপর ওসমান ফারুক পালিয়ে সিলেট সীমান্ত পথে দেশের বাইরে চলে যান। সেই থেকে তিনি লাপাত্তা (পলাতক)। মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ওই সময় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম. সানাউল হক জানিয়েছিলেন, পুরনো কাগজপত্রে দেখা যায়, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে ময়মনসিংহ) কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ওসমান ফারুকসহ ১১ জন শিক্ষক পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তা করেছিলেন এবং স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। সেখানে একটি টর্চার সেলও ছিল। ওই তালিকার সূত্র ধরে খোঁজ-খবর নেয়া হয়েছে। তাদের অধিকাংশই সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা কর্মকর্তা ছিলেন। ওসমান ফারুক সে সময় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার ইকোনমি অনুষদের লিডার ছিলেন।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য ওসমান গণির ছেলে ড. ওসমান ফারুক বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

ওসমান ফারুকের যুদ্ধাপরাধ তদন্তে ধর্মমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ

আপডেট টাইম : ০৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৭

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে মামলায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকেও ওসমান ফারুকের অপরাধ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন মামলা সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি থেকে ট্রাইব্যুনালের সংস্থা তদন্ত কাজ শুরু করে। এর আগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থায় অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি মামলার আইও এবং তদন্ত কাজে সহায়তার জন্য একজন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়া হয়। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অভিযোগের সম্পৃক্ততা মিলেছে বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম সানাউল হক  বলেন, ‘ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা ও মামলা পরিচালনা করার জন্য প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

তদন্তে ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে এবং অপরাধের সম্পৃক্ততা মিলছে।’

তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান  জানান, ড. ওসমান ফারুকের মামলা তদন্ত করার জন্য একজন তদন্তকারী এবং প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তার অপরাধের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু হয়েছে। আইওর সঙ্গে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সানাউল হক ময়মনসিংহ গিয়েছিলেন।

ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছিল ২০১৬ সালের ৪ মে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে একজন তদন্ত (আইও) কর্মকর্তা এবং একজন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার হেলাল উদ্দিনকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মামলার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছি। তদন্তের রেকর্ড ও নথিপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে।’

তদন্তে নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহ করার জন্য মার্চ মাসের শেষ দিকে ময়মনসিংহ শহরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে মুক্তিযোদ্ধাসহ মামলা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পয়েন্ট আকারে নোট নেয়া হয়। সেদিন তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সানাউল হক, মামলার আইও মো. হেলাল উদ্দিন ও অপর সদস্য মনোয়ারা বেগম ময়মনসিংহ ঘুরে আসেন বলে জানান হেলাল উদ্দিন।

তবে তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলা ও বিচারের স্বার্থে এসব এখনই প্রকাশ করা যাবে না।’

হেলাল উদ্দিন বলেন, ওসমান ফারুকের মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করতে গিয়ে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান স্যার, জেলার মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিতদের পরিবার ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ১২-১৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল ময়মনসিংহস্থ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আশেপাশের এলাকা ও বধ্যভূমি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৫ সালে ময়মনসিংহ ৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির এমপি এমএ হান্নানের বিরুদ্ধে একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে ওসমান ফারুকসহ ১১ জনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য খোঁজ পায়। অনুসন্ধান শেষে ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত সংস্থার কমপ্লেইন রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের মধ্যদিয়ে মামলার তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। তদন্ত কাজে সহায়তা করতে প্রসিকিউশন শাখার একজন কর্মকর্তা প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে গত ১৬ জানুয়ারি নিয়োগ দেয়া হয়।

সায়েদুল হক সুমন বলেন, ‘ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা তদন্তের জন্য আমাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শুরু করেছেন। আমার ময়মনসিংহ যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু যাওয়া হয়নি।’

২০১৬ সালের ৪ মে ধানমণ্ডিস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বলেছিলেন, ওসমান ফারুক স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন- এর পক্ষে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। এরপর ওসমান ফারুক পালিয়ে সিলেট সীমান্ত পথে দেশের বাইরে চলে যান। সেই থেকে তিনি লাপাত্তা (পলাতক)। মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ওই সময় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম. সানাউল হক জানিয়েছিলেন, পুরনো কাগজপত্রে দেখা যায়, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে ময়মনসিংহ) কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ওসমান ফারুকসহ ১১ জন শিক্ষক পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তা করেছিলেন এবং স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। সেখানে একটি টর্চার সেলও ছিল। ওই তালিকার সূত্র ধরে খোঁজ-খবর নেয়া হয়েছে। তাদের অধিকাংশই সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা কর্মকর্তা ছিলেন। ওসমান ফারুক সে সময় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার ইকোনমি অনুষদের লিডার ছিলেন।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য ওসমান গণির ছেলে ড. ওসমান ফারুক বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায়।