রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন শুরু করেছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। মঙ্গলবার দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে তারা নিজেদের দায়িত্বপালন শুরু করেন।
অন্যদিকে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার ব্যাপারে এখনও কোন তথ্য না থাকলেও প্রশাসনসহ সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি যে কোন সময় দেশে ফিরতে পারেন এমন তথ্য থাকায় হয়রত শাহজালাল আন্তজাতিক বিমানবন্দরেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তারেক রহমানের নিরাপত্তায় পূর্ব প্রস্তুতি রাখতে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে বলে ওই সূত্র জানিয়েছেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর থেকে ভিআইপি ব্যক্তির বিশেষ নিরাপত্তায় নিয়োজিত এসএসএফ সদস্যরা এভারকেয়ার হাসপাতালে এসে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
এর আগে ১ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) আইন, ২০২১’-এর ধারা ২(ক)-এর অধীনে এখন থেকে বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা এসএসএফের বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধার আওতায় থাকবেন। বিএনপি চেয়ারপারসন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে তিনি সেখানে সিসিইউতে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তার সুস্থতার জন্য দেশের সকল মানুষ দোয়া করছেন।
এভারকেয়ারের অনুরোধে ডিএমপির কড়া ব্যবস্থা: বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী। এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কমিশনারকে অনুরোধ জানায়, হাসপাতালের সামনে এবং প্রবেশগেটে যেন অযথা কেউ ভিড় না করতে পারে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় অযথা লোকজনের উপস্থিতি চিকিৎসা সেবা ব্যাহত করছে। শুধু তাই নয় গেটে বিশৃঙ্খলার কারণে অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনদের ঢুকতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুরোধের পর কমিশনার উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন হাসপাতালের সামনে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোরভাবে নিয়ম কার্যকর করতে। পরবর্তীতে সেই নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালের সামনের সড়কে রোড ডিভাইডার বসানো হয় এবং প্রবেশগেটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 























