প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেছেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ দপ্তরে প্রবেশের আগে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, মহিলা ও শিশু, সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয় ও স্বাস্থ্য এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন নিয়ে অনেক কর্মকর্তা আনন্দিত আবার অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আতঙ্কিত। তবে প্রধানমন্ত্রী সকল মন্ত্রনালয় পরির্দশন শেষে মন্ত্রণালয় গুলোর কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ইতোমধ্যে এক মাস পার করেছেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও দেশ পরিচালনার দায়িত্বে বিএনপি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি দলটি সরকার গঠন করে। এক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বিএনপি। নতুন সরকারের নেতৃত্ব, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার অন্যদিকে জনগণের বিপুল প্রত্যাশার চাপ নিয়ে যাত্রা করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছেন। গত ১৭ মার্চ। ঠিক এক মাস আগে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। মাত্র ২৮ দিনে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি মুহূর্তে তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার স্পষ্ট প্রতিফলন। পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সরকার সম্পর্কে মাত্র এক মাসের কার্যক্রমের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা সঠিক নয়। কিন্তু একটি সরকারের শুরুর কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সব সমস্যা নিজের কাধে তুলে দেশকে এগিয়ে নিতে চান প্রধানমন্ত্রী। সচিবালয়ে প্রবেশ করার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ দপ্তরে না গিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সোমবার আবো বেশ কয়টি মন্ত্রণালয়য়ে আকস্মিক বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন করতে পারেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আজ সোমবার কোন কোন মন্ত্রনালয় পরিদর্শন করনে তা নিশ্চিত করে কেই বলতে পারেনি। গতকাল রোববার সকাল ৯টার কিছুক্ষণ পর সচিবালয়ে এসে নিজ দপ্তরে না গিয়ে হেঁটে ৬ নম্বর ভবনে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু) এ তথ্য জানান। ভবনটির ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পানি সম্পদ, নারী ও শিশু বিষয়ক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর পাঁচ নম্বর ভবনের গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং তিন নম্বর ভবনের বাণিজ্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন তিনি। এভাবে সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবনে অবস্থিত অন্তত আটটি মন্ত্রণালয় আকস্মিক পরিদর্শন শেষে ফিরে আসেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। এদিকে, অন্যদিনের মতো আজও বেশ কয়েকটি নির্ধারিত কর্মসূচিতে কর্মব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে কৃষক কার্ড সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, অর্থ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্টরা সভায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা অত্যন্ত ইতিবাচক। জনগণের মধ্যে সরকারের ব্যাপারে আস্থা তৈরি হয়েছে। কিছু পদক্ষেপ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা সৃষ্টি করেছে যে এ সরকার ভালো কিছু করবে। অন্তত ভালো কাজের প্রতি সরকারের আগ্রহ আছে। জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এক মাসে। কিন্তু পাশাপাশি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইরান যুদ্ধ, অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতির কারণে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে বিএনপি সরকারকে। সামনে এ সরকারকে কঠিন সময় পার কতে হচ্ছে। প্রথম মাসেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় সরকার। বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ প্রত্যাহার করা, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড চালু, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ভাতা প্রদান, কৃষিঋণ মওকুফ, খাল খনন কর্মসূচি এবং গণপরিবহনে ভাড়া কমানোর মতো উদ্যোগগুলো ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টাও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সরল জীবনযাপন, প্রটোকল কমানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনার উদ্যোগও আলোচনায় এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী নিজে যখন সকাল ৯টায় সচিবালয়ে আসছেন তখন তা সব মন্ত্রী এবং আমলার জন্য একটি সুস্পষ্ট বার্তা। এতে সরকারি কাজে গতি এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য রাস্তা বন্ধ রাখা, বিশাল বহর নিয়ে চলাচলের দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙেছেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী যখন যানজটে আটকে থাকছেন, তখন সাধারণ মানুষ এই ভেবে আশ্বস্ত হচ্ছেন যে তিনি আমাদেরই লোক। মাত্র এক মাসের মধ্যেই তিনি জনগণের কাছের মানুষ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি একটি বড় অর্জন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাও রাজনৈতিক সৌহার্দের বার্তা দিয়েছে। সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে কিছু ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে দেখা গেছে, সেটা আশা জাগায়। যেমন সংসদ সদস্যরা বিনা শুল্কে গাড়ি ও প্লটের মতো অযাচিত সুবিধা নেবেন না। এটা জনগণের কাছে খুবই ভালো দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কয়েকজন মন্ত্রী ইনকিলাবকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে প্রবেশ করার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ দপ্তরে না গিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। বিএনপি সরকার গঠনের পরই প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির ঘোষণা দিয়েছিল। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করেছে প্রথম দিন থেকেই। এর মধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে তারা। এই সম্মিলিত পরিকল্পনাই শুরুর এক মাসে জনগণের কাছে একটা ভালো বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
তারা বলেন, সরকার গঠনের পর থেকে একটানা কাজ করছেন তারা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী এজেন্ডা বাস্তবায়নে একের পর এক কর্মসূচি পালন করছেন। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা প্রদান, ঈদে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ, সকল পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য ঈদ উপহার বিতরণ ছাড়াও সারাদেশে খাল খননের মতো কর্মযজ্ঞ শুরু করা হয়েছে। আগামী পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ডও বিতরণ শুরু হবে। এসব কর্মসূচি মাঠ পর্যায়ে তদারকি, বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রত্যেক মন্ত্রী-এমপিকে নিদেশনা দিয়েছেন। খাল খননের মতো বড় কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রত্যেক এলাকায় নিরন্তর কাজ করতে হচ্ছে তাদের। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এসব কাজের তদারকি করছেন করায় মাঠ পর্যায়ে। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি মুহূর্তে নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে নিরলসভাবে কাজ করছেন। এই পদক্ষেপগুলো শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার স্পষ্ট প্রতিফলন। এসব পদক্ষেপ সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের প্রতিটি অঙ্গনকে আলোকিত করেছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে উপসচিব মো. মনিরুজ্জামান ইনকিলাবকে বলেন,আসলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে আকস্মিক বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন প্রশাসনের জন্য ইতিবাচক ভুমিকা রাখবে। আনি জেই খুশি। কারণ প্রধানমন্ত্রীকে কাছে একনজর দেখতে পেয়েছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়েনিতে অনেক পরিশ্রম করছেন।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 























