টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি শেষ, শুক্রবার থেকে শুরু হবে প্রথম পর্ব

তুরাগ নদীর তীরে টঙ্গীতে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি পর্ব ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী শুক্রবার ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে ইজতেমার প্রথম পর্ব।

বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির সূরা সদস্য শাহ আলম বলেন, এবারই প্রথম সিদ্ধান্ত হলো, খিত্তাওয়ারী সব জেলা থেকে শামিয়ানা এনে নিজ দায়িত্বে টাঙাবে সংশ্লিষ্ট জেলার মুসল্লিরা। সিন্ধান্ত অনুযায়ী গত সোমবার রাত থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে তাবলীগ মুসল্লিরা ইজতেমায় এসে বাঁশের খুটির উপর ছটের শামিয়ানার নির্মাণকাজ করেছে। মঙ্গলবার রাতেই তাদের এ কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইজতেমার প্রথম পর্বের আনুসাঙ্গিক কাজের পাশাপাশি চলছে দেশ-বিদেশ থেকে মুসল্লিদের ইজতেমায় আসার প্রস্তুতি। ইজতেমায় নিরাপত্তার নিশ্চিতের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এবার ছয় দিনের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে মাওলানা জোবায়েরপন্থি মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন। চার দিন বিরতির পর ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা শুরু হবে। এ পর্বে অংশগ্রহণ করবেন সাদপন্থি মুসল্লিগণ।

গত রোববার ইজতেমায় তাবলিগ জামাত সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল করতে জোবায়েরপন্থি এবং সাদপন্থি দলের মুরুব্বিদের নিয়ে ইজতেমা মাঠে সর্বশেষ সমন্বয় সভা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সভায় দুই গ্রুপই স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেছে যে, তারা কোনো বিশৃঙ্খলা বা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হবেন না।

গোডাউন জামাতের জিম্মাদার মাওলানা শিহাব উদ্দিন বলেন, বিশ্ব ইজতেমা আয়োজকদের পক্ষ থেকে মোট ১০টি বিভাগ করা হয়েছে। ১০টি বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করবে নজমওয়ালী জামাত। প্রতিটি জামাতে শতাধিক লোক থাকবে। আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তারা কাজ করবে। আগামী বৃহস্পতিবার বাদ ফজর পুরো প্যান্ডেলে আলাদা আলাদা খিত্তায় বয়ান হবে।

এদিকে বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ করতে ইতিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সিটি
করপোরেশন, পুলিশ, র‍্যাব ও ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তর তাদের নিজ নিজ সেল গঠন করেছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ট্রেন সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছে। মুসল্লিদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের ছয়টি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও ইবনে সিনা, হামর্দদসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ইজতেমা মাঠের পাশে ক্যাম্প স্থাপন করে মুসল্লিদের চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করবেন। ইজতেমার আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে তুরাগ নদীতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ৫টি ভাসমান পল্টুন নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুব আলম বলেছেন, বিশ্ব ইজতেমার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করা হচ্ছে। আশা করছি, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে ইজতেমা সমাপ্ত করতে পারব।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর