ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

১১ বছর নিজ ঘরে প্রেমিকাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ ১১ বছর ধরে রীতিমত সংসার করছিলেন আইলুর রহমান (৩৪) আর সাজিতা (২৮)। কিন্তু একই বাড়িতে বসবাস করলেও অন্য বাসিন্দারা ঘুণাক্ষণেও টের পাননি আইলুর-সাজিতার সংসার জীবনের কথা। কারণ সাজিতাকে নিজের ঘরে লুকিয়ে রেখেছিলেন আইলুর।

ভারতের কেরালায় পালাক্কাড় শহরের কাছে একটি গ্রামের যুগান্তকারী এ প্রেম কাহিনীর সূত্রপাত বলে দ্য হিন্দু বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,মা-বাবা, ভাইবোনের সঙ্গে যে বাড়িতে থাকতেন আলিয়ুর, সে বাড়িতেই নিজের ঘরে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা প্রেমিকা সাজিতাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি।
ঘরটি সব সময় বন্ধ থাকতো। আইলুর ঘরে থাকলে ভেতর থেকে, আর বাইরে গেলে তালা দিয়ে দরজা বন্ধ রাখতেন।

এভাবে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় স্বেচ্ছায় সেখানে থেকেছেন সাজিতা। হাতমুখ ধুতে রাতের বেলা সবার অলক্ষ্যে এক বার ঘর থেকে তিনি বের হতেন, আবার ঢুকেও যেতেন।

নিনমারা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইলুর আর সাজিতার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একে অপরকে ভালোবেসে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তারা। কিন্তু সবাইকে জানিয়ে বিয়ে করতে গেলে পরিবারের বাধার মুখে পড়বেন কাউকে না জানিয়েই একসাথে থাকতে শুরু করেন তারা।

২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মা-বাবার ঘর ছাড়েন সাজিতা। পালিয়ে আশ্রয় নেন আইলুরের ঘরে। আইলুরের মা-বাবাও টের পাননি কিছু।

সে সময় থানায় মেয়ে নিখোঁজ বলে সাজিতার মা-বাবা ডায়েরি করলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল আইলুরকে। কিন্তু আইলুর কিছু স্বীকার করেননি। পুলিশের অনুসন্ধানেও কিছু বের হয়নি। দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় মেয়েকে ভুলতেই বসেছিলেন সাজিতার মা-বাবা।

এভাবেই বদ্ধ ঘরে প্রায় এক যুগ পার হয়ে যায় সাজিতার। ওই ঘরেই তাকে খাবার এনে দিতেন আইলুর। এভাবে সবার অগোচরে তাদের সংসার জীবন কাটছিল।
তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় তিন মাস আগে।

চলতি বছরের ৩ মার্চ আইলুর নিখোঁজ বলে তার মা-বাবা থানায় ডায়েরি করেন। তিন মাসেও তারা সন্ধান পাননি ছেলের।

মঙ্গলবার আইলুরকে রাস্তায় তার ভাই দেখে ফেললে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তখনই চাঞ্চল্যকর মোড় নেয় পুরো ঘটনা।

দুই ভাইয়ের ঝগড়ার সময় হস্তক্ষেপ করে কাছেই টহলরত পুলিশ। ঘটনার বর্ণনা শুনে আইলুরকে থানায় নেওয়া হয়। ডেকে পাঠানো হয় সাজিতাকেও।

জানা যায়, প্রেমিকাকে ১১ বছর এক ঘরে লুকিয়ে রাখতে রাখতে হতাশ আইলুর স্বস্তিতে বাঁচতেই তিন মাস আগে কাউকে কিছু না জানিয়ে ঘর ছাড়েন। সঙ্গে নিয়েছিলেন সাজিতাকে।

সবার অলক্ষ্যে যখন সংসার সাজিয়ে বসেছেন, তখনই ভাই দেখে ফেলায় বাঁধে বিপত্তি।
আদালতে দাঁড়িয়ে এই যুগল জানান, বর্তমানে ভিথুনাসারি এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন তারা।

একে অপরকে ভালোবেসে স্বেচ্ছায় এক সঙ্গে থাকছেন বলে আদালতকে জানানোর পর বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হয়েছে তাদের।

নিনমারা থানার উপ-পরিদর্শক কে নুফাল বলেন,আইলুর-সাজিতার এ ঘটনা তাদের মা-বাবা বিশ্বাসই করতে পারছেন না। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে আমরা তাদের বাড়িতে গিয়েছি, তল্লাশি চালিয়েছি, আলাদা করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। দুজনই একই গল্প বলেছে।

আইলুর জানিয়েছেন যে তিন মাস পর তিনি এই বাড়ি থেকে চলে যাবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু টাকার অভাবে তা ঘটেনি।

ইচ্ছে করে নিখোঁজ হওয়ার আগে মা-বাবার কাছে পুরো বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পাগলের মতো আচরণ করতে আইলুর। মা-বাবাকে বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে তার কিছু ভালো লাগে না, তিনি হতাশ।

তিনি পছন্দ করতেন না বলে বাড়ির কেউ তার ঘরের আশপাশে যেতো না। পরিবার হওয়ায় আইলুরের মা-বাবাসহ সব সদস্যই প্রতিদিন কাজের জন্য বের হতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কিন্তু আইলুর নিজে নিয়মিত কাজ করতেন না। রংমিস্ত্রী বা বিদ্যুৎমিস্ত্রী হিসেবে কাজ পেলে মাঝে মাঝে বের হতেন তিনি। বাকি সময় নিজের ঘরেই থাকতেন।
আর সাজিতার মা-বাবা ধরেই নিয়েছিলেন যে তাদের মেয়ে মারা গেছেন।

এদিকে এই যুগলের খোঁজ পাওয়ার পর দুটি নিখোঁজ মামলারই সমাপ্তি ঘোষণা করেছে পুলিশ। বর্তমানে স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছেন তারা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

১১ বছর নিজ ঘরে প্রেমিকাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি

আপডেট টাইম : ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ ১১ বছর ধরে রীতিমত সংসার করছিলেন আইলুর রহমান (৩৪) আর সাজিতা (২৮)। কিন্তু একই বাড়িতে বসবাস করলেও অন্য বাসিন্দারা ঘুণাক্ষণেও টের পাননি আইলুর-সাজিতার সংসার জীবনের কথা। কারণ সাজিতাকে নিজের ঘরে লুকিয়ে রেখেছিলেন আইলুর।

ভারতের কেরালায় পালাক্কাড় শহরের কাছে একটি গ্রামের যুগান্তকারী এ প্রেম কাহিনীর সূত্রপাত বলে দ্য হিন্দু বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,মা-বাবা, ভাইবোনের সঙ্গে যে বাড়িতে থাকতেন আলিয়ুর, সে বাড়িতেই নিজের ঘরে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা প্রেমিকা সাজিতাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি।
ঘরটি সব সময় বন্ধ থাকতো। আইলুর ঘরে থাকলে ভেতর থেকে, আর বাইরে গেলে তালা দিয়ে দরজা বন্ধ রাখতেন।

এভাবে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় স্বেচ্ছায় সেখানে থেকেছেন সাজিতা। হাতমুখ ধুতে রাতের বেলা সবার অলক্ষ্যে এক বার ঘর থেকে তিনি বের হতেন, আবার ঢুকেও যেতেন।

নিনমারা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইলুর আর সাজিতার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একে অপরকে ভালোবেসে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তারা। কিন্তু সবাইকে জানিয়ে বিয়ে করতে গেলে পরিবারের বাধার মুখে পড়বেন কাউকে না জানিয়েই একসাথে থাকতে শুরু করেন তারা।

২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মা-বাবার ঘর ছাড়েন সাজিতা। পালিয়ে আশ্রয় নেন আইলুরের ঘরে। আইলুরের মা-বাবাও টের পাননি কিছু।

সে সময় থানায় মেয়ে নিখোঁজ বলে সাজিতার মা-বাবা ডায়েরি করলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল আইলুরকে। কিন্তু আইলুর কিছু স্বীকার করেননি। পুলিশের অনুসন্ধানেও কিছু বের হয়নি। দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় মেয়েকে ভুলতেই বসেছিলেন সাজিতার মা-বাবা।

এভাবেই বদ্ধ ঘরে প্রায় এক যুগ পার হয়ে যায় সাজিতার। ওই ঘরেই তাকে খাবার এনে দিতেন আইলুর। এভাবে সবার অগোচরে তাদের সংসার জীবন কাটছিল।
তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় তিন মাস আগে।

চলতি বছরের ৩ মার্চ আইলুর নিখোঁজ বলে তার মা-বাবা থানায় ডায়েরি করেন। তিন মাসেও তারা সন্ধান পাননি ছেলের।

মঙ্গলবার আইলুরকে রাস্তায় তার ভাই দেখে ফেললে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তখনই চাঞ্চল্যকর মোড় নেয় পুরো ঘটনা।

দুই ভাইয়ের ঝগড়ার সময় হস্তক্ষেপ করে কাছেই টহলরত পুলিশ। ঘটনার বর্ণনা শুনে আইলুরকে থানায় নেওয়া হয়। ডেকে পাঠানো হয় সাজিতাকেও।

জানা যায়, প্রেমিকাকে ১১ বছর এক ঘরে লুকিয়ে রাখতে রাখতে হতাশ আইলুর স্বস্তিতে বাঁচতেই তিন মাস আগে কাউকে কিছু না জানিয়ে ঘর ছাড়েন। সঙ্গে নিয়েছিলেন সাজিতাকে।

সবার অলক্ষ্যে যখন সংসার সাজিয়ে বসেছেন, তখনই ভাই দেখে ফেলায় বাঁধে বিপত্তি।
আদালতে দাঁড়িয়ে এই যুগল জানান, বর্তমানে ভিথুনাসারি এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন তারা।

একে অপরকে ভালোবেসে স্বেচ্ছায় এক সঙ্গে থাকছেন বলে আদালতকে জানানোর পর বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হয়েছে তাদের।

নিনমারা থানার উপ-পরিদর্শক কে নুফাল বলেন,আইলুর-সাজিতার এ ঘটনা তাদের মা-বাবা বিশ্বাসই করতে পারছেন না। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে আমরা তাদের বাড়িতে গিয়েছি, তল্লাশি চালিয়েছি, আলাদা করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। দুজনই একই গল্প বলেছে।

আইলুর জানিয়েছেন যে তিন মাস পর তিনি এই বাড়ি থেকে চলে যাবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু টাকার অভাবে তা ঘটেনি।

ইচ্ছে করে নিখোঁজ হওয়ার আগে মা-বাবার কাছে পুরো বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পাগলের মতো আচরণ করতে আইলুর। মা-বাবাকে বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে তার কিছু ভালো লাগে না, তিনি হতাশ।

তিনি পছন্দ করতেন না বলে বাড়ির কেউ তার ঘরের আশপাশে যেতো না। পরিবার হওয়ায় আইলুরের মা-বাবাসহ সব সদস্যই প্রতিদিন কাজের জন্য বের হতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কিন্তু আইলুর নিজে নিয়মিত কাজ করতেন না। রংমিস্ত্রী বা বিদ্যুৎমিস্ত্রী হিসেবে কাজ পেলে মাঝে মাঝে বের হতেন তিনি। বাকি সময় নিজের ঘরেই থাকতেন।
আর সাজিতার মা-বাবা ধরেই নিয়েছিলেন যে তাদের মেয়ে মারা গেছেন।

এদিকে এই যুগলের খোঁজ পাওয়ার পর দুটি নিখোঁজ মামলারই সমাপ্তি ঘোষণা করেছে পুলিশ। বর্তমানে স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছেন তারা।