ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

২২ জুন ১৯৭১: ৪৮ ঘন্টার মধ্যে স্লোগান, দেয়াল লিখন, নির্বাচনী প্রতীক মুছে ফেলার নির্দেশ কর্তৃপক্ষের

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ পরিষদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে ভাষণদানকালে বলেন, আমাদের আজ বড় লক্ষ্য হবে মাতৃভূমিকে সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত করে আমাদের ৬০ লাখ মানুষকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনা। দলমত নির্বিশেষে আজ বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের প্রতিটি মানুষ বাংলার স্বাধীনতাকামী মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তারা বুকে তুলে নিয়েছেন ৬০ লাখ ছিন্নমূল মানুষকে। বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষ এই বন্ধুত্বের কথা চিরদিন মনে রাখবেন। চিরকাল আমরা বন্ধুত্বের হস্ত প্রসারিত রাখবো।

কুমিল্লার মুক্তিযোদ্ধারা এদিন ভোরে গোপন পথে পাকবাহিনীর রাজাপুর ঘাঁটি অভ্যন্তরে প্রবেশ করে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এ অভিযানে একজন মুক্তিযোদ্ধা আহত হয়। অপরদিকে ১৫ জন পাকসেনা হতাহত হয়। খুলনার বৈকরি ও যশোরের বেনাপোলে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর সীমান্ত ঘাঁটির ওপর আক্রমণ চালায়।

বগুড়ার মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর পাঁচবিবি ঘাঁটির ওপর তুমুল আক্রমণ চালায়। এতে পাকবাহিনী প্রচুর ক্ষতি স্বীকার করে। এদিন কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানার মহিষকুন্ডি অঞ্চলে এক কোম্পানী পাকসৈন্যের ওপর আক্রমণ চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা অন্তত ২০ জন পাকসৈন্যকে হত্যা ও বেশ কয়েকজনকে আহত করে।

পাকিস্তান মুসলিম লীগের সভাপতি খান আবদুল কাইয়ুম খান শক্তিশালী কেন্দ্রের গ্যারান্টি দিয়ে প্রেসিডেন্ট কর্তৃক একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়ন ও শেখ মুজিবুর রহমানের ৬-দফা সমর্থনকারী অথবা বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবাপন্ন সমস্ত দল বা গ্রুপের প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানান। পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্দলীয় সদস্য এস বি জামান ঢাকায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিদ্রোহ দমনে পাক সেনাবাহিনীর ভুয়সী প্রশংসা করে এ জন্য আরো শান্তি কমিটি ও ভিজিলেন্স কমিটি গঠন করার সুপারিশ করেন।

ঢাকায় পাকিস্তানী সামরিক প্রশাসক ৪৮ ঘন্টার মধ্যে স্লোগান, দেয়াল লিখন, নির্বাচনী প্রতীক মুছে ফেলার নির্দেশ দেয়। না হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়। নেজামে ইসলাম প্রধান মওলানা এ কে শামসুল হক সামরিক বাহিনীর নৃশংসতা আরো দীর্ঘায়িত করার সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে। ক্ষমতা হস্তান্তর হলে আবার বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হবে।”

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

২২ জুন ১৯৭১: ৪৮ ঘন্টার মধ্যে স্লোগান, দেয়াল লিখন, নির্বাচনী প্রতীক মুছে ফেলার নির্দেশ কর্তৃপক্ষের

আপডেট টাইম : ০৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ পরিষদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে ভাষণদানকালে বলেন, আমাদের আজ বড় লক্ষ্য হবে মাতৃভূমিকে সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত করে আমাদের ৬০ লাখ মানুষকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনা। দলমত নির্বিশেষে আজ বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের প্রতিটি মানুষ বাংলার স্বাধীনতাকামী মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তারা বুকে তুলে নিয়েছেন ৬০ লাখ ছিন্নমূল মানুষকে। বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষ এই বন্ধুত্বের কথা চিরদিন মনে রাখবেন। চিরকাল আমরা বন্ধুত্বের হস্ত প্রসারিত রাখবো।

কুমিল্লার মুক্তিযোদ্ধারা এদিন ভোরে গোপন পথে পাকবাহিনীর রাজাপুর ঘাঁটি অভ্যন্তরে প্রবেশ করে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এ অভিযানে একজন মুক্তিযোদ্ধা আহত হয়। অপরদিকে ১৫ জন পাকসেনা হতাহত হয়। খুলনার বৈকরি ও যশোরের বেনাপোলে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর সীমান্ত ঘাঁটির ওপর আক্রমণ চালায়।

বগুড়ার মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর পাঁচবিবি ঘাঁটির ওপর তুমুল আক্রমণ চালায়। এতে পাকবাহিনী প্রচুর ক্ষতি স্বীকার করে। এদিন কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানার মহিষকুন্ডি অঞ্চলে এক কোম্পানী পাকসৈন্যের ওপর আক্রমণ চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা অন্তত ২০ জন পাকসৈন্যকে হত্যা ও বেশ কয়েকজনকে আহত করে।

পাকিস্তান মুসলিম লীগের সভাপতি খান আবদুল কাইয়ুম খান শক্তিশালী কেন্দ্রের গ্যারান্টি দিয়ে প্রেসিডেন্ট কর্তৃক একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়ন ও শেখ মুজিবুর রহমানের ৬-দফা সমর্থনকারী অথবা বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবাপন্ন সমস্ত দল বা গ্রুপের প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানান। পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্দলীয় সদস্য এস বি জামান ঢাকায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিদ্রোহ দমনে পাক সেনাবাহিনীর ভুয়সী প্রশংসা করে এ জন্য আরো শান্তি কমিটি ও ভিজিলেন্স কমিটি গঠন করার সুপারিশ করেন।

ঢাকায় পাকিস্তানী সামরিক প্রশাসক ৪৮ ঘন্টার মধ্যে স্লোগান, দেয়াল লিখন, নির্বাচনী প্রতীক মুছে ফেলার নির্দেশ দেয়। না হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়। নেজামে ইসলাম প্রধান মওলানা এ কে শামসুল হক সামরিক বাহিনীর নৃশংসতা আরো দীর্ঘায়িত করার সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে। ক্ষমতা হস্তান্তর হলে আবার বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হবে।”