ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

ক্যানসার রোগীর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে

দেখতে দেখতে রমজান অতিবাহিত হয়ে গেল। রোজা ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে একটি, যা আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের অন্যতম মাধ্যম । মুমিন ব্যক্তি শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্টই সহ্য করেন না বরং আত্মিক উন্নতি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে এগিয়ে যান রোজার মাধ্যমে। রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো, তাকওয়া অর্জন। সার্বিকভাবে রোজার মাধ্যমে মানুষ তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং আত্মিক শক্তি অর্জন করেন। তাই প্রায়ই ক্যানসার রোগীদের জিজ্ঞাসা, আমি রোজা রাখতে পারব কিনা? আসলে নির্ভর করে রোগীর শারীরিক অবস্থা, রোগের পরিস্থিতি (স্টেজ), অন্যান্য ক্রনিক রোগ বা স্বাস্থ্য সমস্যার উপস্থিতির ওপর।

ক্যানসার রোগীদের যদি রোগের উপসর্গ নিয়ে হঠাৎ লিভার বা কিডনির কার্যক্ষমতা অত্যধিক মাত্রায় কমে যায়, তা হলে তারা রোজা রাখাতে পারবেন না। আবার ক্যানসার রোগের জটিল উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন, তাদের বেলায়ও তা-ই। যদি কারও জন্ডিস, পা কিংবা পেটে পানি আসা, রক্তবমি কিংবা মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ইতিহাস আছে, তাদের জন্য রোজা রাখা ক্ষতিকর হতে পারে। অনেক সময় লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তির যদি লিভার ফাংশন মোটামুটি ভালো এবং সোরাফিনিব-জাতীয় ওষুধ খাচ্ছেনÑ এমন রোগীরাও রোজা রাখতে পারবেন।

খাবারের পরামর্শ : আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার খেতে হবে। ইফতারের সময় প্রচুর পানি ও তরল খাবার, কম চর্বিযুক্ত এবং রসালো খাবার, ফলমূল খাওয়া উচিত। কম তেলে ভাজা দুই-একটি পিঁয়াজু, বেগুনি খেতে পারেন, মাঝারি মাপের জিলাপি ও ছোট বাটির হালিম খেতে পারবেন। আর ইফতারের সময় একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খেলে হজম ভালো হবে। পানি, দুধ, শরবত, ঘরে বানানো ফলের রস সঙ্গে অল্প পরিমাণ চিনি খেতে পারেন, দুই-একটি খেজুর খেতে পারেন।

তবে ডায়াবেটিস থাকলে মিষ্টিজাতীয় খাবার বেশি খাবেন নাহ । ভেজিটেবল, চিকেন কর্ন স্যুপ খেতে পারেন। রাতের খাবার হালকা হতে হবেÑ এই সময় পরিমাণমতো খেতে পারেন। সাহরিতে ভাত অথবা রুটির সঙ্গে মুরগি, মাছ, সবজি পরিমিত ভাত, রুটি, সবজি, মাছ, মুরগি খেতে পারেন। কম চর্বিযুক্ত দুধ এবং সঙ্গে কলা খেতে পারেন, অতিরিক্ত তৈলাক্ত এবং ঝাল খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন।

রমজানে ব্যায়াম : শারীরিকভাবে সক্ষম ক্যানসারের রোগীরাও ইফতারের এক ঘণ্টা পর হালকা ব্যায়াম কিংবা কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। রমজান ছাড়াও ক্যানসার রোগীর স্বাস্থ্য বিধিমালা জেনে নিতে হবে তার নিজস্ব চিকিৎসক এর পরামর্শে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন

ক্যানসার রোগীর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে

আপডেট টাইম : ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫

দেখতে দেখতে রমজান অতিবাহিত হয়ে গেল। রোজা ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে একটি, যা আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের অন্যতম মাধ্যম । মুমিন ব্যক্তি শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্টই সহ্য করেন না বরং আত্মিক উন্নতি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে এগিয়ে যান রোজার মাধ্যমে। রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো, তাকওয়া অর্জন। সার্বিকভাবে রোজার মাধ্যমে মানুষ তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং আত্মিক শক্তি অর্জন করেন। তাই প্রায়ই ক্যানসার রোগীদের জিজ্ঞাসা, আমি রোজা রাখতে পারব কিনা? আসলে নির্ভর করে রোগীর শারীরিক অবস্থা, রোগের পরিস্থিতি (স্টেজ), অন্যান্য ক্রনিক রোগ বা স্বাস্থ্য সমস্যার উপস্থিতির ওপর।

ক্যানসার রোগীদের যদি রোগের উপসর্গ নিয়ে হঠাৎ লিভার বা কিডনির কার্যক্ষমতা অত্যধিক মাত্রায় কমে যায়, তা হলে তারা রোজা রাখাতে পারবেন না। আবার ক্যানসার রোগের জটিল উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন, তাদের বেলায়ও তা-ই। যদি কারও জন্ডিস, পা কিংবা পেটে পানি আসা, রক্তবমি কিংবা মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ইতিহাস আছে, তাদের জন্য রোজা রাখা ক্ষতিকর হতে পারে। অনেক সময় লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তির যদি লিভার ফাংশন মোটামুটি ভালো এবং সোরাফিনিব-জাতীয় ওষুধ খাচ্ছেনÑ এমন রোগীরাও রোজা রাখতে পারবেন।

খাবারের পরামর্শ : আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার খেতে হবে। ইফতারের সময় প্রচুর পানি ও তরল খাবার, কম চর্বিযুক্ত এবং রসালো খাবার, ফলমূল খাওয়া উচিত। কম তেলে ভাজা দুই-একটি পিঁয়াজু, বেগুনি খেতে পারেন, মাঝারি মাপের জিলাপি ও ছোট বাটির হালিম খেতে পারবেন। আর ইফতারের সময় একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খেলে হজম ভালো হবে। পানি, দুধ, শরবত, ঘরে বানানো ফলের রস সঙ্গে অল্প পরিমাণ চিনি খেতে পারেন, দুই-একটি খেজুর খেতে পারেন।

তবে ডায়াবেটিস থাকলে মিষ্টিজাতীয় খাবার বেশি খাবেন নাহ । ভেজিটেবল, চিকেন কর্ন স্যুপ খেতে পারেন। রাতের খাবার হালকা হতে হবেÑ এই সময় পরিমাণমতো খেতে পারেন। সাহরিতে ভাত অথবা রুটির সঙ্গে মুরগি, মাছ, সবজি পরিমিত ভাত, রুটি, সবজি, মাছ, মুরগি খেতে পারেন। কম চর্বিযুক্ত দুধ এবং সঙ্গে কলা খেতে পারেন, অতিরিক্ত তৈলাক্ত এবং ঝাল খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন।

রমজানে ব্যায়াম : শারীরিকভাবে সক্ষম ক্যানসারের রোগীরাও ইফতারের এক ঘণ্টা পর হালকা ব্যায়াম কিংবা কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। রমজান ছাড়াও ক্যানসার রোগীর স্বাস্থ্য বিধিমালা জেনে নিতে হবে তার নিজস্ব চিকিৎসক এর পরামর্শে।