ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

হাদিসের কথা নামাজে অবহেলায় আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ ঘটে

আবু ক্বাতাদাহ্ (রা.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

‏”‏ قَالَ اللهُ تَعَالَى إِنِّي فَرَضْتُ عَلَى أُمَّتِكَ خَمْسَ صَلَوَاتٍ وَعَهِدْتُ عِنْدِي عَهْدًا أَنَّهُ مَنْ جَاءَ يُحَافِظُ عَلَيْهِنَّ لِوَقْتِهِنَّ أَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهِنَّ فَلَا عَهْدَ لَهُ عِنْدِي ‏”‏ ‏.

‘মহান আল্লাহ বলেন, আমি তোমার উম্মাতের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছি। আর আমি আমার পক্ষ হতে এ মর্মে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, যে ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ে এসব সালাতের হিফাজত করবে তাকে আমি জান্নাতে প্রবেশ করাব। আর যে ব্যক্তি এর হিফাজত করবে না তার জন্য আমার পক্ষ হতে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

নামাজ শুধু শরীরের কিছু অঙ্গভঙ্গি বা ঠোঁটের নড়াচড়া নয়; বরং এটি হলো আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন, বান্দার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার একটি দৈনিক কর্মসূচি, যা জীবনকে সুশৃঙ্খল করে, হৃদয়কে আলোকিত করে এবং সমাজকে শান্তি ও শৃঙ্খলার আবরণে ঢেকে রাখে। উপর্যুক্ত হাদিসটি আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক একটি কঠিনতর ঘোষণা। যেখানে তিনটি বিষয় পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে-

১. সঠিক সময়ে নামাজের হেফাজত করতে বলা হয়েছে।

২. যারা সঠিক সময়ে নামাজের হেফাজত করবে তাদের জন্য জান্নাতের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

৩. যারা সঠিক সময়ে নামাজের হেফাজত করবে না তাদেরকে আল্লাহ নিজ জিম্মা থেকে বের করে দিবেন।

সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করার অর্থ হলো প্রতিটি নামাজের জন্য শরীয়ত প্রদত্ত সময়ের মধ্যে আদায় করা। আর নামাজ হেফাজত করার অর্থ হলো  সময়মতো আদায় করা, রুকন, শর্ত ও ওয়াজিবগুলো ঠিকভাবে পালন করা,  খুশু-খুজু (মনোযোগ ও বিনয়) বজায় রাখা, অলসতা বা অবহেলা না করা, এক ওয়াক্তও বিনা ওজরে বাদ না দেওয়া।

এ হাদিস আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি ঘোষণা করছে যে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুসলিম জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এটি শুধু ফরয নয়, বরং জান্নাতের নিশ্চিত মাধ্যম।  শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়াই যথেষ্ট নয়; নির্দিষ্ট সময়ে, সঠিক নিয়মে, মনোযোগসহ পড়া জরুরি। অলসতা, দেরি করা, বা অবহেলা করলে হেফাজত হবে না। যে ব্যক্তি আজীবন নামাজের হেফাজত করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য জান্নাত নিশ্চিত। যে হেফাজত করবে না, সে আল্লাহর নিশ্চয়তা থেকে বঞ্চিত হবে।
অর্থাৎ কিয়ামতে তার অবস্থা আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। 

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

হাদিসের কথা নামাজে অবহেলায় আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ ঘটে

আপডেট টাইম : ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
আবু ক্বাতাদাহ্ (রা.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

‏”‏ قَالَ اللهُ تَعَالَى إِنِّي فَرَضْتُ عَلَى أُمَّتِكَ خَمْسَ صَلَوَاتٍ وَعَهِدْتُ عِنْدِي عَهْدًا أَنَّهُ مَنْ جَاءَ يُحَافِظُ عَلَيْهِنَّ لِوَقْتِهِنَّ أَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهِنَّ فَلَا عَهْدَ لَهُ عِنْدِي ‏”‏ ‏.

‘মহান আল্লাহ বলেন, আমি তোমার উম্মাতের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছি। আর আমি আমার পক্ষ হতে এ মর্মে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, যে ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ে এসব সালাতের হিফাজত করবে তাকে আমি জান্নাতে প্রবেশ করাব। আর যে ব্যক্তি এর হিফাজত করবে না তার জন্য আমার পক্ষ হতে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

নামাজ শুধু শরীরের কিছু অঙ্গভঙ্গি বা ঠোঁটের নড়াচড়া নয়; বরং এটি হলো আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন, বান্দার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার একটি দৈনিক কর্মসূচি, যা জীবনকে সুশৃঙ্খল করে, হৃদয়কে আলোকিত করে এবং সমাজকে শান্তি ও শৃঙ্খলার আবরণে ঢেকে রাখে। উপর্যুক্ত হাদিসটি আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক একটি কঠিনতর ঘোষণা। যেখানে তিনটি বিষয় পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে-

১. সঠিক সময়ে নামাজের হেফাজত করতে বলা হয়েছে।

২. যারা সঠিক সময়ে নামাজের হেফাজত করবে তাদের জন্য জান্নাতের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

৩. যারা সঠিক সময়ে নামাজের হেফাজত করবে না তাদেরকে আল্লাহ নিজ জিম্মা থেকে বের করে দিবেন।

সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করার অর্থ হলো প্রতিটি নামাজের জন্য শরীয়ত প্রদত্ত সময়ের মধ্যে আদায় করা। আর নামাজ হেফাজত করার অর্থ হলো  সময়মতো আদায় করা, রুকন, শর্ত ও ওয়াজিবগুলো ঠিকভাবে পালন করা,  খুশু-খুজু (মনোযোগ ও বিনয়) বজায় রাখা, অলসতা বা অবহেলা না করা, এক ওয়াক্তও বিনা ওজরে বাদ না দেওয়া।

এ হাদিস আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি ঘোষণা করছে যে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুসলিম জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এটি শুধু ফরয নয়, বরং জান্নাতের নিশ্চিত মাধ্যম।  শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়াই যথেষ্ট নয়; নির্দিষ্ট সময়ে, সঠিক নিয়মে, মনোযোগসহ পড়া জরুরি। অলসতা, দেরি করা, বা অবহেলা করলে হেফাজত হবে না। যে ব্যক্তি আজীবন নামাজের হেফাজত করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য জান্নাত নিশ্চিত। যে হেফাজত করবে না, সে আল্লাহর নিশ্চয়তা থেকে বঞ্চিত হবে।
অর্থাৎ কিয়ামতে তার অবস্থা আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।