ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে পাথর লুট: জড়িতদের তালিকায় বিএনপি-এনসিপি-জামায়াত নেতাদের নাম

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর পর্যটন এলাকার পাথর লুটের ঘটনা সাড়া ফেলেছে দেশের সব মহলে। এবার জড়িতদের তালিকা প্রকাশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সেখানে বলা হয়, স্থানীয় প্রশাসনের সাথে অসাধু যোগসাজশে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকার পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধনের অভিযোগে গত ১৩ আগস্ট সিলেটের সাদাপাথর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দুদক। অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পাথর আত্মসাতের প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ও সুবিধাভোগী সংস্থা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে, খনিজ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- আজিজুন্নাহার, মোহাম্মদ আবুল হাছনাত, উর্মি রায়, আবিদা সুলতানা। এ ছাড়াও রয়েছে পুলিশ সুপার, অফিসার ইনচার্জ, বিজিবি ও ব্যবসায়ীসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

তালিকায় ৪২ জন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়। তাদের মধ্যে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা হলেন- সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমমাদ হোসেন চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য হাজি কামাল (পাথর ব্যবসায়ী), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া (পাথর ব্যবসায়ী), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে দুদু (পাথর ব্যবসায়ী), সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক রুবেল আহমেদ বাহার (পাথর ব্যবসায়ী), সিলেট জেলা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক  মুসতাকিন আহমদ ফরহাদ (পাথর ব্যবসায়ী), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক মো. দুলাল মিয়া ওরফে দুলা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রজন মিয়া, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদল নেতা জসিম উদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদল নেতা সাজন মিয়া, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি কর্মী জাকির হোসেন কর্মী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য মোজাফর আলী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য মানিক মিয়া, সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ, সিলেট জেলা বিএনপির জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে শাহপরান, সিলেট জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ (বর্তমানে বহিষ্কৃত) শাহ আলম ওরফে স্বপন, সিলেট জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম ও গোয়াইনঘাটের পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ বক্স।

জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িতরা হলেন, সিলেট মহানগর জামায়াত আমীর মো. ফকরুল ইসলাম, সিলেট মহানগর জামায়াত সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন।

তালিকায় রয়েছেন জাতীয় রাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারাও। তারা হলেন- সিলেট জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নাজিম উদ্দিন ও সিলেট মহানগর এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাদেক মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী।

এই তালিকায় রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও। তারা হলেন- সিলেট আওয়ামী লীগের কর্মী বিলাল মিয়া (পাথর ব্যবসায়ী) আওয়ামী লীগেকর্মী শাহাবুদ্দিন (পাথর ব্যবসায়ী), আওয়ামী লীগকর্মী গিয়াস উদ্দিন (পাথর ব্যবসায়ী), আওয়ামী লীগকর্মী মনির মিয়া, আওয়ামী লীগকর্মী হাবিল মিয়া,আওয়ামী লীগকর্মী সাইদুর রহমান, কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল ওদুদ আলফু ।

অন্যান্যদের মধ্যে আছেন- আনর আলী, উসমান খা, ইকবাল হোসেন আরিফ, দেলোয়ার হোসেন জীবন (মেম্বার), আরজান মিয়া, জাকির, আলী আকবর, আলী আব্বাস, মো. জুয়েল, আলমগীর আলম, চেয়ারম্যান, পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন, কোম্পানিগঞ্জ, ও মুকাররিম আহমেদ, শিক্ষক, জামেয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া মাদরাসা, মীরবক্সটুলা, সিলেট।

এ ছাড়াও অভিযুক্ত কয়েকজন সাংবাদিক ও অন্যান্য পেশার ব্যক্তিবর্গের তালিকা যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সিলেটে পাথর লুট: জড়িতদের তালিকায় বিএনপি-এনসিপি-জামায়াত নেতাদের নাম

আপডেট টাইম : ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর পর্যটন এলাকার পাথর লুটের ঘটনা সাড়া ফেলেছে দেশের সব মহলে। এবার জড়িতদের তালিকা প্রকাশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সেখানে বলা হয়, স্থানীয় প্রশাসনের সাথে অসাধু যোগসাজশে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকার পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধনের অভিযোগে গত ১৩ আগস্ট সিলেটের সাদাপাথর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দুদক। অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পাথর আত্মসাতের প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ও সুবিধাভোগী সংস্থা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে, খনিজ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- আজিজুন্নাহার, মোহাম্মদ আবুল হাছনাত, উর্মি রায়, আবিদা সুলতানা। এ ছাড়াও রয়েছে পুলিশ সুপার, অফিসার ইনচার্জ, বিজিবি ও ব্যবসায়ীসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

তালিকায় ৪২ জন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়। তাদের মধ্যে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা হলেন- সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমমাদ হোসেন চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য হাজি কামাল (পাথর ব্যবসায়ী), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া (পাথর ব্যবসায়ী), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে দুদু (পাথর ব্যবসায়ী), সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক রুবেল আহমেদ বাহার (পাথর ব্যবসায়ী), সিলেট জেলা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক  মুসতাকিন আহমদ ফরহাদ (পাথর ব্যবসায়ী), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক মো. দুলাল মিয়া ওরফে দুলা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রজন মিয়া, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদল নেতা জসিম উদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদল নেতা সাজন মিয়া, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি কর্মী জাকির হোসেন কর্মী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য মোজাফর আলী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য মানিক মিয়া, সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ, সিলেট জেলা বিএনপির জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে শাহপরান, সিলেট জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ (বর্তমানে বহিষ্কৃত) শাহ আলম ওরফে স্বপন, সিলেট জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম ও গোয়াইনঘাটের পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ বক্স।

জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িতরা হলেন, সিলেট মহানগর জামায়াত আমীর মো. ফকরুল ইসলাম, সিলেট মহানগর জামায়াত সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন।

তালিকায় রয়েছেন জাতীয় রাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারাও। তারা হলেন- সিলেট জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নাজিম উদ্দিন ও সিলেট মহানগর এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাদেক মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী।

এই তালিকায় রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও। তারা হলেন- সিলেট আওয়ামী লীগের কর্মী বিলাল মিয়া (পাথর ব্যবসায়ী) আওয়ামী লীগেকর্মী শাহাবুদ্দিন (পাথর ব্যবসায়ী), আওয়ামী লীগকর্মী গিয়াস উদ্দিন (পাথর ব্যবসায়ী), আওয়ামী লীগকর্মী মনির মিয়া, আওয়ামী লীগকর্মী হাবিল মিয়া,আওয়ামী লীগকর্মী সাইদুর রহমান, কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল ওদুদ আলফু ।

অন্যান্যদের মধ্যে আছেন- আনর আলী, উসমান খা, ইকবাল হোসেন আরিফ, দেলোয়ার হোসেন জীবন (মেম্বার), আরজান মিয়া, জাকির, আলী আকবর, আলী আব্বাস, মো. জুয়েল, আলমগীর আলম, চেয়ারম্যান, পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন, কোম্পানিগঞ্জ, ও মুকাররিম আহমেদ, শিক্ষক, জামেয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া মাদরাসা, মীরবক্সটুলা, সিলেট।

এ ছাড়াও অভিযুক্ত কয়েকজন সাংবাদিক ও অন্যান্য পেশার ব্যক্তিবর্গের তালিকা যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।