ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত শাজারাতুত তাজাল্লি ‘জ্বলন্ত গাছ’

মিশরে তূর পাহাড়ের পাদদেশে হাজারো বছরের স্মৃতি নিয়ে আজো দাঁড়িয়ে আছে একটি ঝোপ গাছ, নাম শাজারাতুত তাজাল্লি। দেশটির পবিত্র সিনাই উপদ্বীপের সেন্ট ক্যাথেরিন শহরে অবস্থিত তুর পাহাড়—যা স্থানীয় বেদুইনদের কাছে ‘জাবালে মুসা’ (মুসার পর্বত) নামে পরিচিত।

এই তুর পাহাড়ের পাদদেশেই রয়েছে বিশেষ ঝোপ গাছটি, যাকে বলা হয় বার্নিং বুশ বা ‘জ্বলন্ত ঝোপ’। এই ঝোপ গাছটির কথা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে এবং সেই গাছের নিচেই হজরত মুসা (আঃ) আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে বিশ্বাস করা

হয়।ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার ফুট ওপরে অবস্থিত তূর পাহাড়ের পাদ দেশেই হজরত মুসা (আঃ) কুঞ্জবনের মধ্যে আলো বিচ্ছুরিত হতে দেখেন। পরে সেই স্থানেই তিনি আল্লাহর আহ্বান লাভ করেন।

এ ঘটনা সম্পর্কে পবিত্র কুরআনুল কারীমের বেশ কয়েকটি সুরায় বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। আল্লাহ ইরশাদ করেন-

فَلَمَّا قَضٰی مُوۡسَی الۡاَجَلَ وَ سَارَ بِاَهۡلِهٖۤ اٰنَسَ مِنۡ جَانِبِ الطُّوۡرِ نَارًا ۚ قَالَ لِاَهۡلِهِ امۡکُثُوۡۤا اِنِّیۡۤ اٰنَسۡتُ نَارًا لَّعَلِّیۡۤ اٰتِیۡکُمۡ مِّنۡهَا بِخَبَرٍ اَوۡ جَذۡوَۃٍ مِّنَ النَّارِ لَعَلَّکُمۡ تَصۡطَلُوۡنَ

فَلَمَّاۤ اَتٰىہَا نُوۡدِیَ مِنۡ شَاطِیَٴ الۡوَادِ الۡاَیۡمَنِ فِی الۡبُقۡعَۃِ الۡمُبٰرَکَۃِ مِنَ الشَّجَرَۃِ اَنۡ یّٰمُوۡسٰۤی اِنِّیۡۤ اَنَا اللّٰہُ رَبُّ الۡعٰلَمِیۡنَ

অর্থ- অতঃপর মূসা যখন মেয়াদ পূর্ণ করল এবং সপরিবারে যাত্রা করল, তখন সে তূর পর্বতের পাশে আগুন দেখতে পেল। সে তার পরিবার পরিজনকে বলল, তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখতে পেয়েছি, সম্ভবত আমি তা থেকে তোমাদের কাছে আনতে পারব কোন খবর,অথবা একটি জ্বলন্ত আঙ্গার; যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার’।

সুতরাং সে যখন আগুনের কাছে পৌঁছল, তখন ডান উপত্যকার কিনারায় অবস্থিত বরকতপূর্ণ ভূমির একটি বৃক্ষ থেকে ডেকে বলা হল, হে মূসা! আমিই আল্লাহ,আমিই জগতসমূহের প্রতিপালক। (সূরা কাসাস ২৯ – ৩০)

فَلَمَّا جَآءَهَا نُوۡدِیَ اَنۡۢ بُوۡرِکَ مَنۡ فِی النَّارِ وَ مَنۡ حَوۡلَهَا ؕ وَ سُبۡحٰنَ اللّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ত

ারপর সে যখন সেখানে এসে পৌঁছল, তখন ডেকে বলা হল, ‘বরকতময় যা এ আলোর মধ্যে ও এর চারপাশে আছে। আর সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ মহাপবিত্র, মহিমান্বিত’। (সুরা নামল : ৮)

অন্যত্রে মহান আল্লাহ বলেন-

فَلَمَّاۤ اَتٰىهَا نُوۡدِیَ یٰمُوۡسٰی

যখন সে আগুনের কাছে আসল তখন তাকে আহবান করা হল, হে মূসা,

أَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ ۖ إِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى

আমিই তোমার পালনকর্তা, অতএব তুমি জুতা খুলে ফেল, তুমি পবিত্র উপত্যকা তুয়ায় রয়েছ।

وَأَنَا اخْتَرْتُكَ فَاسْتَمِعْ لِمَا يُوحَىٰ

এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে, তা শুনতে থাক। (সুরা ত্বহা ১১-১৩)

তিন হাজার বছরের পুরোনো এই জ্বলন্ত ঝোপ গাছটি আজও ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মানব সভ্যতার এক অনন্য সাক্ষ্য হয়ে জীবিত দাঁড়িয়ে আছে।

এটি শুধু মুসলিম নয়, খ্রিস্টান ও ইহুদী ধর্মাবলম্বীদের কাছেও সমানভাবে পবিত্র। তাই, প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো দর্শনার্থী এখানে আসেন গাছটিকে দেখতে। রোমান সম্রাট কনস্টান্টাইন ৩৬৫ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে গাছটির পাশে একটি গির্জা নির্মাণ করেন, যা বর্তমানে গ্রিক অর্থোডক্স চার্চের অধীনে রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত শাজারাতুত তাজাল্লি ‘জ্বলন্ত গাছ’

আপডেট টাইম : ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মিশরে তূর পাহাড়ের পাদদেশে হাজারো বছরের স্মৃতি নিয়ে আজো দাঁড়িয়ে আছে একটি ঝোপ গাছ, নাম শাজারাতুত তাজাল্লি। দেশটির পবিত্র সিনাই উপদ্বীপের সেন্ট ক্যাথেরিন শহরে অবস্থিত তুর পাহাড়—যা স্থানীয় বেদুইনদের কাছে ‘জাবালে মুসা’ (মুসার পর্বত) নামে পরিচিত।

এই তুর পাহাড়ের পাদদেশেই রয়েছে বিশেষ ঝোপ গাছটি, যাকে বলা হয় বার্নিং বুশ বা ‘জ্বলন্ত ঝোপ’। এই ঝোপ গাছটির কথা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে এবং সেই গাছের নিচেই হজরত মুসা (আঃ) আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে বিশ্বাস করা

হয়।ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার ফুট ওপরে অবস্থিত তূর পাহাড়ের পাদ দেশেই হজরত মুসা (আঃ) কুঞ্জবনের মধ্যে আলো বিচ্ছুরিত হতে দেখেন। পরে সেই স্থানেই তিনি আল্লাহর আহ্বান লাভ করেন।

এ ঘটনা সম্পর্কে পবিত্র কুরআনুল কারীমের বেশ কয়েকটি সুরায় বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। আল্লাহ ইরশাদ করেন-

فَلَمَّا قَضٰی مُوۡسَی الۡاَجَلَ وَ سَارَ بِاَهۡلِهٖۤ اٰنَسَ مِنۡ جَانِبِ الطُّوۡرِ نَارًا ۚ قَالَ لِاَهۡلِهِ امۡکُثُوۡۤا اِنِّیۡۤ اٰنَسۡتُ نَارًا لَّعَلِّیۡۤ اٰتِیۡکُمۡ مِّنۡهَا بِخَبَرٍ اَوۡ جَذۡوَۃٍ مِّنَ النَّارِ لَعَلَّکُمۡ تَصۡطَلُوۡنَ

فَلَمَّاۤ اَتٰىہَا نُوۡدِیَ مِنۡ شَاطِیَٴ الۡوَادِ الۡاَیۡمَنِ فِی الۡبُقۡعَۃِ الۡمُبٰرَکَۃِ مِنَ الشَّجَرَۃِ اَنۡ یّٰمُوۡسٰۤی اِنِّیۡۤ اَنَا اللّٰہُ رَبُّ الۡعٰلَمِیۡنَ

অর্থ- অতঃপর মূসা যখন মেয়াদ পূর্ণ করল এবং সপরিবারে যাত্রা করল, তখন সে তূর পর্বতের পাশে আগুন দেখতে পেল। সে তার পরিবার পরিজনকে বলল, তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখতে পেয়েছি, সম্ভবত আমি তা থেকে তোমাদের কাছে আনতে পারব কোন খবর,অথবা একটি জ্বলন্ত আঙ্গার; যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার’।

সুতরাং সে যখন আগুনের কাছে পৌঁছল, তখন ডান উপত্যকার কিনারায় অবস্থিত বরকতপূর্ণ ভূমির একটি বৃক্ষ থেকে ডেকে বলা হল, হে মূসা! আমিই আল্লাহ,আমিই জগতসমূহের প্রতিপালক। (সূরা কাসাস ২৯ – ৩০)

فَلَمَّا جَآءَهَا نُوۡدِیَ اَنۡۢ بُوۡرِکَ مَنۡ فِی النَّارِ وَ مَنۡ حَوۡلَهَا ؕ وَ سُبۡحٰنَ اللّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ত

ারপর সে যখন সেখানে এসে পৌঁছল, তখন ডেকে বলা হল, ‘বরকতময় যা এ আলোর মধ্যে ও এর চারপাশে আছে। আর সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ মহাপবিত্র, মহিমান্বিত’। (সুরা নামল : ৮)

অন্যত্রে মহান আল্লাহ বলেন-

فَلَمَّاۤ اَتٰىهَا نُوۡدِیَ یٰمُوۡسٰی

যখন সে আগুনের কাছে আসল তখন তাকে আহবান করা হল, হে মূসা,

أَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ ۖ إِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى

আমিই তোমার পালনকর্তা, অতএব তুমি জুতা খুলে ফেল, তুমি পবিত্র উপত্যকা তুয়ায় রয়েছ।

وَأَنَا اخْتَرْتُكَ فَاسْتَمِعْ لِمَا يُوحَىٰ

এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে, তা শুনতে থাক। (সুরা ত্বহা ১১-১৩)

তিন হাজার বছরের পুরোনো এই জ্বলন্ত ঝোপ গাছটি আজও ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মানব সভ্যতার এক অনন্য সাক্ষ্য হয়ে জীবিত দাঁড়িয়ে আছে।

এটি শুধু মুসলিম নয়, খ্রিস্টান ও ইহুদী ধর্মাবলম্বীদের কাছেও সমানভাবে পবিত্র। তাই, প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো দর্শনার্থী এখানে আসেন গাছটিকে দেখতে। রোমান সম্রাট কনস্টান্টাইন ৩৬৫ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে গাছটির পাশে একটি গির্জা নির্মাণ করেন, যা বর্তমানে গ্রিক অর্থোডক্স চার্চের অধীনে রয়েছে।