ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

বিশ্ব কন্যাশিশু দিবস ইসলামে কন্যাশিশুর মর্যাদা ও দায়িত্ববোধ

প্রতিবছর ১১ অক্টোবর “বিশ্ব কন্যাশিশু দিবস” পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে কন্যাশিশুর অধিকার, নিরাপত্তা ও শিক্ষার বার্তা পৌঁছে দিতে। আধুনিক সমাজে এই দিনটি অনেক মানবিক আহ্বানের প্রতীক হলেও, চৌদ্দশত বছর আগে ইসলাম যে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করেছিল, তা আজও সকল সময়ের চেয়ে অধিক প্রাসঙ্গিক। কেননা কন্যাশিশুকে ঘৃণিত, অবজ্ঞার চোখে দেখার যুগে ইসলামই প্রথম ঘোষণা দিয়েছিল—

وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ، بِأَيِّ ذَنبٍ قُتِلَتْ

‘যখন জীবন্ত কবর দেওয়া কন্যাশিশুকে জিজ্ঞাসা করা হবে—কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?’ (সুরা তাকওীর, আয়াত: ৮–৯)

এই আয়াত ছিল নারী শিশুর প্রতি মানবতার প্রথম বিপ্লবী আহবান।

ইসলাম শুধু কন্যাশিশু হত্যাকে নিষিদ্ধ করেনি; বরং তাকে রহমত, বরকত, ও জন্নাতের দরজা বলে ঘোষণা দিয়েছে।মহানবী (সা.)-এর দৃষ্টিতে কন্যাশিশু

রাসূলুল্লাহ (সা.) কন্যাশিশুর প্রতি বিশেষ মমতা দেখিয়েছেন। হাদিসের বর্ণিতি হয়েছে-

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تَبْلُغَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَا وَهُوَ ‏”‏ ‏.‏ وَضَمَّ أَصَابِعَهُ ‏.‏

‘আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুটি মেয়ে সন্তানকে সাবালক হওয়া পর্যন্ত প্রতিপালন করে, কিয়ামতের দিনে সে ও আমি এমন পাশাপাশি অবস্থায় থাকব, এ বলে তিনি তার হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে দিলেন।

এ থেকে স্পষ্ট যে. ইসলাম কন্যাশিশুকে কোনো বোঝা নয়, বরং জান্নাতের হাতিয়ার হিসেবে দেখেছে। যে পিতা-মাতা তাদের ভালোবাসে, শিক্ষায়-নৈতিকতায় গড়ে তোলে, তারা আসলে জান্নাত অর্জনের পথে চলছে।

অন্য এত হাদিসে এসেছে-

عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ جَاءَتْنِي مِسْكِينَةٌ تَحْمِلُ ابْنَتَيْنِ لَهَا فَأَطْعَمْتُهَا ثَلاَثَ تَمَرَاتٍ فَأَعْطَتْ كُلَّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا تَمْرَةً وَرَفَعَتْ إِلَى فِيهَا تَمْرَةً لِتَأْكُلَهَا فَاسْتَطْعَمَتْهَا ابْنَتَاهَا فَشَقَّتِ التَّمْرَةَ الَّتِي كَانَتْ تُرِيدُ أَنْ تَأْكُلَهَا بَيْنَهُمَا فَأَعْجَبَنِي شَأْنُهَا فَذَكَرْتُ الَّذِي صَنَعَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ “‏ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَوْجَبَ لَهَا بِهَا الْجَنَّةَ أَوْ أَعْتَقَهَا بِهَا مِنَ النَّارِ ‏”‏ ‏.‏

‘আয়িশাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক অসহায় স্ত্রী তার দুটি মেয়ে সন্তানসহ আমার নিকট আসলো।

আমি তাদেরকে তিনটি খেজুর খেতে দিলাম। সে দু’ মেয়ের প্রত্যেককে একটি করে খেজুর দিল এবং একটি নিজে খাবার জন্যে তার মুখে তুলল। সে মুহুর্তে মেয়ে দুটি এ খেজুরটিও খেতে চাইল। সে তখন নিজে খাবার জন্যে যে খেজুরটি মুখে তুলেছিল সেটি তাদের উভয়ের মাঝে বণ্টন করে দিল। তার এ আচরণ আমাকে আশ্চর্য করে দিল।
পরে আমি সে যা করেছে তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমীপে আলোচনা করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা এ কারণে তার জন্যে জান্নাত আবশ্যক করে দিয়েছেন অথবা তিনি তাকে এ কারণে জাহান্নাম হতে মুক্তি দিয়েছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৩০)কন্যাশিশুর প্রতি সমাজের দায়

বর্তমান সমাজে কন্যাশিশুরা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার। শিক্ষায়, নিরাপত্তায়, এমনকি উত্তরাধিকারেও। অথচ ইসলামে এসব ক্ষেত্রে রয়েছে ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত। পবিত্র কোরআনে ঘোষিত হয়েছে:

یُوۡصِیۡكُمُ اللّٰهُ فِیۡۤ اَوۡلَادِكُمۡ ٭ لِلذَّكَرِ مِثۡلُ حَظِّ الۡاُنۡثَیَیۡنِ ۚ فَاِنۡ كُنَّ نِسَآءً فَوۡقَ اثۡنَتَیۡنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ ۚ وَ اِنۡ كَانَتۡ وَاحِدَۃً فَلَهَا النِّصۡفُ ؕ …

‘আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন, এক ছেলের জন্য দুই মেয়ের অংশের সমপরিমাণ। তবে যদি তারা দুইয়ের অধিক মেয়ে হয়, তাহলে তাদের জন্য হবে, যা সে রেখে গেছে তার তিন ভাগের দুই ভাগ; আর যদি একজন মেয়ে হয় তখন তার জন্য অর্ধেক…’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত : ১১)

এখানে কন্যার জন্য ছেলে অর্ধেক হওয়া কোনো বৈষম্য নয়; বরং সামাজিক দায়িত্বের ভার অনুযায়ী ন্যায্য বণ্টন। ইসলাম কন্যাকে উত্তরাধিকারী করেছে, শিক্ষার অধিকার দিয়েছে, এমনকি পিতা-মাতার পরিচর্যায় অগ্রাধিকারও দিয়েছে। কিন্তু ওপর করও ভরণ পোষণের দায়িত্ব চাপায়নি।

ইসলামী ইতিহাসে নারীর অবদান

ইতিহাসে দেখা যায়, কন্যাশিশুদের শিক্ষা ও সম্মান রক্ষায় ইসলামি সভ্যতা ছিল পথিকৃৎ। নবী কন্যা ফাতিমা (রা.) ছিলেন তাঁর চোখের মণি। নবী (সা.) তাঁকে দেখলে উঠে দাঁড়াতেন, চুম্বন করতেন, পাশে বসাতেন।
তাঁর সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন—

قَالَ فَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّيْ فَمَنْ أَغْضَبَهَا أَغْضَبَنِي

‘ফাতিমা আমার অংশবিশেষ; তাকে যে কষ্ট দেয়, সে আমাকে কষ্ট দেয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৭১৪)

ইতিহাসের অন্য প্রান্তে রয়েছেন আয়িশা (রা.), উম্মে সালামা (রা.), রুবাইয়্যি বিনতে মুআওয়িয (রা.)—যাঁরা জ্ঞানে, ফতোয়ায়, চিকিৎসা ও সমাজকর্মে ছিলেন অগ্রগণ্য। তাঁরা প্রমাণ করেছেন, কন্যাশিশু সঠিকভাবে প্রতিপালিত হলে সে জাতির জন্য অমূল্য সম্পদ হয়ে ওঠে।

আজকের দায়িত্ব ও করণীয়

আজও বিশ্বের বহু স্থানে কন্যাশিশু জন্মের আগেই অবাঞ্ছিত, বিদ্যালয়ে অনিরাপদ, পুষ্টিতে বঞ্চিত। অথচ ইসলাম আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে, কন্যাশিশু হলো পরীক্ষার মাধ্যমে জান্নাতের টিকিট। তাই আমাদের করণীয়—

কন্যাশিশুকে ভালোবাসা, সম্মান ও ন্যায্য অধিকার দেওয়া।

তাদের শিক্ষায় বিনিয়োগ করা, ইসলামী ও আধুনিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করা।

নির্যাতন ও যৌতুকপ্রথা প্রতিরোধে কাজ করা।

সমাজে “মেয়ে সন্তান বোঝা নয়, বরকত” এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করা।

কন্যাশিশু মানবতার অর্ধেক। ইসলাম সেই অর্ধেককে সম্মান দিয়েছে, যেন অন্য অর্ধেক পূর্ণতা পায়। আজকের বিশ্ব কন্যাশিশু দিবসে আমরা যেন সেই মহান আহ্বানে ফিরে যাই—
যে শিক্ষা নবী করিম (সা.) দিয়েছিলেন চৌদ্দশত বছর আগে—

“কন্যাশিশুকে ভালোবাসো, লালন করো, তাতে তোমাদের জন্য জান্নাত রয়েছে।”

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

বিশ্ব কন্যাশিশু দিবস ইসলামে কন্যাশিশুর মর্যাদা ও দায়িত্ববোধ

আপডেট টাইম : ১২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
প্রতিবছর ১১ অক্টোবর “বিশ্ব কন্যাশিশু দিবস” পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে কন্যাশিশুর অধিকার, নিরাপত্তা ও শিক্ষার বার্তা পৌঁছে দিতে। আধুনিক সমাজে এই দিনটি অনেক মানবিক আহ্বানের প্রতীক হলেও, চৌদ্দশত বছর আগে ইসলাম যে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করেছিল, তা আজও সকল সময়ের চেয়ে অধিক প্রাসঙ্গিক। কেননা কন্যাশিশুকে ঘৃণিত, অবজ্ঞার চোখে দেখার যুগে ইসলামই প্রথম ঘোষণা দিয়েছিল—

وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ، بِأَيِّ ذَنبٍ قُتِلَتْ

‘যখন জীবন্ত কবর দেওয়া কন্যাশিশুকে জিজ্ঞাসা করা হবে—কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?’ (সুরা তাকওীর, আয়াত: ৮–৯)

এই আয়াত ছিল নারী শিশুর প্রতি মানবতার প্রথম বিপ্লবী আহবান।

ইসলাম শুধু কন্যাশিশু হত্যাকে নিষিদ্ধ করেনি; বরং তাকে রহমত, বরকত, ও জন্নাতের দরজা বলে ঘোষণা দিয়েছে।মহানবী (সা.)-এর দৃষ্টিতে কন্যাশিশু

রাসূলুল্লাহ (সা.) কন্যাশিশুর প্রতি বিশেষ মমতা দেখিয়েছেন। হাদিসের বর্ণিতি হয়েছে-

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تَبْلُغَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَا وَهُوَ ‏”‏ ‏.‏ وَضَمَّ أَصَابِعَهُ ‏.‏

‘আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুটি মেয়ে সন্তানকে সাবালক হওয়া পর্যন্ত প্রতিপালন করে, কিয়ামতের দিনে সে ও আমি এমন পাশাপাশি অবস্থায় থাকব, এ বলে তিনি তার হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে দিলেন।

এ থেকে স্পষ্ট যে. ইসলাম কন্যাশিশুকে কোনো বোঝা নয়, বরং জান্নাতের হাতিয়ার হিসেবে দেখেছে। যে পিতা-মাতা তাদের ভালোবাসে, শিক্ষায়-নৈতিকতায় গড়ে তোলে, তারা আসলে জান্নাত অর্জনের পথে চলছে।

অন্য এত হাদিসে এসেছে-

عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ جَاءَتْنِي مِسْكِينَةٌ تَحْمِلُ ابْنَتَيْنِ لَهَا فَأَطْعَمْتُهَا ثَلاَثَ تَمَرَاتٍ فَأَعْطَتْ كُلَّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا تَمْرَةً وَرَفَعَتْ إِلَى فِيهَا تَمْرَةً لِتَأْكُلَهَا فَاسْتَطْعَمَتْهَا ابْنَتَاهَا فَشَقَّتِ التَّمْرَةَ الَّتِي كَانَتْ تُرِيدُ أَنْ تَأْكُلَهَا بَيْنَهُمَا فَأَعْجَبَنِي شَأْنُهَا فَذَكَرْتُ الَّذِي صَنَعَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ “‏ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَوْجَبَ لَهَا بِهَا الْجَنَّةَ أَوْ أَعْتَقَهَا بِهَا مِنَ النَّارِ ‏”‏ ‏.‏

‘আয়িশাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক অসহায় স্ত্রী তার দুটি মেয়ে সন্তানসহ আমার নিকট আসলো।

আমি তাদেরকে তিনটি খেজুর খেতে দিলাম। সে দু’ মেয়ের প্রত্যেককে একটি করে খেজুর দিল এবং একটি নিজে খাবার জন্যে তার মুখে তুলল। সে মুহুর্তে মেয়ে দুটি এ খেজুরটিও খেতে চাইল। সে তখন নিজে খাবার জন্যে যে খেজুরটি মুখে তুলেছিল সেটি তাদের উভয়ের মাঝে বণ্টন করে দিল। তার এ আচরণ আমাকে আশ্চর্য করে দিল।
পরে আমি সে যা করেছে তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমীপে আলোচনা করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা এ কারণে তার জন্যে জান্নাত আবশ্যক করে দিয়েছেন অথবা তিনি তাকে এ কারণে জাহান্নাম হতে মুক্তি দিয়েছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৩০)কন্যাশিশুর প্রতি সমাজের দায়

বর্তমান সমাজে কন্যাশিশুরা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার। শিক্ষায়, নিরাপত্তায়, এমনকি উত্তরাধিকারেও। অথচ ইসলামে এসব ক্ষেত্রে রয়েছে ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত। পবিত্র কোরআনে ঘোষিত হয়েছে:

یُوۡصِیۡكُمُ اللّٰهُ فِیۡۤ اَوۡلَادِكُمۡ ٭ لِلذَّكَرِ مِثۡلُ حَظِّ الۡاُنۡثَیَیۡنِ ۚ فَاِنۡ كُنَّ نِسَآءً فَوۡقَ اثۡنَتَیۡنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ ۚ وَ اِنۡ كَانَتۡ وَاحِدَۃً فَلَهَا النِّصۡفُ ؕ …

‘আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন, এক ছেলের জন্য দুই মেয়ের অংশের সমপরিমাণ। তবে যদি তারা দুইয়ের অধিক মেয়ে হয়, তাহলে তাদের জন্য হবে, যা সে রেখে গেছে তার তিন ভাগের দুই ভাগ; আর যদি একজন মেয়ে হয় তখন তার জন্য অর্ধেক…’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত : ১১)

এখানে কন্যার জন্য ছেলে অর্ধেক হওয়া কোনো বৈষম্য নয়; বরং সামাজিক দায়িত্বের ভার অনুযায়ী ন্যায্য বণ্টন। ইসলাম কন্যাকে উত্তরাধিকারী করেছে, শিক্ষার অধিকার দিয়েছে, এমনকি পিতা-মাতার পরিচর্যায় অগ্রাধিকারও দিয়েছে। কিন্তু ওপর করও ভরণ পোষণের দায়িত্ব চাপায়নি।

ইসলামী ইতিহাসে নারীর অবদান

ইতিহাসে দেখা যায়, কন্যাশিশুদের শিক্ষা ও সম্মান রক্ষায় ইসলামি সভ্যতা ছিল পথিকৃৎ। নবী কন্যা ফাতিমা (রা.) ছিলেন তাঁর চোখের মণি। নবী (সা.) তাঁকে দেখলে উঠে দাঁড়াতেন, চুম্বন করতেন, পাশে বসাতেন।
তাঁর সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন—

قَالَ فَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّيْ فَمَنْ أَغْضَبَهَا أَغْضَبَنِي

‘ফাতিমা আমার অংশবিশেষ; তাকে যে কষ্ট দেয়, সে আমাকে কষ্ট দেয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৭১৪)

ইতিহাসের অন্য প্রান্তে রয়েছেন আয়িশা (রা.), উম্মে সালামা (রা.), রুবাইয়্যি বিনতে মুআওয়িয (রা.)—যাঁরা জ্ঞানে, ফতোয়ায়, চিকিৎসা ও সমাজকর্মে ছিলেন অগ্রগণ্য। তাঁরা প্রমাণ করেছেন, কন্যাশিশু সঠিকভাবে প্রতিপালিত হলে সে জাতির জন্য অমূল্য সম্পদ হয়ে ওঠে।

আজকের দায়িত্ব ও করণীয়

আজও বিশ্বের বহু স্থানে কন্যাশিশু জন্মের আগেই অবাঞ্ছিত, বিদ্যালয়ে অনিরাপদ, পুষ্টিতে বঞ্চিত। অথচ ইসলাম আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে, কন্যাশিশু হলো পরীক্ষার মাধ্যমে জান্নাতের টিকিট। তাই আমাদের করণীয়—

কন্যাশিশুকে ভালোবাসা, সম্মান ও ন্যায্য অধিকার দেওয়া।

তাদের শিক্ষায় বিনিয়োগ করা, ইসলামী ও আধুনিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করা।

নির্যাতন ও যৌতুকপ্রথা প্রতিরোধে কাজ করা।

সমাজে “মেয়ে সন্তান বোঝা নয়, বরকত” এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করা।

কন্যাশিশু মানবতার অর্ধেক। ইসলাম সেই অর্ধেককে সম্মান দিয়েছে, যেন অন্য অর্ধেক পূর্ণতা পায়। আজকের বিশ্ব কন্যাশিশু দিবসে আমরা যেন সেই মহান আহ্বানে ফিরে যাই—
যে শিক্ষা নবী করিম (সা.) দিয়েছিলেন চৌদ্দশত বছর আগে—

“কন্যাশিশুকে ভালোবাসো, লালন করো, তাতে তোমাদের জন্য জান্নাত রয়েছে।”