ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

ওয়ান-ইলেভেন ও খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সংগ্রাম

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ত্যাগ মানে কী, দায়িত্ব মানে কী, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে কিভাবে বুকের ভেতর লালন করতে হয়—তার সবচেয়ে সংযমী, নীরব অথচ অনমনীয় উদাহরণ খালেদা জিয়া। নিজের জীবনকে এতখানি জেনেশুনে মানুষের জন্য ঝুঁকিতে ফেলার উদাহরণ খুব কম আছে এবং আজও এ দেশের রাজনীতিকে গণতান্ত্রিক, মানবিক, দায়িত্ববান ও জনগণের দিকে ফিরিয়ে নিতে তাঁর বক্তব্য ইস্পাতদৃঢ়।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিএনপি। পরদিন ২৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের জন্য শপথ নেন অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ।

তারপর বিচারপতি কে এম হাসানের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বিচারপতি এম এ আজিজের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিরোধিতা করে আন্দোলন অব্যাহত রাখে আওয়ামী লীগ। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তিন বাহিনীর প্রধানরাসহ ৯ ডিভিশনের জিওসি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে এবং কেয়ারটেকার চিফ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেন। আসে ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ‘অন্তর্বর্তী’ সরকার। সে সরকার দুর্নীতি অনুসন্ধান ও বিচারের নামে ‘মাইনাস টু ফর্মুলায়’ দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে সরাতে চেষ্টা চালায়।
তবে জিয়া পরিবার ও বিএনপি ছিল মূল টার্গেট।বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এখন খুব কঠিন সময় পার করছেন। জানুয়ারি ২০০৭-এ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে খালেদা জিয়া, তাঁর পরিবার ও বিএনপির ওপর বিপর্যয় নেমে আসে। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে।

এপ্রিল মাসে খালেদা জিয়াকে জোর করে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলে ছোট ছেলে কোকোকে ২৪ ঘণ্টা অজ্ঞাত স্থানে নেওয়া হয় এবং খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। তিনি সেদিন বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ ভালো থাকলে আমি ভালো থাকি। এ দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, এ দেশই আমার ঠিকানা।’এদিকে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মান্নান ভূঁইয়াকে দিয়ে দল ভাঙার ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে অন্তর্বর্তী সরকার। খালেদা জিয়া বিভিন্ন জেলা ও বহির্বিশ্বে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে নির্দেশনা দেন।

২ সেপ্টেম্বর রাতে খালেদা জিয়া ও কোকোকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের আগে খালেদা জিয়া সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে মহাসচিব মান্নান ভূঁইয়া ও যুগ্ম মহাসচিব আশরাফ হোসেনকে বহিষ্কার করেন এবং বর্ষীয়ান নেতা খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে দলের নতুন মহাসচিব নিয়োগ দেন।ষড়যন্ত্রকারীরা সাইফুর রহমানকে চেয়ারম্যান ও মেজর (অব.) হাফিজকে অস্থায়ী মহাসচিব করে কমিটি গঠন করে এবং গঠিত কমিটিকে স্বীকৃতি দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এ টি এম শামছুল হুদা। ৫ নভেম্বর খালেদা জিয়া কারাগার থেকে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) লেখা চিঠিতে মহাসচিব হিসেবে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) হান্নান শাহর সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ জানান। কারাগারে থেকেই আইনজীবীদের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন। ২০০৮ সালের ১৮ জানুয়ারি মায়ের মৃত্যুতে খালেদা জিয়াসহ তারেক-কোকোকে দুই ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। ৫ মার্চ নাইকো মামলায়, ২৩ জুন ও ৯ জুলাই গ্যাটকো মামলায় সংসদ ভবনে নির্মিত বিশেষ আদালতে হাজিরা দেন খালেদা জিয়া। তিনি কারাগারের ঠিকানায় ভোটার হতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিবন্ধনের শেষ দিন ৮ মার্চ পর্যন্ত ভোটার হননি। ১৩ আগস্ট আইনজীবীদের বলেন, মুক্তির জন্য অবৈধ সরকারের কাছে কোনো আবেদন করবেন না। ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াকে মুক্তি ও তারেক রহমানকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে পরের বছর ১১ সেপ্টেম্বর তিনি হাইকোর্টের আদেশে মুক্তি পান। এক পর্যায়ে তাঁর অনড় মনোভাবের কারণে সরকার জরুরি আইন প্রত্যাহার করে এবং বন্দি নেতাদের মুক্তি দেয়। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকার গোপন সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন করার প্রস্তাব দিলে খালেদা জিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেন। দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মী বন্দি ও পলাতক থাকা এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি না থাকা সত্ত্বেও শুধু গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়া শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে সারা দেশে ক্লান্তিহীন নির্বাচনী সফর করেন। তবে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের পাতানো জাতীয় নির্বাচনে ৩৩ শতাংশের বেশি ভোট পেলেও মাত্র ২৯টি আসন পায় বিএনপি।

আওয়ামী লীগ বিজয়ী হওয়ার পর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে থাকে। ৬ জানুয়ারি মহাজোট সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিএনপি যোগদান করে। ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেও খালেদা জিয়াসহ বিএনপির সংসদ সদস্যরা যোগদান করেন। কিন্তু মহাজোট সরকার প্রথম থেকেই অগণতান্ত্রিক আচরণ শুরু করে, যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশকে যখন একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে, তখন খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য তাঁর লড়াই নতুন করে শুরু করেছিলেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তৎকালীন অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শহীদ মইনুল সড়কের ৬ নম্বর বাড়িতে ওঠেন খালেদা জিয়া। ১৯৮১ সালে ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সেনা অভ্যুত্থানে শাহাদতবরণ করলে তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার সেনানিবাসের ওই বাড়িটি খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেন। ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে তাঁর দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে জোর করে উচ্ছেদ করে আওয়ামী লীগ সরকার। গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর ভূমিকার জন্য তাঁকে ২০১১ সালে নিউজার্সির স্টেট সিনেট ‘গণতন্ত্রের জন্য যোদ্ধা’ উপাধিতে সম্মানিত করে।

মহাজোট সরকার গোটা দেশবাসীর মতামত ও আবেদন-নিবেদন উপেক্ষা করে ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে একদলীয় শাসন কায়েম করে এবং গণতন্ত্রের পথকে রুদ্ধ করে দেয়। আওয়ামী লীগ সরকার নিজ দলের অধীনে যেনতেনভাবে একের পর এক জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করে পুনরায় ক্ষমতা দখলে করে। বিএনপি দেশের জনগণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখে লড়াই করেছে। জানুয়ারি ২০১৫ থেকে তিনি গুলশানে তাঁর অফিসে অবরুদ্ধ হন। এই অবরুদ্ধ অবস্থায় মালয়েশিয়ায় আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক বন্দি হওয়ার পর দীর্ঘ এক বছর সাত দিন কারাগারে অবস্থানকালে তাঁর বিরুদ্ধে চলতে থাকা কোনো মামলা ও অভিযোগেরই উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং চলতে থাকা তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে তাঁর পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে আওয়ামী লীগ সরকার। খালেদা জিয়াকে বন্দি করে পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগার কাশিমপুরে নিয়ে আটক রাখা হয়।

২০২০ সালের কান্ট্রি রিপোর্টস অন হিউম্যান রাইটস প্র্যাকটিস প্রতিবেদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে যে মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবেই তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে ‘ন্যায্যবিচারের অধিকারকে সম্মান করা হচ্ছে না’। কারাগারে থাকা অবস্থায় ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও সাত বছর কারাদণ্ড প্রদান করে আওয়ামী লীগ সরকারের বিচারক ও বিচারালয়। একের পর এক মিথ্যা মামলায় অসুস্থ খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রেখে তাঁর মনোবল দুর্বল করে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এমনকি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বিধি-নিষেধ জারি করা হয়। অন্যদিকে বিদেশে চিকিৎসাধীন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক ৭৫টি মামলা দিয়ে দেশে ফিরে আসার পথ বন্ধ করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পরদিনই রাষ্ট্রপতির আদেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শাস্তি মওকুফ ও মুক্তির ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খালেদা জিয়ার মুক্তির পরদিন ৭ আগস্ট এক মহাসমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। কারামুক্ত খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে এখন বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে দলটি। দীর্ঘদিন আটক থাকা নেতাকর্মীরা ছাড়া পেয়ে রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় হয়েছেন।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন—‘মা, মাটি, মানুষ, এ দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি এবং সর্বোপরি দেশের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।’ তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, গণতন্ত্র ছাড়া কোনো দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।

শুধু দেশের গণতন্ত্র নয়, দলের মধ্যেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি অনন্য উদাহরণ। তিনি নেতাকর্মীদের কথা বেশি শোনেন, বারবার শোনেন, বোঝার চেষ্টা করেন এবং তারপর আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আর একবার যে সিদ্ধান্ত নেন, সেই সিদ্ধান্ত থেকে কখনো পিছু হটেন না; যার প্রমাণ ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিনের শাসন আমল ও ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার আমলে তাঁর বিরুদ্ধে গৃহীত মিথ্যা মামলা, কারাদণ্ড ও নির্যাতন। সে কারণে তিনি আজ গুরুতর অসুস্থ। তিনি সুস্থ হয়ে আবারও আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন, সেই শুভ কামনা সবার।

শেখ রফিক

লেখক : গবেষক ও রাজনৈতিক কলাম লেখক

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

ওয়ান-ইলেভেন ও খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সংগ্রাম

আপডেট টাইম : ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ত্যাগ মানে কী, দায়িত্ব মানে কী, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে কিভাবে বুকের ভেতর লালন করতে হয়—তার সবচেয়ে সংযমী, নীরব অথচ অনমনীয় উদাহরণ খালেদা জিয়া। নিজের জীবনকে এতখানি জেনেশুনে মানুষের জন্য ঝুঁকিতে ফেলার উদাহরণ খুব কম আছে এবং আজও এ দেশের রাজনীতিকে গণতান্ত্রিক, মানবিক, দায়িত্ববান ও জনগণের দিকে ফিরিয়ে নিতে তাঁর বক্তব্য ইস্পাতদৃঢ়।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিএনপি। পরদিন ২৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের জন্য শপথ নেন অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ।

তারপর বিচারপতি কে এম হাসানের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বিচারপতি এম এ আজিজের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিরোধিতা করে আন্দোলন অব্যাহত রাখে আওয়ামী লীগ। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তিন বাহিনীর প্রধানরাসহ ৯ ডিভিশনের জিওসি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে এবং কেয়ারটেকার চিফ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেন। আসে ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ‘অন্তর্বর্তী’ সরকার। সে সরকার দুর্নীতি অনুসন্ধান ও বিচারের নামে ‘মাইনাস টু ফর্মুলায়’ দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে সরাতে চেষ্টা চালায়।
তবে জিয়া পরিবার ও বিএনপি ছিল মূল টার্গেট।বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এখন খুব কঠিন সময় পার করছেন। জানুয়ারি ২০০৭-এ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে খালেদা জিয়া, তাঁর পরিবার ও বিএনপির ওপর বিপর্যয় নেমে আসে। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে।

এপ্রিল মাসে খালেদা জিয়াকে জোর করে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলে ছোট ছেলে কোকোকে ২৪ ঘণ্টা অজ্ঞাত স্থানে নেওয়া হয় এবং খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। তিনি সেদিন বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ ভালো থাকলে আমি ভালো থাকি। এ দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, এ দেশই আমার ঠিকানা।’এদিকে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মান্নান ভূঁইয়াকে দিয়ে দল ভাঙার ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে অন্তর্বর্তী সরকার। খালেদা জিয়া বিভিন্ন জেলা ও বহির্বিশ্বে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে নির্দেশনা দেন।

২ সেপ্টেম্বর রাতে খালেদা জিয়া ও কোকোকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের আগে খালেদা জিয়া সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে মহাসচিব মান্নান ভূঁইয়া ও যুগ্ম মহাসচিব আশরাফ হোসেনকে বহিষ্কার করেন এবং বর্ষীয়ান নেতা খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে দলের নতুন মহাসচিব নিয়োগ দেন।ষড়যন্ত্রকারীরা সাইফুর রহমানকে চেয়ারম্যান ও মেজর (অব.) হাফিজকে অস্থায়ী মহাসচিব করে কমিটি গঠন করে এবং গঠিত কমিটিকে স্বীকৃতি দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এ টি এম শামছুল হুদা। ৫ নভেম্বর খালেদা জিয়া কারাগার থেকে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) লেখা চিঠিতে মহাসচিব হিসেবে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) হান্নান শাহর সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ জানান। কারাগারে থেকেই আইনজীবীদের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন। ২০০৮ সালের ১৮ জানুয়ারি মায়ের মৃত্যুতে খালেদা জিয়াসহ তারেক-কোকোকে দুই ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। ৫ মার্চ নাইকো মামলায়, ২৩ জুন ও ৯ জুলাই গ্যাটকো মামলায় সংসদ ভবনে নির্মিত বিশেষ আদালতে হাজিরা দেন খালেদা জিয়া। তিনি কারাগারের ঠিকানায় ভোটার হতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিবন্ধনের শেষ দিন ৮ মার্চ পর্যন্ত ভোটার হননি। ১৩ আগস্ট আইনজীবীদের বলেন, মুক্তির জন্য অবৈধ সরকারের কাছে কোনো আবেদন করবেন না। ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াকে মুক্তি ও তারেক রহমানকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে পরের বছর ১১ সেপ্টেম্বর তিনি হাইকোর্টের আদেশে মুক্তি পান। এক পর্যায়ে তাঁর অনড় মনোভাবের কারণে সরকার জরুরি আইন প্রত্যাহার করে এবং বন্দি নেতাদের মুক্তি দেয়। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকার গোপন সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন করার প্রস্তাব দিলে খালেদা জিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেন। দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মী বন্দি ও পলাতক থাকা এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি না থাকা সত্ত্বেও শুধু গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়া শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে সারা দেশে ক্লান্তিহীন নির্বাচনী সফর করেন। তবে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের পাতানো জাতীয় নির্বাচনে ৩৩ শতাংশের বেশি ভোট পেলেও মাত্র ২৯টি আসন পায় বিএনপি।

আওয়ামী লীগ বিজয়ী হওয়ার পর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে থাকে। ৬ জানুয়ারি মহাজোট সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিএনপি যোগদান করে। ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেও খালেদা জিয়াসহ বিএনপির সংসদ সদস্যরা যোগদান করেন। কিন্তু মহাজোট সরকার প্রথম থেকেই অগণতান্ত্রিক আচরণ শুরু করে, যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশকে যখন একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে, তখন খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য তাঁর লড়াই নতুন করে শুরু করেছিলেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তৎকালীন অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শহীদ মইনুল সড়কের ৬ নম্বর বাড়িতে ওঠেন খালেদা জিয়া। ১৯৮১ সালে ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সেনা অভ্যুত্থানে শাহাদতবরণ করলে তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার সেনানিবাসের ওই বাড়িটি খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেন। ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে তাঁর দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে জোর করে উচ্ছেদ করে আওয়ামী লীগ সরকার। গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর ভূমিকার জন্য তাঁকে ২০১১ সালে নিউজার্সির স্টেট সিনেট ‘গণতন্ত্রের জন্য যোদ্ধা’ উপাধিতে সম্মানিত করে।

মহাজোট সরকার গোটা দেশবাসীর মতামত ও আবেদন-নিবেদন উপেক্ষা করে ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে একদলীয় শাসন কায়েম করে এবং গণতন্ত্রের পথকে রুদ্ধ করে দেয়। আওয়ামী লীগ সরকার নিজ দলের অধীনে যেনতেনভাবে একের পর এক জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করে পুনরায় ক্ষমতা দখলে করে। বিএনপি দেশের জনগণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখে লড়াই করেছে। জানুয়ারি ২০১৫ থেকে তিনি গুলশানে তাঁর অফিসে অবরুদ্ধ হন। এই অবরুদ্ধ অবস্থায় মালয়েশিয়ায় আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক বন্দি হওয়ার পর দীর্ঘ এক বছর সাত দিন কারাগারে অবস্থানকালে তাঁর বিরুদ্ধে চলতে থাকা কোনো মামলা ও অভিযোগেরই উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং চলতে থাকা তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে তাঁর পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে আওয়ামী লীগ সরকার। খালেদা জিয়াকে বন্দি করে পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগার কাশিমপুরে নিয়ে আটক রাখা হয়।

২০২০ সালের কান্ট্রি রিপোর্টস অন হিউম্যান রাইটস প্র্যাকটিস প্রতিবেদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে যে মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবেই তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে ‘ন্যায্যবিচারের অধিকারকে সম্মান করা হচ্ছে না’। কারাগারে থাকা অবস্থায় ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও সাত বছর কারাদণ্ড প্রদান করে আওয়ামী লীগ সরকারের বিচারক ও বিচারালয়। একের পর এক মিথ্যা মামলায় অসুস্থ খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রেখে তাঁর মনোবল দুর্বল করে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এমনকি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বিধি-নিষেধ জারি করা হয়। অন্যদিকে বিদেশে চিকিৎসাধীন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক ৭৫টি মামলা দিয়ে দেশে ফিরে আসার পথ বন্ধ করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পরদিনই রাষ্ট্রপতির আদেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শাস্তি মওকুফ ও মুক্তির ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খালেদা জিয়ার মুক্তির পরদিন ৭ আগস্ট এক মহাসমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। কারামুক্ত খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে এখন বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে দলটি। দীর্ঘদিন আটক থাকা নেতাকর্মীরা ছাড়া পেয়ে রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় হয়েছেন।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন—‘মা, মাটি, মানুষ, এ দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি এবং সর্বোপরি দেশের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।’ তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, গণতন্ত্র ছাড়া কোনো দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।

শুধু দেশের গণতন্ত্র নয়, দলের মধ্যেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি অনন্য উদাহরণ। তিনি নেতাকর্মীদের কথা বেশি শোনেন, বারবার শোনেন, বোঝার চেষ্টা করেন এবং তারপর আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আর একবার যে সিদ্ধান্ত নেন, সেই সিদ্ধান্ত থেকে কখনো পিছু হটেন না; যার প্রমাণ ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিনের শাসন আমল ও ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার আমলে তাঁর বিরুদ্ধে গৃহীত মিথ্যা মামলা, কারাদণ্ড ও নির্যাতন। সে কারণে তিনি আজ গুরুতর অসুস্থ। তিনি সুস্থ হয়ে আবারও আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন, সেই শুভ কামনা সবার।

শেখ রফিক

লেখক : গবেষক ও রাজনৈতিক কলাম লেখক