ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

প্রথমবার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা, যে ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াত আমির

একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এটিই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জামায়াত আমিরের পুষ্পস্তবক অর্পণ।

আজ শনিবার প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনারে যান জামায়াত আমির। এ সময় তার সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে মোনাজাত পরিচালনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। পরে শহীদ মিনার এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত আমির।

জামায়াত কখনো ফুল দিতে শহীদ মিনারে আসেনি, এবার কী মনে করে আসলেন-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে, তাই আমি এসেছি।’

এখনো কি জামায়াতে ইসলামী এটাকে নাজায়েজ মনে করেন-এমন প্রশ্ন বিরক্তি প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘এমন একটা পবিত্র দিনে এ ধরনের প্রশ্ন আপনি কেন করছেন, এমন প্রশ্ন না করাই ভালো।’

এরপর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আসলে ভাষা শহীদদের আগে ৪৭ এ যারা শহীদ হয়েছেন তাদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। বায়ান্নর শহীদদেরও স্মরণ করি। একাত্তরের শহীদদের স্মরণ করি, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করি, এরপরে যারা ফ্যাসিবাদের হাতে শহীদ হয়েছেন তাদেরকেও স্মরণ করি।’

‘বিশেষ করে সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে যারা শহীদ হয়েছে তাদের সবাইকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। এবং শেষ পর্যন্ত আমরা স্মরণ করি যারা জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে শহীদ হয়েছেন তাদের। ওসমান হাদিকেও আমরা স্মরণ করি’, যোগ করেন জামায়াত আমির।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনি যে প্রশ্ন করেছিলেন তারা যে কারণে লড়াই করেছিলেন সেই প্রত্যাশা কতখানি পূরণ হয়েছে–না সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্যই আমরা এই লড়াই অব্যাহত রাখব।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘জাতির মুক্তি না আসা পর্যন্ত ফ্যাসিবাদমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন না হওয়া পর্যন্ত, একটা মানবিক দেশ গঠনের জন্য আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। এবং কোনো অপকর্মের সঙ্গে আমরা আপস করব না।’

এরপর জামায়াত আমির বিরোধী দলের নেতাদের নিয়ে সরাসরি আজিমপুর কবরস্থানে যান। সেখানে তিনি ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

প্রথমবার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা, যে ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াত আমির

আপডেট টাইম : ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এটিই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জামায়াত আমিরের পুষ্পস্তবক অর্পণ।

আজ শনিবার প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনারে যান জামায়াত আমির। এ সময় তার সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে মোনাজাত পরিচালনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। পরে শহীদ মিনার এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত আমির।

জামায়াত কখনো ফুল দিতে শহীদ মিনারে আসেনি, এবার কী মনে করে আসলেন-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে, তাই আমি এসেছি।’

এখনো কি জামায়াতে ইসলামী এটাকে নাজায়েজ মনে করেন-এমন প্রশ্ন বিরক্তি প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘এমন একটা পবিত্র দিনে এ ধরনের প্রশ্ন আপনি কেন করছেন, এমন প্রশ্ন না করাই ভালো।’

এরপর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আসলে ভাষা শহীদদের আগে ৪৭ এ যারা শহীদ হয়েছেন তাদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। বায়ান্নর শহীদদেরও স্মরণ করি। একাত্তরের শহীদদের স্মরণ করি, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করি, এরপরে যারা ফ্যাসিবাদের হাতে শহীদ হয়েছেন তাদেরকেও স্মরণ করি।’

‘বিশেষ করে সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে যারা শহীদ হয়েছে তাদের সবাইকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। এবং শেষ পর্যন্ত আমরা স্মরণ করি যারা জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে শহীদ হয়েছেন তাদের। ওসমান হাদিকেও আমরা স্মরণ করি’, যোগ করেন জামায়াত আমির।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনি যে প্রশ্ন করেছিলেন তারা যে কারণে লড়াই করেছিলেন সেই প্রত্যাশা কতখানি পূরণ হয়েছে–না সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্যই আমরা এই লড়াই অব্যাহত রাখব।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘জাতির মুক্তি না আসা পর্যন্ত ফ্যাসিবাদমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন না হওয়া পর্যন্ত, একটা মানবিক দেশ গঠনের জন্য আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। এবং কোনো অপকর্মের সঙ্গে আমরা আপস করব না।’

এরপর জামায়াত আমির বিরোধী দলের নেতাদের নিয়ে সরাসরি আজিমপুর কবরস্থানে যান। সেখানে তিনি ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন।