ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ‎দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বদলি

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের ‎‘জয় বাংলা ব্রিগেডের’ জুম মিটিং সংক্রান্ত ‎রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে।

‎‎মামলাটি ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে চার্জ গঠনের পর্যায়ে ছিল। কিন্তু দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে গত ২৩ ফ্রেব্রুয়ারি পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। যা আজ সোমবার জানা গেছে। আগামী ৯ মার্চ শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

‎‎এর আগে গত ২১ জানুয়ারি মামলাটিতে চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন।

এরপর এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ৩০ আসামির মধ্যে ২০ আসামির মামলা থেকে অব্যাহতির শুনানি করেন তাদের আইনজীবীরা। এক পর্যায়ে এসে মামলার বদলির আদেশ এলো।

‎‎মামলার ২৮৬ আসামির মধ্যে ২৫৫ জনই পলাতক রয়েছেন।সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩০ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। এক আসামি জামিনে রয়েছেন।

‎‎কারাগারে থাকা অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন-খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন, চট্টগ্রাম ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ প্রধান কবিরুল ইসলাম আকাশ, ‘জয় বাংলা ব্রিগেড বরিশাল বিভাগের অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সোহানা পারভীন রুনা, হাফিজুর রহমান ইকবাল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মধু, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আল মারুফ, ‎এলাহী নেওয়াজ মাছুম, সাজ্জাদুল আনাম।

‎‎২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে সেখানেই আছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাকেসহ ২৫৯ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার কার্যক্রম চলছে।

‎‎সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক গত ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এ মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।

‎‎১৪ অগাস্ট চার্জশিট গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর পলাতক ২৫৬ জনকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বলা হয়।

‎‎মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এ সময় শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের সামনে ‘দেশবিরোধী’ বক্তব্য দেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। এ বক্তব্য সারাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

হাসিনার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ‎দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বদলি

আপডেট টাইম : ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের ‎‘জয় বাংলা ব্রিগেডের’ জুম মিটিং সংক্রান্ত ‎রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে।

‎‎মামলাটি ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে চার্জ গঠনের পর্যায়ে ছিল। কিন্তু দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে গত ২৩ ফ্রেব্রুয়ারি পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। যা আজ সোমবার জানা গেছে। আগামী ৯ মার্চ শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

‎‎এর আগে গত ২১ জানুয়ারি মামলাটিতে চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন।

এরপর এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ৩০ আসামির মধ্যে ২০ আসামির মামলা থেকে অব্যাহতির শুনানি করেন তাদের আইনজীবীরা। এক পর্যায়ে এসে মামলার বদলির আদেশ এলো।

‎‎মামলার ২৮৬ আসামির মধ্যে ২৫৫ জনই পলাতক রয়েছেন।সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩০ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। এক আসামি জামিনে রয়েছেন।

‎‎কারাগারে থাকা অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন-খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন, চট্টগ্রাম ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ প্রধান কবিরুল ইসলাম আকাশ, ‘জয় বাংলা ব্রিগেড বরিশাল বিভাগের অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সোহানা পারভীন রুনা, হাফিজুর রহমান ইকবাল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মধু, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আল মারুফ, ‎এলাহী নেওয়াজ মাছুম, সাজ্জাদুল আনাম।

‎‎২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে সেখানেই আছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাকেসহ ২৫৯ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার কার্যক্রম চলছে।

‎‎সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক গত ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এ মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।

‎‎১৪ অগাস্ট চার্জশিট গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর পলাতক ২৫৬ জনকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বলা হয়।

‎‎মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এ সময় শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের সামনে ‘দেশবিরোধী’ বক্তব্য দেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। এ বক্তব্য সারাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।