ঢাকা , সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম প্রত্যাহার

হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও দানের ঐতিহাসিক ডেগ সিলগালা করার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে।

আজ রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতি প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসক পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব পদে বদলিপূর্বক পদায়ন করা হয়েছে।

তবে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ বা সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট আদেশে উল্লেখ নেই।

জানা যায়, সিলেটে যোগ দেওয়ার পর এই জেলা প্রশাসকের কিছু কর্মকান্ড প্রশংসিত হলেও সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। কয়েক’শ বছরের রেওয়াজ ভেঙে গত বৃহস্পতিবার মাজারের দানের ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স বসানো হয়। দানবক্সের পাহরায় বসানো হয় আনসার ও সিসি ক্যামেরা।

এ তথ্য নিশ্চিত করে ডিসি মো. সারওয়ার আলম জানান, তাকে সোমবারই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

মাজারের দানের টাকার ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাজার সংশ্লিস্টদের দাবি, মাজারবিরোধী একটি চক্রের ইন্ধনে মাজারে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। যা প্রায় ৭শ বছরের ইতিহ্য ও রেওয়াজের পরিপন্থী।

গত ১২ জুন মাজার পরিদর্শনে গিয়ে দানবাক্সে তালা লাগানোর নির্দেশ দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। এরপর ১৮ জুন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং দানের ব্যবহৃত পুরোনো তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ সিলগালা করা হয়। নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয় আনসার সদস্যও।

এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে ওই রাতেই দরগাহ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন একদল ভক্ত। তারা প্রশাসনের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

দরগাহের খাদিম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না এই পদক্ষেপকে মাজার ও অলি-আউলিয়া বিরোধী কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে বলেন, হিসাব চাইতেই পারেন। কিন্তু জোর-জবরদস্তি করে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা চলছে, সেটা ঠিক নয়।

সমালোচনার মুখেও থেমে থাকেনি প্রশাসনের তৎপরতা। শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় মাজার প্রাঙ্গণে দানবাক্স ও সিলগালা করা ডেগগুলোর ওপর সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত আটটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয় পর্যায়ক্রমে মোট ১২টি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনার কথা জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা। তার মধ্যে প্রত্যাহাশ্লিষ্ট আদেশে উল্লেখ নেই।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৮ অগাস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদে পদায়ন করা হয়। এ ছাড়া ২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত ছিলেন সারওয়ার আলম। ভেজাল, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত এবং মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম প্রত্যাহার

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে

হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও দানের ঐতিহাসিক ডেগ সিলগালা করার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে।

আজ রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতি প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসক পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব পদে বদলিপূর্বক পদায়ন করা হয়েছে।

তবে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ বা সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট আদেশে উল্লেখ নেই।

জানা যায়, সিলেটে যোগ দেওয়ার পর এই জেলা প্রশাসকের কিছু কর্মকান্ড প্রশংসিত হলেও সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। কয়েক’শ বছরের রেওয়াজ ভেঙে গত বৃহস্পতিবার মাজারের দানের ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স বসানো হয়। দানবক্সের পাহরায় বসানো হয় আনসার ও সিসি ক্যামেরা।

এ তথ্য নিশ্চিত করে ডিসি মো. সারওয়ার আলম জানান, তাকে সোমবারই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

মাজারের দানের টাকার ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাজার সংশ্লিস্টদের দাবি, মাজারবিরোধী একটি চক্রের ইন্ধনে মাজারে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। যা প্রায় ৭শ বছরের ইতিহ্য ও রেওয়াজের পরিপন্থী।

গত ১২ জুন মাজার পরিদর্শনে গিয়ে দানবাক্সে তালা লাগানোর নির্দেশ দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। এরপর ১৮ জুন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং দানের ব্যবহৃত পুরোনো তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ সিলগালা করা হয়। নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয় আনসার সদস্যও।

এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে ওই রাতেই দরগাহ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন একদল ভক্ত। তারা প্রশাসনের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

দরগাহের খাদিম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না এই পদক্ষেপকে মাজার ও অলি-আউলিয়া বিরোধী কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে বলেন, হিসাব চাইতেই পারেন। কিন্তু জোর-জবরদস্তি করে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা চলছে, সেটা ঠিক নয়।

সমালোচনার মুখেও থেমে থাকেনি প্রশাসনের তৎপরতা। শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় মাজার প্রাঙ্গণে দানবাক্স ও সিলগালা করা ডেগগুলোর ওপর সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত আটটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয় পর্যায়ক্রমে মোট ১২টি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনার কথা জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা। তার মধ্যে প্রত্যাহাশ্লিষ্ট আদেশে উল্লেখ নেই।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৮ অগাস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদে পদায়ন করা হয়। এ ছাড়া ২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত ছিলেন সারওয়ার আলম। ভেজাল, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত এবং মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।