ঢাকা , সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, বিশেষ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবার সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’র সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শব্দদূষণ বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং মানুষকে বুঝাতে হবে যে অতিরিক্ত শব্দ কেবল পরিবেশ নয়, মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যেরও মারাত্মক ক্ষতি করে। শব্দদূষণের কারণে মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস, অনিদ্রা, মনোযোগে ব্যাঘাত, মানসিক অস্থিরতাসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হন।তিনি বলেন, অনেক চালক অপ্রয়োজনে হর্ন ব্যবহার করেন। অথচ সেই হর্নের শব্দের সবচেয়ে বড় ক্ষতিও ভোগ করেন তারাই। তাই অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানোর প্রবণতা বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগও জরুরি।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শব্দদূষণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত ও সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে শব্দদূষণমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দেশের বিভিন্ন এলাকাকে পর্যায়ক্রমে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বর্তমানে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের সড়কের লা মেরিডিয়ান হোটেল থেকে উত্তরা স্কলাস্টিকা সেকেন্ডারি স্কুল পর্যন্ত অংশকে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ সচিবালয়, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা এবং দেশের সব সিটি করপোরেশনের হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক এলাকাকেও নীরব এলাকার আওতায় আনা হয়েছে।পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রায়হান কাওছার, বিআরটিএর পরিচালক (অপারেশন) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালা শেষে মন্ত্রী দেশের ৬৪টি জেলা শহরে শব্দের মাত্রা পরিমাপসংক্রান্ত জরিপ প্রতিবেদন ‘সার্ভে রিপোর্টস অন নয়েজ লেভেল মেজারমেন্ট ইন ৬৪ ডিস্ট্রিক্টস টাউন’র মোড়ক উন্মোচন করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, বিশেষ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবার সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’র সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শব্দদূষণ বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং মানুষকে বুঝাতে হবে যে অতিরিক্ত শব্দ কেবল পরিবেশ নয়, মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যেরও মারাত্মক ক্ষতি করে। শব্দদূষণের কারণে মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস, অনিদ্রা, মনোযোগে ব্যাঘাত, মানসিক অস্থিরতাসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হন।তিনি বলেন, অনেক চালক অপ্রয়োজনে হর্ন ব্যবহার করেন। অথচ সেই হর্নের শব্দের সবচেয়ে বড় ক্ষতিও ভোগ করেন তারাই। তাই অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানোর প্রবণতা বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগও জরুরি।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শব্দদূষণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত ও সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে শব্দদূষণমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দেশের বিভিন্ন এলাকাকে পর্যায়ক্রমে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বর্তমানে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের সড়কের লা মেরিডিয়ান হোটেল থেকে উত্তরা স্কলাস্টিকা সেকেন্ডারি স্কুল পর্যন্ত অংশকে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ সচিবালয়, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা এবং দেশের সব সিটি করপোরেশনের হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক এলাকাকেও নীরব এলাকার আওতায় আনা হয়েছে।পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রায়হান কাওছার, বিআরটিএর পরিচালক (অপারেশন) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালা শেষে মন্ত্রী দেশের ৬৪টি জেলা শহরে শব্দের মাত্রা পরিমাপসংক্রান্ত জরিপ প্রতিবেদন ‘সার্ভে রিপোর্টস অন নয়েজ লেভেল মেজারমেন্ট ইন ৬৪ ডিস্ট্রিক্টস টাউন’র মোড়ক উন্মোচন করেন।