প্রাকৃতিক দুর্যোগের কোনো পূর্বাভাস না থাকলেও, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন কয়েক সেকেন্ড আগেই পাওয়া সম্ভব ভূমিকম্পের মারাত্মক কম্পনের খবর। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলো যেখানে টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় ঘন ঘন ভূকম্পনের ঝুঁকিতে থাকে, সেখানে এই প্রযুক্তি জীবন রক্ষাকারী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল নিয়ে এসেছে একটি বিশেষ ‘আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম’, যা ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড আগে ব্যবহারকারীকে সতর্ক বার্তা পাঠায়।
গুগলের এই বিশেষ প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীদের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলো একেকটি ছোট সিসমোমিটার (ভূকম্পন মাপক যন্ত্র) হিসেবে কাজ করে। ফোনের ভেতরে থাকা বিশেষ সেন্সর যখন কোনো অস্বাভাবিক কম্পন বা প্রাথমিক ধাক্কা সনাক্ত করে, তখন এটি তাৎক্ষণিকভাবে তার আনুমানিক লোকেশনসহ গুগলের মূল সার্ভারে ডেটা পাঠিয়ে দেয়। যখন একই নির্দিষ্ট এলাকা থেকে অনেকগুলো ডিভাইস একসাথে এই ধরণের সিগন্যাল পাঠাতে শুরু করে, তখন গুগলের কেন্দ্রীয় সিস্টেমটি ভূমিকম্প নিশ্চিত করে আক্রান্ত এলাকার মানুষের ফোনে দ্রুত অ্যালার্ট বা নোটিফিকেশন পাঠায়।
আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন ও ওয়াশিংটনের মতো উন্নত অঞ্চলে গুগল সরাসরি ‘সেকঅ্যালার্ট’ নামক একটি নেটওয়ার্কের ১,৬০০টিরও বেশি শক্তিশালী সিসমিক সেন্সরের সাথে যুক্ত হয়ে এই সেবা দিয়ে থাকে।
গুগলের দুই ধরণের সতর্কবার্তা
১। ভূমিকম্পের তীব্রতা বা ম্যাগনিচিউডের ওপর ভিত্তি করে গুগল সাধারণত দুই ধরণের অ্যালার্ট বা নোটিফিকেশন পাঠায়।
২। বি অ্যাওয়ার অ্যালার্ট সাধারণত ৪.৫ বা তার বেশি মাত্রার মৃদু কম্পনের ক্ষেত্রে এই সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এটি ফোনের সাধারণ নোটিফিকেশনের মতোই স্ক্রিনে ভেসে ওঠে।
৩। টেক অ্যাকশন অ্যালার্ট অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ও মারাত্মক কম্পনের ক্ষেত্রে এই জরুরি অ্যালার্টটি পাঠানো হয়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনার ফোনটি যদি ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডেও থাকে, তবুও এই নোটিফিকেশনটি ফোনের সব সেটিংস ভেদ করে অত্যন্ত জোরালো ও জরুরি সাইরেন শব্দে বেজে উঠবে, যাতে ব্যবহারকারী দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার সময় পান।
আপনার ফোনে যেভাবে চালু করবেন এই ফিচার
গুগলের এই আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার জন্য আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে সেটিংসটি চালু করতে হবে: আপনার ফোনটি অবশ্যই ‘অ্যান্ড্রয়েড ৫.০’ বা তার পরবর্তী সংস্করণের হতে হবে। ফোনে সবসময় ইন্টারনেট সংযোগ এবং লোকেশন সার্ভিস চালু থাকতে হবে।
চালু করার সহজ ধাপ:
১. প্রথমে আপনার ফোনের (সেটিংস) অপশনে প্রবেশ করুন।
২. স্ক্রল করে নিচে নেমে (নিরাপত্তা ও জরুরি অবস্থা) অপশনটিতে ট্যাপ করুন।
৩. যদি আপনার ফোনে এই অপশনটি সরাসরি না থাকে, তবে ‘লোকেশন’ অপশনে গিয়ে ‘অ্যাডভান্সে’ ক্লিক করুন।
৪. এবার মেনু থেকে ‘আর্থকোয়েক অ্যালার্ট’ অপশনটি সিলেক্ট করুন।
৫. সেখানে থাকা মূল সুইচ বা টগল বাটনটি বন্ধ থাকলে, তা ক্লিক করে চালু ‘অন’ করে দিন।
একবার এই সেটিংসটি সচল হয়ে গেলে, আপনি যখন ফোন ব্যবহার করবেন না বা ফোন লক করা থাকবে, তখনও ব্যাকগ্রাউন্ডে এটি সক্রিয় থাকবে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 

























