দেশের অর্থনীতিকে নতুন কাঠামোয় সাজানোর বার্তা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকার এবার পুরনো বাজেট কাঠামো থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ নতুনভাবে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সাজানো শুরু করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্রে হিসেবে বিনোদন খাতকে বড় ব্যবসায় রূপ দিতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ গড়ে তুলতে সংস্কৃতি, হস্তশিল্প এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তার মতে, ভবিষ্যতে এসব খাত জাতীয় জিডিপিতে বড় অবদান রাখবে।
তিনি বলেন, শুধু প্রচলিত শিল্প বা বাণিজ্যের ওপর নির্ভর না করে অর্থনীতিকে বহুমাত্রিক করতে হবে। আর সেই জায়গা থেকেই নতুন বাজেট ভাবনায় সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় আমির খসরু বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশের ক্যাপিটাল মার্কেট ও ব্যাংকিং খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। তিনি বলেন, নতুন নীতি ও সংস্কারের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে শেয়ারবাজার এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে পুনর্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে অর্থনৈতিক সংস্কারের নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বিকল্প অর্থনৈতিক খাতের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনাকে ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির অন্তর্বর্তী কমিটির আহ্বায়ক ড. মাহবুব উল্লাহ।
তিনি বলেন, লুটপাট, দুর্নীতি ও রেন্ট-সিকিংনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে না পারলে, শুধু বাজেট বা নীতিমালা দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 

























