অবশেষে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সারা দেশে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন।
রোববার (১২ জুলাই) রাজধানী ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশ করা হয়।
ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বৃত্তি প্রাপ্তিতে এগিয়ে আছে ছাত্রীরা। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন (৪৫.২৯ শতাংশ) এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪.৭১ শতাংশ)।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের ঘেষণা দেন। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমীন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ আয়োজন শুধু মেধা যাচাইয়ের একটি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রতিযোগিতামূলক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ‘প্রাথমিক বৃতি পরীক্ষা ২০২৫’-এর কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক, কারিগরি বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এ মোট ৭৯ হাজার ২৪৬টি ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। ট্যালেন্টপুলে মোট ৩২ হাজার ৯৬৫ জনের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬ হাজার ৫৯০ জন বৃত্তি পায়।
অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ২৮১ জন যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৯ হাজার ৮৬১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্ত মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন (৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ) এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ)।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ, স্বীকৃতি প্রদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে একটি জ্ঞানদীপ্ত প্রজন্ম উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী, দেশব্যাপী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এ মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যার মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ৩৩ হাজার এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে সরকারি বিদ্যালয়ে ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে ২০ শতাংশ বৃত্তি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তির ৪৯ হাজার ৫০০টির মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৯ হাজার ৬০০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক ৫টি করে বৃত্তি (২ জন বালক, ২ জন বালিকা এবং বাকি ১টি মেধার ভিত্তিতে) দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া, বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০ শতাংশ সাধারণ বৃত্তি রাখা হয়েছে।
এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি। মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন যেখানে ছাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ১১৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৪ জন। পরীক্ষায় মোট উপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন (৬৫.১১ শতাংশ), যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭জন (৬২.০১ শতাংশ) এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন (৮৪.১৬ শতাংশ)। উপস্থিত মোট পরীক্ষার্থীর ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪১ জন (৩৯.৬৮ শতাংশ) ছাত্র এবং ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪১ জন (৬০.৩২ শতাংশ) ছাত্রী।
বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ২২৫ টাকা করে বৃত্তি পাবে। পাশাপাশি উভয় শ্রেণির বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বছরে এককালীন ২২৫ টাকা করে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালীন দুই বছর তারা এই সুবিধা ভোগ করবে।
যেভাবে ফল জানা যাবে
যেকোনও মোবাইল অপারেটর থেকে মোবাইলের মেসেজ অপশনে DPE লিখে একটি স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে।
এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আইপিইএমআইএস (IPEMIS) ওয়েবসাইটে https://ipemis.dpe.gov.bd/scholarship-results ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা’ অপশন নির্বাচন করে রোল নম্বর, জেলা ও উপজেলার তথ্য দিয়ে বিস্তারিত ফলাফল ও মার্কশিট দেখা যাবে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 

























