ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খাবার থেকে শরীরে বাড়ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে যা বলছে বিজ্ঞান সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, কী বার্তা দিচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরকার ও বিএনপিতে বড় রদবদলের আভাস ভূমিকম্প-পরবর্তী জরুরি সেবা দিতে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল ভুবন ভোলানো হাসিতে মন জয় করা সেই তাহসিন মোদির আমন্ত্রণ রিভিউ করছে ঢাকা বাংলাদেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন কৃষকের ‘কপাল পুড়িয়ে’ ভেকু দিয়ে খাল খনন খাদ্য নিরাপত্তা-কৃষকের স্বার্থে এগ্রিভোল্টাইক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে

খাদ্য নিরাপত্তা-কৃষকের স্বার্থে এগ্রিভোল্টাইক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, একই জমিতে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে এগ্রিভোল্টাইক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের অধিকার, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং সুফলের ন্যায্য বণ্টন প্রতিটি এগ্রিভোল্টাইক উদ্যোগের কেন্দ্রে রাখতে হবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকায় আয়োজিত ‘ন্যাশনাল এগ্রিভোল্টাইকস ওয়ার্কশপ : এক্সপ্লোরিং লোকাল অ্যাকশন মডেল ফর ইনক্লুসিভ গ্রোথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে এগ্রিভোল্টাইকসের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে কর্মশালায় সরকারি প্রতিনিধি, গবেষক, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং ব্যবসায়ী নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ, খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ ও পরিবর্তিত বৃষ্টিপাতের ধরনসহ মারাত্মক জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে বাংলাদেশ। এসব প্রভাব দেশের কৃষি, পানিসম্পদ, অবকাঠামো ও গ্রামীণ জীবিকার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে দেশে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানির চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।

তিনি জানান, এনডিসি ৩ দশমিক ০ এর আওতায় বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দেশের সীমিত ভূমি এবং উচ্চ জনঘনত্ব বিবেচনায় বৃহৎ আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে উৎপাদনশীল কৃষিজমির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা সৃষ্টি না হয়।

মন্ত্রী বলেন, এগ্রিভোল্টাইক একটি সম্ভাবনাময় সমাধান। কারণ এর মাধ্যমে একই জমিতে সৌর ফটোভোল্টাইক ব্যবস্থা এবং কৃষি উৎপাদন পরিচালনা করা যায়। যথাযথভাবে পরিকল্পিত ব্যবস্থা ফসল চাষ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। এটি বাষ্পীভবন কমানো, পানির ব্যবহার দক্ষ করা এবং কৃষকের অতিরিক্ত আয় সৃষ্টিতেও সহায়তা করতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫-এ এগ্রিভোল্টাইককে একটি সম্ভাবনাময় নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি প্রকল্পে অর্থবহ কৃষি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে সৌর কাঠামোর নকশা, প্যানেলের উচ্চতা, ব্যবধান ও অবস্থান যেন ফসল উৎপাদনে সহায়ক হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

পরিবেশমন্ত্রী এগ্রিভোল্টাইক মডেলের কেন্দ্রে কৃষকদের রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের কারণে কৃষক যেন জমিতে প্রবেশাধিকার হারিয়ে না ফেলেন কিংবা অধিকাংশ সুবিধা অন্যরা ভোগ করার বিপরীতে কৃষক যেন কেবল সাময়িক ও সীমিত অর্থ না পান। বরং কৃষকের কৃষিভিত্তিক জীবিকা সুরক্ষিত রেখে প্রকল্পগুলোকে অতিরিক্ত ও পূর্বানুমানযোগ্য আয় নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এগ্রিভোল্টাইক থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সৌরসেচ, হিমাগার, ফসল শুকানো, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল গ্রামীণ কার্যক্রমে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি ব্যবস্থা বিদ্যুৎ গ্রিডের নির্ভরযোগ্যতা সীমিত এমন এলাকার জনগোষ্ঠীর সহনশীলতাও বৃদ্ধি করতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

খাবার থেকে শরীরে বাড়ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে যা বলছে বিজ্ঞান

খাদ্য নিরাপত্তা-কৃষকের স্বার্থে এগ্রিভোল্টাইক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, একই জমিতে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে এগ্রিভোল্টাইক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের অধিকার, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং সুফলের ন্যায্য বণ্টন প্রতিটি এগ্রিভোল্টাইক উদ্যোগের কেন্দ্রে রাখতে হবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকায় আয়োজিত ‘ন্যাশনাল এগ্রিভোল্টাইকস ওয়ার্কশপ : এক্সপ্লোরিং লোকাল অ্যাকশন মডেল ফর ইনক্লুসিভ গ্রোথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে এগ্রিভোল্টাইকসের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে কর্মশালায় সরকারি প্রতিনিধি, গবেষক, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং ব্যবসায়ী নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ, খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ ও পরিবর্তিত বৃষ্টিপাতের ধরনসহ মারাত্মক জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে বাংলাদেশ। এসব প্রভাব দেশের কৃষি, পানিসম্পদ, অবকাঠামো ও গ্রামীণ জীবিকার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে দেশে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানির চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।

তিনি জানান, এনডিসি ৩ দশমিক ০ এর আওতায় বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দেশের সীমিত ভূমি এবং উচ্চ জনঘনত্ব বিবেচনায় বৃহৎ আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে উৎপাদনশীল কৃষিজমির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা সৃষ্টি না হয়।

মন্ত্রী বলেন, এগ্রিভোল্টাইক একটি সম্ভাবনাময় সমাধান। কারণ এর মাধ্যমে একই জমিতে সৌর ফটোভোল্টাইক ব্যবস্থা এবং কৃষি উৎপাদন পরিচালনা করা যায়। যথাযথভাবে পরিকল্পিত ব্যবস্থা ফসল চাষ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। এটি বাষ্পীভবন কমানো, পানির ব্যবহার দক্ষ করা এবং কৃষকের অতিরিক্ত আয় সৃষ্টিতেও সহায়তা করতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫-এ এগ্রিভোল্টাইককে একটি সম্ভাবনাময় নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি প্রকল্পে অর্থবহ কৃষি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে সৌর কাঠামোর নকশা, প্যানেলের উচ্চতা, ব্যবধান ও অবস্থান যেন ফসল উৎপাদনে সহায়ক হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

পরিবেশমন্ত্রী এগ্রিভোল্টাইক মডেলের কেন্দ্রে কৃষকদের রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের কারণে কৃষক যেন জমিতে প্রবেশাধিকার হারিয়ে না ফেলেন কিংবা অধিকাংশ সুবিধা অন্যরা ভোগ করার বিপরীতে কৃষক যেন কেবল সাময়িক ও সীমিত অর্থ না পান। বরং কৃষকের কৃষিভিত্তিক জীবিকা সুরক্ষিত রেখে প্রকল্পগুলোকে অতিরিক্ত ও পূর্বানুমানযোগ্য আয় নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এগ্রিভোল্টাইক থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সৌরসেচ, হিমাগার, ফসল শুকানো, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল গ্রামীণ কার্যক্রমে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি ব্যবস্থা বিদ্যুৎ গ্রিডের নির্ভরযোগ্যতা সীমিত এমন এলাকার জনগোষ্ঠীর সহনশীলতাও বৃদ্ধি করতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।