ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ ‘আদিবাসী’ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে: প্রধানমন্ত্রী সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী অধিনায়ক হলে গোল উদযাপন করার সময় পাবেন না হালান্ড সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব নিয়োগ রাষ্ট্রপতি ভোটের বৈঠক আহ্বান করলেন সিইসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতার কাছাকাছি—দাবি পাকিস্তানের পানিতে তলিয়ে আছে কমিউনিটি ক্লিনিক, নেই স্বাস্থ্যসেবা রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ‘প্রায় চূড়ান্ত’, নতুন মহাসচিব কে?

‘গুলি করি, মরে একটা; বাকিডি যায় না’-বলা সেই পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

‘গুলি করি, মরে একটা… একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনকালে এমন মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ইকবাল হোসাইন। অভ্যুত্থানের দুই বছর পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকার এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি সূত্রে জানা যায়, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা ইকবাল হোসাইন ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হলেও কারণ দর্শানোর একাধিক নোটিশের কোনো জবাব দেননি তিনি। পরবর্তীকালে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ এবং বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে এই চূড়ান্ত গুরুদণ্ড আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর বিবরণ দিতে গিয়ে ইকবাল হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না।’

ইকবাল হোসাইন ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রাজন কুমার দাসসহ মোট পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বরখাস্তের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ ‘আদিবাসী’ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘গুলি করি, মরে একটা; বাকিডি যায় না’-বলা সেই পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে

‘গুলি করি, মরে একটা… একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনকালে এমন মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ইকবাল হোসাইন। অভ্যুত্থানের দুই বছর পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকার এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি সূত্রে জানা যায়, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা ইকবাল হোসাইন ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হলেও কারণ দর্শানোর একাধিক নোটিশের কোনো জবাব দেননি তিনি। পরবর্তীকালে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ এবং বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে এই চূড়ান্ত গুরুদণ্ড আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর বিবরণ দিতে গিয়ে ইকবাল হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না।’

ইকবাল হোসাইন ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রাজন কুমার দাসসহ মোট পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বরখাস্তের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।