ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে হবে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি : প্রধানমন্ত্রী জানাল জেদ্দা কনস্যুলেট পৃথক অভিযোগে সৌদির কারাগারে ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নজরুল-সুইটি হাজারো ডিসেম্বর আসবে, কিন্তু শেখ হাসিনা আসবে না ৩৮ হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নভেম্বর থেকে ঢাকায় নতুন নিয়ম, এক রুটে চলবে এক কোম্পানির বাস ইয়েমেনে হুথিদের হামলায় নিহত ৭৩ বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারত টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি, মুম্বাইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন মিকা সিং

ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার প্রতিরোধে ভ্যাকসিন পরীক্ষা, ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দ্বার

ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখিয়েছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্ড কোম্পানি (এমএসডি) ও মডার্না। অস্ত্রোপচারের পর উচ্চঝুঁকির মেলানোমা রোগীদের একটি বিশেষ ভ্যাকসিনের সঙ্গে ইমিউনোথেরাপি ওষুধ ব্যবহার করে আশাব্যঞ্জক

ফল পাওয়ার দাবি করেছে এই প্রতিষ্ঠান দুটি। ‘ইনটিসমেরান’ নামের এই ভ্যাকসিনটি প্রতিটি রোগীর ক্যানসারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদাভাবে তৈরি করা হয়। এ কারণে এটিকে ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার ভ্যাকসিন’বলা হয়।

ভ্যাকসিনটি তৈরির জন্য প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর টিউমারের সামান্য অংশ সংগ্রহ করা হয়। এরপর ডিএনএ পরীক্ষা করে ক্যানসার কোষের নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে রোগীর জন্য বিশেষ এমআরএনএ ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে আক্রমণ করতে সাহায্য করে।

ফেজ-৩ পর্যায়ের এই গবেষণায় এক হাজারের বেশি উচ্চঝুঁকির মেলানোমা রোগী অংশ নেন। অস্ত্রোপচারের পর একদল রোগীকে শুধু কিট্রুডা (আধুনিক ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধ) দেওয়া হয়, অন্যদলকে কিট্রুডার সঙ্গে ব্যক্তিভিত্তিক ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ভ্যাকসিন ও কিট্রুডা একসঙ্গে নেওয়া রোগীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ক্যানসারমুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি শরীরের অন্য অংশে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমেছে। তবে এই সুফল কতদিন স্থায়ী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান দুটি।

এনএইচএস ইংল্যান্ডের ক্যানসার বিভাগের জাতীয় ক্লিনিক্যাল পরিচালক অধ্যাপক পিটার জনসন বলেন, নতুন এই পদ্ধতি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে আরও নির্দিষ্টভাবে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. লেনার্ড লিও মনে করেন, এই গবেষণা ভবিষ্যতে রোগীর নিজের ক্যানসারকে লক্ষ্য করে তৈরি ভ্যাকসিন ব্যবহারের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে। মেলানোমার পাশাপাশি ফুসফুস, মূত্রথলি ও কিডনি ক্যানসারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যক্তিভিত্তিক ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষা করছে মডার্না ও এমএসডি। তবে চিকিৎসাটি সাধারণ রোগীদের জন্য চালু করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

গবেষণাটির আরও বিস্তারিত ফলাফল আগামী অক্টোবরে একটি মেডিকেল সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন মডার্না ও এমএসডি নামক প্রতিষ্ঠান দুটি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে হবে

ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার প্রতিরোধে ভ্যাকসিন পরীক্ষা, ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দ্বার

আপডেট টাইম : ০৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখিয়েছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্ড কোম্পানি (এমএসডি) ও মডার্না। অস্ত্রোপচারের পর উচ্চঝুঁকির মেলানোমা রোগীদের একটি বিশেষ ভ্যাকসিনের সঙ্গে ইমিউনোথেরাপি ওষুধ ব্যবহার করে আশাব্যঞ্জক

ফল পাওয়ার দাবি করেছে এই প্রতিষ্ঠান দুটি। ‘ইনটিসমেরান’ নামের এই ভ্যাকসিনটি প্রতিটি রোগীর ক্যানসারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদাভাবে তৈরি করা হয়। এ কারণে এটিকে ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার ভ্যাকসিন’বলা হয়।

ভ্যাকসিনটি তৈরির জন্য প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর টিউমারের সামান্য অংশ সংগ্রহ করা হয়। এরপর ডিএনএ পরীক্ষা করে ক্যানসার কোষের নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে রোগীর জন্য বিশেষ এমআরএনএ ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে আক্রমণ করতে সাহায্য করে।

ফেজ-৩ পর্যায়ের এই গবেষণায় এক হাজারের বেশি উচ্চঝুঁকির মেলানোমা রোগী অংশ নেন। অস্ত্রোপচারের পর একদল রোগীকে শুধু কিট্রুডা (আধুনিক ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধ) দেওয়া হয়, অন্যদলকে কিট্রুডার সঙ্গে ব্যক্তিভিত্তিক ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ভ্যাকসিন ও কিট্রুডা একসঙ্গে নেওয়া রোগীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ক্যানসারমুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি শরীরের অন্য অংশে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমেছে। তবে এই সুফল কতদিন স্থায়ী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান দুটি।

এনএইচএস ইংল্যান্ডের ক্যানসার বিভাগের জাতীয় ক্লিনিক্যাল পরিচালক অধ্যাপক পিটার জনসন বলেন, নতুন এই পদ্ধতি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে আরও নির্দিষ্টভাবে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. লেনার্ড লিও মনে করেন, এই গবেষণা ভবিষ্যতে রোগীর নিজের ক্যানসারকে লক্ষ্য করে তৈরি ভ্যাকসিন ব্যবহারের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে। মেলানোমার পাশাপাশি ফুসফুস, মূত্রথলি ও কিডনি ক্যানসারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যক্তিভিত্তিক ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষা করছে মডার্না ও এমএসডি। তবে চিকিৎসাটি সাধারণ রোগীদের জন্য চালু করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

গবেষণাটির আরও বিস্তারিত ফলাফল আগামী অক্টোবরে একটি মেডিকেল সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন মডার্না ও এমএসডি নামক প্রতিষ্ঠান দুটি।