প্রায় দুই দশক পর নকশায় পরিবর্তন এনে প্রথমবারের মতো ফোল্ডেবল আইফোন আনতে যাচ্ছে অ্যাপল। ভাঁজ খুললেই সামনে চলে আসবে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির বড় পর্দা। নতুন এই ফোনের নাম ‘আইফোন ডুও’। এর দাম শুরু হচ্ছে এক হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে।
ভাঁজ করা অবস্থায় ফোনটি সাধারণ স্মার্টফোনের মতো ব্যবহার করা যাবে। আর খুলে ফেললেই পাওয়া যাবে বড় পর্দা। অনুভূমিক কিংবা উল্লম্ব—দুইভাবেই ব্যবহার করা যাবে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ডিসপ্লে।
অ্যাপলের দাবি, খোলা অবস্থায় এটিই তাদের সবচেয়ে পাতলা আইফোন। তবে চীনা নির্মাতাদের ফোল্ডেবল ফোনের তুলনায় আইফোন ডুও কিছুটা মোটা।
নতুন আইফোনের নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে টাইটানিয়াম বডি ও বিশেষভাবে তৈরি হিঞ্জ। অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাসের নেতৃত্বে এটি প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় পণ্য পরিবর্তন।
টার্নাসের ভাষ্য, বাজারের অনেক ফোল্ডেবল ফোন দেখতে আকর্ষণীয় হলেও দৈনন্দিন ব্যবহারে সেগুলো খুব একটা সুবিধাজনক নয়। তাই আইফোন ডুওকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি সহজে পকেটে রাখা যায় এবং প্রয়োজন হলে আইপ্যাডের মতো বড় পর্দার অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়।
শুধু বিনোদন নয়, কাজের ক্ষেত্রেও ডুওকে কার্যকর করতে চায় অ্যাপল। এতে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো যাবে এবং বড় পর্দায় একাধিক উইন্ডো খোলা রাখা যাবে। জুম কলে একসঙ্গে অনেক অংশগ্রহণকারী দেখা যাবে। পাশাপাশি স্ল্যাকের বার্তাও তুলনামূলক বড় পরিসরে দেখা যাবে।
ফোনটির ভেতরে থাকছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ। সঙ্গে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সি২ মডেম। কোয়ালকমের চিপের ওপর নির্ভরতা কমানোর ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ব্যাটারির ক্ষেত্রেও বড় দাবি করেছে অ্যাপল। ডুয়াল স্ক্রিন মিলিয়ে মিশ্র ব্যবহারে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। মাত্র ২০ মিনিটে ব্যাটারি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে প্রশ্ন হলো, প্রায় দুই হাজার ডলারের এই ফোল্ডেবল আইফোন কতটা জনপ্রিয় হবে?
বিশ্লেষকেরা অবশ্য অ্যাপলের এই বাজারে প্রবেশ নিয়ে আশাবাদী। ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশন (আইডিসি) পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী বছরের শেষ নাগাদ ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে অ্যাপলের দখল হতে পারে প্রায় ৪০ শতাংশ।
বর্তমানে ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে স্যামসাং ও হুয়াওয়ের মতো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে চীনের বাজারে হুয়াওয়ের অবস্থান শক্তিশালী। ফলে অ্যাপলের জন্য চীনের বাজারে প্রতিযোগিতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
আইফোন ডুওর পাশাপাশি আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্সও উন্মোচন করেছে অ্যাপল। এগুলোর দাম শুরু হচ্ছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৯৯ ও ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে।
এ ছাড়া নতুন এয়ারপডসের দাম শুরু হচ্ছে ১২৯ ডলার থেকে। অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ ও ওয়াচ আলট্রা ৪-এ এসেছে স্বাস্থ্য ও ফিটনেসকেন্দ্রিক বেশ কিছু নতুন সুবিধা।
সব মিলিয়ে, অ্যাপলের এবারের আয়োজন শুধু নতুন কয়েকটি পণ্য উন্মোচনের ঘটনা নয়। ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে এটি বড় এক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, প্রায় দুই হাজার ডলারের এই আইফোন সত্যিই ফোল্ডেবল ফোনকে মূলধারার বাজারে নিয়ে যেতে পারে কি না।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























