ফিফা আসিয়ান কাপ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ তিন ম্যাচই হেরেছে। সব মিলিয়ে ১৩ গোলের বিপক্ষে ২ গোল দিয়েছে বাংলাদেশ। অথচ প্রবাসী ফুটবলারের সংখ্যা বাড়ায় আশা করা গিয়েছিল ভালো কিছু করবে। না, যে পারফরম্যান্স তাতে লজ্জা ছাড়া আর কিছু দিতে পারেননি জামাল ভূঁইয়ারা। শুরুতেই মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরেছে। সিঙ্গাপুর হারিয়েছে ১ গোলে। তবে নির্লজ্জতার শেষ পর্যায়ে নিয়ে গেছে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি। একে তো স্বাগতিক, তার ওপর আবার র্যাংকিং ও মানে এগিয়ে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের হার স্বাভাবিক ছিল। তাই বলে ব্যবধান ৯-২-এ দাঁড়াবে তা কোনোভাবেই মানা যায় না।
ইন্দোনেশিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে—প্রবাসী ফুটবলাররা আর কতদূর এগিয়ে নিতে পারবেন জাতীয় দলকে? তবে সবকিছু ছাপিয়ে গেছে ৯ গোলে হারার পর নাইট ক্লাবের ঘটনা। পরাজিত ফুটবলাররা তো বটেই, এমন হারে ক্রীড়াপ্রেমীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। কিন্তু ম্যাচের পর দুই ফুটবলারের কাে শুধু সমালোচনা নয়, নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাদউদ্দিন ও সোহেল রানা (ছোট) দুজনই দেশের পরিচিত ফুটবলার। তাঁদের ভক্তের সংখ্যা একেবারে কম নয়। তাঁরা যে কতটা নির্ভরযোগ্য ফুটবলার তার প্রমাণ মেলে বড় ক্লাবে খেলায়। এবার দুজনই খেলবেন মোহামেডানে।
ভালো খেলেন বলেই তো বারবার জাতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু এ কী করলেন তাঁরা? যে ঘটনা ঘটিযেছেন তা ‘রোম যখন পুড়ছে নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছে’-এর মতো। ৯ গোলে হারের পর পুরো দল যখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, তখন সাদ ও সোহেল রানাকে দেখা গেল নাইট ক্লাবে ফুর্তি করতে! সমাজমাধ্যমে সেই ছবি এখন ভাইরাল। তিন নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যাচ্ছে দুই ফুটবলারকে। যে তিন নারী ছিলেন তাদেরই একজন ছবিটি পোস্ট করেন। নাইট ক্লাবে দুই ফুটবলারকে সতেজই দেখা গেল। অথচ মাঠে নিস্তেজ! যদিও সাদ বলছেন, ছবিটি জাকার্তার নয়। নেপাল ভ্রমণে তাঁরা রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন তখন ছবিটি তোলা। এমন হারে দেশের ফুটবল অঙ্গন মুষড়ে পড়েছে। অথচ ফুটবলাররা ফুর্তিতে ব্যস্ত!
সাদ কী বলছেন বা তাঁর কথা সত্যি কি না এটা পরের প্রশ্ন। বাফুফে এখন কী করবে সেটাই বড় ব্যাপার। জাতীয় দলের সাবেক নন্দিত ফুটবলার শেখ মো. আসলাম বলেন, ‘৯ গোলে হারাটা অবশ্যই লজ্জার। কিন্তু আমি অবাক হয়েছি ফেসবুকে দুই ফুটবলারের ছবি দেখে। শোচনীয় হারের পর ওরা নাইট ক্লাবে ছুটে গেল কীভাবে? তারপর আবার যে ছবি পোজ দিয়েছে তা আমাদের সমাজে বেমানান। একজন খেলোয়াড় বলেছে এ ছবি আগের। কে কী বলল সেটা বড় কথা নয়। বাফুফের অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করা উচিত। যদি ঘটনার প্রমাণ মেলে, ব্যবস্থা নিতে হবে। এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। দেখা গেছে জাতীয় দলের হয়ে বিদেশে খেলতে গিয়ে হোটেল ছেড়ে কেউ কেউ নাইট ক্লাবে সময় পার করতেন বা জুয়ায় মাতোয়ারা থাকতেন। এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই ফুটবলের বেহাল দশা। এখন তো পেশাদারি যুগ, কোনো অবস্থায়ই ছাড় দেওয়া যাবে না। দোষী বা নির্দোষ তা তদন্ত করে দেখতে হবে।’

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























