ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনমুখী পুলিশিংয়ের মূল ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা অর্জন : আইজিপি এআই-সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্সে গবেষণায় তরুণদের নীতিসহায়তার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর: স্বপন প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪ স্তরের নিরাপত্তা প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও পরিকল্পনার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিন কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার ১৪ সঠিক প্যারেন্টিং যেভাবে গড়ে দেয় শিশুর ভবিষ্যৎ তারপরও দলে উন্নতির ছাপ দেখছেন হামজা খায়রুল বাসার-সাদনিমা জুটির ‘তোমার ঠিকানায়’ পাকিস্তান কেন রূপপুর প্রকল্পের ইউরেনিয়াম বহনের অনুমতি দেয়নি

তারপরও দলে উন্নতির ছাপ দেখছেন হামজা

ফলাফল পক্ষে না এলেও বাংলাদেশের ফুটবলে উন্নতির ছাপ দেখছেন হামজা চৌধুরী। জাতীয় দলের হয়ে গত দেড় বছরে ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেলেও সামনে আরও ভালো কিছু অপেক্ষা করছে বলে বিশ্বাস তার। ফিফা আসিয়ান কাপে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হারের পর বাংলাদেশকে এখনও ‘গড়ে ওঠার পথে থাকা দল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এই মিডফিল্ডার।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের পর ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হামজা বলেন, জাতীয় দলের সঙ্গে সময়টা তার জন্য দারুণ অভিজ্ঞতার। তবে সাফল্যের তুলনায় কঠিন সময়ই বেশি এসেছে। সেই কঠিন সময় পেরিয়েই বাংলাদেশকে আরও শক্ত অবস্থানে নেওয়ার কাজ চলছে বলে মনে করেন তিনি।
হামজার ভাষায়, ‘ব্যক্তিগতভাবে এটি আমার জন্য অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আলহামদুলিল্লাহ, অবশ্যই ওঠানামা আছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন পর্যন্ত ভালো সময়ের চেয়ে কঠিন মুহূর্তই বেশি এসেছে। তবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং আরও ভালো কিছুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’
আসিয়ান কাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম। হামজার মতে, সেটিই দলটির উন্নতির বড় একটি জায়গা। শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিয়মিত খেললে নিজেদের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি উন্নতির সুযোগও তৈরি হয়।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের ম্যাচটির প্রসঙ্গও আসে তার কথায়। হামজার মতে, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশ আরও ভালো খেলেছে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরুটা ধীর হওয়ায় পরে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছিল বলেও জানান তিনি।
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ধাপ এগিয়ে। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে সেই ব্যবধান সবসময় চোখে পড়েনি বলে মনে করেন হামজা। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এই পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারাটা দারুণ। তারা র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের ওপরে। কিন্তু মাঠের কিছু মুহূর্ত দেখলে সেই ব্যবধান বোঝা যায় না। তাই নিশ্চয়ই আমরা কিছু একটা ঠিকঠাক করছি।’
বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাকে একটি অসম্পূর্ণ পাজলের সঙ্গে তুলনা করেছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই ফুটবলার। তার মতে, কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যেতে দলকে আরও কয়েকটি জায়গায় উন্নতি করতে হবে। হামজা বলেন, ‘আমরা এখনও পাজলের শেষ দুই-তিনটি টুকরো খুঁজছি। আশা করি সেগুলো ঠিকভাবে মিলিয়ে নিতে পারব।’
আসিয়ান কাপের পর বাংলাদেশের সামনে রয়েছে ঘরের মাঠে নভেম্বরের বড় টুর্নামেন্ট। সেটিকেই এখন পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন হামজা। তার আশা, বর্তমান দলগত ভিত্তিকে আরও শক্ত করে সেই আসরে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ নিয়েও সতর্ক হামজা। স্বাগতিকদের দলে ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা একাধিক ফুটবলার থাকায় ম্যাচটি কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি। তবে শক্তিশালী দলের বিপক্ষেই নিজেদের উন্নতি যাচাই করতে চান বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার।
হামজা বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া খুব ভালো দল। তাদের অনেক খেলোয়াড় ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলছে। তাই এটিও আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে। তবে আমরা এখানে এসেছি এমন দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই, যারা বর্তমানে আমাদের চেয়ে এগিয়ে।’
Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

জনমুখী পুলিশিংয়ের মূল ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা অর্জন : আইজিপি

তারপরও দলে উন্নতির ছাপ দেখছেন হামজা

আপডেট টাইম : ৩ ঘন্টা আগে
ফলাফল পক্ষে না এলেও বাংলাদেশের ফুটবলে উন্নতির ছাপ দেখছেন হামজা চৌধুরী। জাতীয় দলের হয়ে গত দেড় বছরে ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেলেও সামনে আরও ভালো কিছু অপেক্ষা করছে বলে বিশ্বাস তার। ফিফা আসিয়ান কাপে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হারের পর বাংলাদেশকে এখনও ‘গড়ে ওঠার পথে থাকা দল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এই মিডফিল্ডার।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের পর ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হামজা বলেন, জাতীয় দলের সঙ্গে সময়টা তার জন্য দারুণ অভিজ্ঞতার। তবে সাফল্যের তুলনায় কঠিন সময়ই বেশি এসেছে। সেই কঠিন সময় পেরিয়েই বাংলাদেশকে আরও শক্ত অবস্থানে নেওয়ার কাজ চলছে বলে মনে করেন তিনি।
হামজার ভাষায়, ‘ব্যক্তিগতভাবে এটি আমার জন্য অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আলহামদুলিল্লাহ, অবশ্যই ওঠানামা আছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন পর্যন্ত ভালো সময়ের চেয়ে কঠিন মুহূর্তই বেশি এসেছে। তবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং আরও ভালো কিছুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’
আসিয়ান কাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম। হামজার মতে, সেটিই দলটির উন্নতির বড় একটি জায়গা। শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিয়মিত খেললে নিজেদের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি উন্নতির সুযোগও তৈরি হয়।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের ম্যাচটির প্রসঙ্গও আসে তার কথায়। হামজার মতে, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশ আরও ভালো খেলেছে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরুটা ধীর হওয়ায় পরে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছিল বলেও জানান তিনি।
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ধাপ এগিয়ে। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে সেই ব্যবধান সবসময় চোখে পড়েনি বলে মনে করেন হামজা। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এই পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারাটা দারুণ। তারা র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের ওপরে। কিন্তু মাঠের কিছু মুহূর্ত দেখলে সেই ব্যবধান বোঝা যায় না। তাই নিশ্চয়ই আমরা কিছু একটা ঠিকঠাক করছি।’
বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাকে একটি অসম্পূর্ণ পাজলের সঙ্গে তুলনা করেছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই ফুটবলার। তার মতে, কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যেতে দলকে আরও কয়েকটি জায়গায় উন্নতি করতে হবে। হামজা বলেন, ‘আমরা এখনও পাজলের শেষ দুই-তিনটি টুকরো খুঁজছি। আশা করি সেগুলো ঠিকভাবে মিলিয়ে নিতে পারব।’
আসিয়ান কাপের পর বাংলাদেশের সামনে রয়েছে ঘরের মাঠে নভেম্বরের বড় টুর্নামেন্ট। সেটিকেই এখন পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন হামজা। তার আশা, বর্তমান দলগত ভিত্তিকে আরও শক্ত করে সেই আসরে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ নিয়েও সতর্ক হামজা। স্বাগতিকদের দলে ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা একাধিক ফুটবলার থাকায় ম্যাচটি কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি। তবে শক্তিশালী দলের বিপক্ষেই নিজেদের উন্নতি যাচাই করতে চান বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার।
হামজা বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া খুব ভালো দল। তাদের অনেক খেলোয়াড় ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলছে। তাই এটিও আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে। তবে আমরা এখানে এসেছি এমন দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই, যারা বর্তমানে আমাদের চেয়ে এগিয়ে।’