ঢাকা , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সংলাপ, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইবে বাংলাদেশ ফেব্রুয়ারির কত তারিখে রোজা শুরু হতে পারে মনিরুলসহ চারজনের সাড়ে ১৯ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ হাঁটুব্যথা যে কারণে হয় এবং এ রোগের সঠিক চিকিৎসাপদ্ধতি সব ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মাচরণের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: আইজিপি মিষ্টির আসনে ৭০টি ফরম বিক্রি করল বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজ গঠনের আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার ৮-১০ লাখে যুব উন্নয়নের প্রশ্নপত্র ফাঁস, গ্রেপ্তার ৭ জনের ৫ জনই সরকারি কর্মচারী বুকের শক্তিতে ৫ মণ পাথরের ঘানি টেনে বাঁচার লড়াই শম্ভু সাহার

রোনালদো প্রতারিত হয়েছেন, বোনের বিস্ফোরক দাবি

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিরতিতে পর্তুগাল দল ছেড়ে নাটকীয়ভাবে চলে যাওয়ার পর, তারকা ফরোয়ার্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে পর্তুগালের প্রধান কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে তার তীব্র মতবিরোধের খবর সামনে আসে। পুরো বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জল্পনা-কল্পনার মধ্যে আগুনে ঘি ঢেলেছেন রোনালদোর বড় বোন এলমা আভেইরো। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট আভাস দিয়েছেন যে, জাতীয় দলে পর্তুগিজ অধিনায়কের ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে মূল একাদশে জায়গা না পেয়ে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছিল রোনালদোকে। এই সিদ্ধান্তের পরই হঠাৎ করে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান আল-নাসরের ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর থেকে রোনালদো ও কোচ জেসুসের সম্পর্কের অবক্ষয় চরম রূপ নেয়, যা পর্তুগাল জাতীয় দলে রোনালদোর ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টেনে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত বুধবার এক বই উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এলমা আভেইরো তার ভাইয়ের জাতীয় দলে ফেরার বিষয়ে এক হতাশাজনক মূল্যায়ন তুলে ধরেন। কাকতালীয়ভাবে সেই একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পর্তুগাল কোচ হোর্হে জেসুসও। ফলে এলমার বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তোলে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এলমা আভেইরো বলেন, পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে এটি ‘হ্যাঁ’-এর চেয়ে ‘না’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমার মনে হয় রোনালদো এবং জেসুস দুজনেই আঘাত পেয়েছেন। এটি এমন একটি পরিস্থিতি যা তারা দুজনে অনুভব করেছেন, আমি নই; আমি কেবল আমার ভাইয়ের পক্ষ থেকে বলছি। আমার মনে হয় এটি এমন একটি স্থবির পরিস্থিতি, দেখা যাক সামনে কী হয়। আমি সত্যি জানি না, পুরো বিষয়টি খুবই জটিল। যখন আমরা প্রতারিত হই, তখন আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন।

এলমা আভেইরোর এই মন্তব্যে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে, রোনালদোর পরিবার বিষয়টিকে একটি বড় ধরনের বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে দেখছে। তিনি তার ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, পর্তুগিজ ফুটবলে রোনালদোর বিশাল অবদান থাকা সত্ত্বেও তাকে সঠিক মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। দেশের ফুটবলে এত অর্জন ও ত্যাগের পর ভাইয়ের প্রতি এমন আচরণ তাকে গভীরভাবে মর্মাহত ও ব্যথিত করেছে। রোনালদোর পরিবারের প্রতিক্রিয়া কেবল এলমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। জানা গেছে, জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে রোনালদোর এই নাটকীয় প্রস্থানের খবর শুনে তার মা দোলোরেস আভেইরোও অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েছিলেন।

ক্যাম্প ছেড়ে আসার পর রোনালদো অবশ্য নিজেই একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করে পুরো ঘটনার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি দাবি করেন, তাকে খেলানোর সময়সীমা ও সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে কোচ হোর্হে জেসুস তাকে দেওয়া কথা রাখেননি এবং নিজের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। তবে এত ক্ষোভের পরও জাতীয় দলের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা মনে করিয়ে দিয়ে আল-নাসর তারকা জানান, তিনি এখনও পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও ইচ্ছুক। একইসঙ্গে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) যদি তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়, তবে তিনি তা মাথা পেতে নিতে রাজি আছেন।

এফপিএফ পরবর্তীতে নিশ্চিত করেছে যে, শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন রোনালদোকে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে পরিচালনা করা হচ্ছে, ফলে এফপিএফের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হতে যাচ্ছে তা এখনও অনিশ্চিত।

সূত্র: মার্কা

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

ভারতের সঙ্গে সংলাপ, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইবে বাংলাদেশ

রোনালদো প্রতারিত হয়েছেন, বোনের বিস্ফোরক দাবি

আপডেট টাইম : ১১ ঘন্টা আগে

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিরতিতে পর্তুগাল দল ছেড়ে নাটকীয়ভাবে চলে যাওয়ার পর, তারকা ফরোয়ার্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে পর্তুগালের প্রধান কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে তার তীব্র মতবিরোধের খবর সামনে আসে। পুরো বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জল্পনা-কল্পনার মধ্যে আগুনে ঘি ঢেলেছেন রোনালদোর বড় বোন এলমা আভেইরো। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট আভাস দিয়েছেন যে, জাতীয় দলে পর্তুগিজ অধিনায়কের ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে মূল একাদশে জায়গা না পেয়ে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছিল রোনালদোকে। এই সিদ্ধান্তের পরই হঠাৎ করে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান আল-নাসরের ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর থেকে রোনালদো ও কোচ জেসুসের সম্পর্কের অবক্ষয় চরম রূপ নেয়, যা পর্তুগাল জাতীয় দলে রোনালদোর ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টেনে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত বুধবার এক বই উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এলমা আভেইরো তার ভাইয়ের জাতীয় দলে ফেরার বিষয়ে এক হতাশাজনক মূল্যায়ন তুলে ধরেন। কাকতালীয়ভাবে সেই একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পর্তুগাল কোচ হোর্হে জেসুসও। ফলে এলমার বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তোলে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এলমা আভেইরো বলেন, পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে এটি ‘হ্যাঁ’-এর চেয়ে ‘না’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমার মনে হয় রোনালদো এবং জেসুস দুজনেই আঘাত পেয়েছেন। এটি এমন একটি পরিস্থিতি যা তারা দুজনে অনুভব করেছেন, আমি নই; আমি কেবল আমার ভাইয়ের পক্ষ থেকে বলছি। আমার মনে হয় এটি এমন একটি স্থবির পরিস্থিতি, দেখা যাক সামনে কী হয়। আমি সত্যি জানি না, পুরো বিষয়টি খুবই জটিল। যখন আমরা প্রতারিত হই, তখন আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন।

এলমা আভেইরোর এই মন্তব্যে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে, রোনালদোর পরিবার বিষয়টিকে একটি বড় ধরনের বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে দেখছে। তিনি তার ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, পর্তুগিজ ফুটবলে রোনালদোর বিশাল অবদান থাকা সত্ত্বেও তাকে সঠিক মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। দেশের ফুটবলে এত অর্জন ও ত্যাগের পর ভাইয়ের প্রতি এমন আচরণ তাকে গভীরভাবে মর্মাহত ও ব্যথিত করেছে। রোনালদোর পরিবারের প্রতিক্রিয়া কেবল এলমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। জানা গেছে, জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে রোনালদোর এই নাটকীয় প্রস্থানের খবর শুনে তার মা দোলোরেস আভেইরোও অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েছিলেন।

ক্যাম্প ছেড়ে আসার পর রোনালদো অবশ্য নিজেই একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করে পুরো ঘটনার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি দাবি করেন, তাকে খেলানোর সময়সীমা ও সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে কোচ হোর্হে জেসুস তাকে দেওয়া কথা রাখেননি এবং নিজের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। তবে এত ক্ষোভের পরও জাতীয় দলের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা মনে করিয়ে দিয়ে আল-নাসর তারকা জানান, তিনি এখনও পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও ইচ্ছুক। একইসঙ্গে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) যদি তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়, তবে তিনি তা মাথা পেতে নিতে রাজি আছেন।

এফপিএফ পরবর্তীতে নিশ্চিত করেছে যে, শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন রোনালদোকে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে পরিচালনা করা হচ্ছে, ফলে এফপিএফের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হতে যাচ্ছে তা এখনও অনিশ্চিত।

সূত্র: মার্কা