ঢাকা , শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার জন্য নয়, রাজনীতি হতে হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য : এলজিআরডি মন্ত্রী ৭ নভেম্বর গ্রাম পুলিশ সমাবেশ, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১১ কর্মকর্তার পদোন্নতি ধর্ম যার যার এই বাংলাদেশ সবার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এখন রিকশাচালক হিসেবে হাজির হয়েছে : চিফ হুইপ নিষেধাজ্ঞার মাঝেও চলছে ইলিশ শিকার নতুন বাজেটে প্রবাসী শ্রমিকদের সুখবর দিল মালয়েশিয়া কুমিল্লায় তাজমিন হত্যা: ঘাতক একজনই, ইঙ্গিত তদন্ত কর্মকর্তাদের

কুমিল্লায় তাজমিন হত্যা: ঘাতক একজনই, ইঙ্গিত তদন্ত কর্মকর্তাদের

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৫) হত্যার ঘটনায় তাকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামে তার ভাইয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে সুমন একাই জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত এখনও চলছে। সুমনকে কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। হত্যার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পরিচয় নিশ্চিত হয়। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়। তাজমিনের শরীরে আঘাতের দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন ছিল না। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমনের খালা শাশুড়ি, বোন ও বোনজামাইকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাদের সহায়তায় সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সুমন প্রায়ই রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও আশপাশের এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। তার নিজস্ব বাড়ি নেই। তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নেশাগ্রস্ত।

বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পাশে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে ছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকালে কাঁচিকাটা-হরিশ্চর পাকা সড়কের জগতপুর উত্তরপাড়া এলাকার মানুমুড়া সংলগ্ন স্থানে অটোরিকশাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তারা। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমির আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল এবং মুখ মাটিতে চেপে রাখা অবস্থায় ছিল।

খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সিআইডি ও পিবিআইসহ পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

কুমিল্লায় তাজমিন হত্যা: ঘাতক একজনই, ইঙ্গিত তদন্ত কর্মকর্তাদের

আপডেট টাইম : ৮ ঘন্টা আগে

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৫) হত্যার ঘটনায় তাকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামে তার ভাইয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে সুমন একাই জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত এখনও চলছে। সুমনকে কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। হত্যার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পরিচয় নিশ্চিত হয়। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়। তাজমিনের শরীরে আঘাতের দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন ছিল না। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমনের খালা শাশুড়ি, বোন ও বোনজামাইকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাদের সহায়তায় সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সুমন প্রায়ই রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও আশপাশের এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। তার নিজস্ব বাড়ি নেই। তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নেশাগ্রস্ত।

বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পাশে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে ছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকালে কাঁচিকাটা-হরিশ্চর পাকা সড়কের জগতপুর উত্তরপাড়া এলাকার মানুমুড়া সংলগ্ন স্থানে অটোরিকশাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তারা। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমির আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল এবং মুখ মাটিতে চেপে রাখা অবস্থায় ছিল।

খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সিআইডি ও পিবিআইসহ পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।