সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার পৃথক অভিযোগে কারাবন্দি ছিলেন। সৌদিস্থ বাংলাদেশ বাংলাদেশ দূতাবাসের জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম উইংয়ের গোপনীয় স্মারক থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সৌদি পররষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে স্মারকে উল্লেখ করা হয়, নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তারের তা’জির হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের অভ্যন্তরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করার অভিযোগ করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তাদের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করেনি। তবে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলখানায় বিভিন্ন অপরাধে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধের ভিত্তিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া তালিকায় নজরুল ইসলাম আব্দুল বশিরের ইকামা নম্বর: ২৫৩৮৩৬৬৮২০, পাসপোর্ট নম্বর: A03771867, বাবা: আব্দুল বশির, গ্রাম: বিরামপুর, ডাকঘর: হাবলা উচ্চ-৩৪০০, উপজেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, জেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে জানা যায়। আর সুইটি আক্তারের ইকামা নম্বর:২৫৪১৩২৪৮৫৭, পাসপোর্ট নম্বর: A04031842, বাবা: মো. ফজল মিয়া, গ্রাম: নগর সাউয়ালী, ডাকঘর: মহেরা-১৯৪৫, উপজেলা: মির্জাপুর, জেলা: টাঙ্গাইল বলে জানা গেছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তালিকায় তাদের শাস্তির বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। তারা সৌদি আরবের আল মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা যায়।
ওই তালিকায় বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী নজরুল ইসলাম আব্দুল বশিরকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট আটক করা হয়। তাকে সাইবার (তথ্যপ্রযুক্তি) অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। তালিকা অনুযায়ী তার অবস্থান জেদ্দা সংশোধানাগার এবং তার বিরুদ্ধে সাইবার (তথ্যপ্রযুক্তি) অপরাধে রায় ঘোষিত হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, সুইটি আক্তারকে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট আটক করা হয়। তাকে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে আটক করা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। তালিকা অনুযায়ী তার অবস্থান জেদ্দা মহিলা কারাগার এবং তার বিরুদ্ধে জেনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার অপরাধে রায় হয়েছে মর্মে উল্লেখ রয়েছে।
তালিকায় ৭ নম্বর কলামে রায় ঘোষিত কয়েদিদের সাজার সংক্ষিপ্ত বিবরণ উল্লেখ থাকলেও নজরুল-সুইটির নামের বিপরীতে কোনো সাজা উল্লেখ করা হয়নি। উল্লেখ্য, সৌদি আরবে সাইবার (তথ্যপ্রযুক্তি) যেনা-ব্যভিচারের অপরাধে আগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই।
জেদ্দা কনস্যুলেটের আওতাধীন সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারসমূহে বিভিন্ন ধরণের চারিত্রিক মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক আছেন মর্মে তালিকা সূত্রে জানা যায়। তার মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষিত হয়েছে। তাদেরকে সর্বনিম্ন এক মাস এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে সাইবার (তথ্যপ্রযুক্তি) অপরাধে মক্কায় অপর তিনটি পৃথক মামলায় সর্বনিম্ন ছয় মাস এবং সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
স্মারকে জেদ্দা কনস্যুলেট উল্লেখ করেছে, সৌদি আরবের ক্রিমিনাল কোটসহ অন্যান্য কোর্টে বর্তমানে অনুবাদক নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘মারকাযুত তারজামাহ আল মুওয়াহহাদ’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শুনানি চলাকালীন সময়ে অনুবাদক সংক্রান্ত কাজে সহায়তা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে এসব কোর্টে মিশনের পক্ষ থেকে অনুবাদক আসামির পক্ষে বিচারিক কর্মকাণ্ডে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন ও যোগাযোগের বিষয়ে জেদ্দা কনস্যুলেট উল্লেখ করেছে,
সৌদি আরবে সাধারণত মৃত্যুদণ্ডযোগ্য গুরুতর অপরাধে আটক বাংলাদেশিদের পরিবার, বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেলে সরাসরি অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনি সহায়তার জন্য আবেদন করে থাকে। তবে, নজরুল-সুইটির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি বা কোন প্রকার যোগাযোগ করেনি। সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনোভাবেই বাংলাদেশি দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা বা রায় কার্যকরকরণ সম্পর্কে অবহিত করা হয়নি।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির রায়ের কপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রাপ্তির জন্য সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মক্কা শাখা বরাবর একটি নোট ভারবাল পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জেদ্দা কনস্যুলেট। রায়ের কপি পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানোর কথা জানিয়েছে তারা।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























