প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমানের (জাইমা রহমান) জন্মদিন আজ রোববার। ১৯৯৫ সালের এই দিনে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
জাইমা রহমানের বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অত্যন্ত প্রভাবশালী এক পরিবারে। তার দাদা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।তার নানা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ছিলেন নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান ও সাবেক মন্ত্রী।
জাইমা রহমান একাধারে একজন আইনজীবী ও জাতিসংঘের একজন আইন কর্মকর্তা (লিগ্যাল অফিসার)। তিনি কেবল একটি বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি নন, বরং নিজস্ব মেধা, যোগ্যতা ও দূরদর্শিতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে চলেছেন।
ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের ৬ নম্বর বাড়িতে এক ভিন্ন আবহে শৈশব কেটেছে জাইমার। যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে তিনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকায় (আইএসডি) পড়াশোনা করেন। ২০০৮ সালে তার বাবা তারেক রহমান কারামুক্ত হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে তিনিও লন্ডনে পাড়ি জমান। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর মা-বাবার সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
শৈশব থেকেই শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগী জাইমা রহমান যুক্তরাজ্যের সুপরিচিত ‘কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন’ থেকে আইনে স্নাতক (এলএলবি) সম্পন্ন করেন। এরপর ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান ‘ইনার টেম্পল’ থেকে অর্জন করেন কাঙ্ক্ষিত ‘বার-অ্যাট-ল’ (ব্যারিস্টার) ডিগ্রি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশীয় আইনি ব্যবস্থার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে ২০২৬ সালের জুনে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পেশাগত জীবনের সূচনায় দেশের অন্যতম সেরা ল’ ফার্ম ‘সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’-এ কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানে দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রজ্ঞার সঙ্গে সাংবিধানিক আইন, কর্পোরেট ও বাণিজ্যিক বিষয়াবলি এবং কর সংক্রান্ত জটিল সব আইনি ইস্যু পরিচালনা করেন এই মেধাবী আইনজীবী।
আইনপেশায় জাইমার এই দক্ষতা তাকে পৌঁছে দিয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আইনি কাঠামোর সর্বোচ্চ চূড়ায়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ (আইন কর্মকর্তা) হিসেবে নিযুক্ত হন। বর্তমানে তিনি সভাপতির এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে আন্তর্জাতিক আইনি বিষয়াবলি তদারকি করছেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ৭৩তম ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন জাইমা রহমান। তিন সদস্যের ওই প্রতিনিধিদলে তার সঙ্গে ছিলেন- দলের তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি ছিল বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে জাইমা রহমানের প্রথম অংশগ্রহণ।
ওই সফরে তিনি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডেসট্রো এবং যুক্তরাষ্ট্রের উইমেনস ফেলোশিপ ফাউন্ডেশনের প্রধান রেবেকা ওয়াগনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর তিনি প্রথমবারের মতো দলের একটি সভায় যোগ দেন, যেখানে মাহবুব উদ্দিন খোকন, রুহুল কবির রিজভীসহ ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।
পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি জাইমা রহমানের হৃদয়জুড়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর মমতা। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিয়োজিত বাংলাদেশের স্বনামধন্য সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ‘সুরভী’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি তৈরি, বিচারপ্রার্থী মানুষের অধিকার নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার প্রসার, লিঙ্গসমতা এবং আধুনিক ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো দূরদর্শী বিষয়ে কাজ করার প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে প্রধানমন্ত্রী কন্যার।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























