ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে হার্ডলাইনে সরকার একনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন পৈতৃক জমি কতটুকু রয়েছে, বের করবেন যেভাবে সাদিক কায়েমকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে : রাশেদ খান শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে বিশেষ ছাড় বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষুব্ধ ভোটারের কড়া জবাব: যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প যুগের অবসানের সূচনা আবাসস্থল সংকটে জাবির অতিথি পাখি মানুষের ভিড়ে কমছে বিচরণ অসুস্থতায় আদালতে অনুপস্থিত পরীমনি, বাদীপক্ষ বলল- ‘ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ’ সাইবার আইনের সংশোধনী সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির বিধান রাখার প্রস্তাব

সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে বিশেষ ছাড় বাংলাদেশ ব্যাংকের

ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও সিটি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আটটি ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) হিসেবে এ ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ (কক) (৩) ধারার প্রয়োগ থেকে সিটি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি দিয়েছে। এ ধারায় ঋণখেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত কোনো প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আইনের ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সিন্ডিকেট ঋণের ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বিধান কার্যকর হবে না।

অব্যাহতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি ডাল মিলস লিমিটেড এবং শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেড। এ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই ঋণখেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত।

এর আগে সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে আটটি ব্যাংকের একটি সিন্ডিকেট ঋণগ্রস্ত সিটি গ্রুপকে নতুন করে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা অর্থায়নের পরিকল্পনা করেছিল। পরে ঋণের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি মূলধন ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা।

সিন্ডিকেটের ব্যাংকগুলো হলো সিটি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক।

ঋণের শর্তে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই ঋণের দায় সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক—কেউই বহন করবে না। ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক কিংবা সিন্ডিকেটের অন্য ব্যাংকগুলোও সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোনো আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না। ঋণের বিপরীতে সিটি গ্রুপকে এমন সম্পদ জামানত হিসেবে দিতে হবে, যেগুলো অন্য কোনো ঋণ বা দায়ের বিপরীতে বন্ধক রাখা হয়নি। এসব সম্পদ নিবন্ধিত বন্ধকনামার মাধ্যমে জামানত হিসেবে দিতে হবে।

সিন্ডিকেট ঋণের অর্থ দিয়ে কেনা পণ্য বিক্রির আয় নির্ধারিত একটি ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। ওই হিসাব থেকে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর পাওনা নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যাংকের অর্থায়নের অনুপাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর জামানত ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এজেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি করা কাঁচামাল কিনবে এবং জিম্মাদার হিসেবে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করবে।

সিটি গ্রুপের কাছে দেশি-বিদেশি ৪৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে গ্রুপটিকে ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে হার্ডলাইনে সরকার

সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে বিশেষ ছাড় বাংলাদেশ ব্যাংকের

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে

ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও সিটি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আটটি ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) হিসেবে এ ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ (কক) (৩) ধারার প্রয়োগ থেকে সিটি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি দিয়েছে। এ ধারায় ঋণখেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত কোনো প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আইনের ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সিন্ডিকেট ঋণের ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বিধান কার্যকর হবে না।

অব্যাহতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি ডাল মিলস লিমিটেড এবং শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেড। এ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই ঋণখেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত।

এর আগে সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে আটটি ব্যাংকের একটি সিন্ডিকেট ঋণগ্রস্ত সিটি গ্রুপকে নতুন করে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা অর্থায়নের পরিকল্পনা করেছিল। পরে ঋণের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি মূলধন ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা।

সিন্ডিকেটের ব্যাংকগুলো হলো সিটি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক।

ঋণের শর্তে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই ঋণের দায় সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক—কেউই বহন করবে না। ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক কিংবা সিন্ডিকেটের অন্য ব্যাংকগুলোও সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোনো আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না। ঋণের বিপরীতে সিটি গ্রুপকে এমন সম্পদ জামানত হিসেবে দিতে হবে, যেগুলো অন্য কোনো ঋণ বা দায়ের বিপরীতে বন্ধক রাখা হয়নি। এসব সম্পদ নিবন্ধিত বন্ধকনামার মাধ্যমে জামানত হিসেবে দিতে হবে।

সিন্ডিকেট ঋণের অর্থ দিয়ে কেনা পণ্য বিক্রির আয় নির্ধারিত একটি ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। ওই হিসাব থেকে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর পাওনা নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যাংকের অর্থায়নের অনুপাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর জামানত ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এজেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি করা কাঁচামাল কিনবে এবং জিম্মাদার হিসেবে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করবে।

সিটি গ্রুপের কাছে দেশি-বিদেশি ৪৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে গ্রুপটিকে ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত করেছে।