ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

আরো একটি অনন্য অর্জন

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণ বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। বাঙালি জাতির জন্য এ এক অনন্য অর্জন।

বাঙালির মহান নেতা, রাজনীতির মহাকবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯ মিনিটের বক্তৃতাটি ছিল তাত্ক্ষণিক। জনসমুদ্রের মঞ্চ কাঁপিয়ে যে অমর কাব্য সেদিন তিনি শুনিয়েছিলেন, তাতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল বাঙালি জাতি। ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার যুদ্ধে। কী ছিল না সেদিনের সেই বক্তৃতায়। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমরনীতির সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন তিনি তাঁর সেই অনুপম বক্তৃতায়। কবিরা যেমন মাত্রা মেপে, সঠিক শব্দচয়নে একটি কবিতা লেখেন, তেমনি বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের প্রতিটি শব্দ যেন ঐশ্বরিকভাবেই উচ্চারিত হয়েছিল। বক্তৃতার শুরুতেই তিনি জানিয়ে দেন তাঁর দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ের কথা। কারণ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাঙালিদের হত্যা করা হয়েছে। পাকিস্তানের ২৫ বছরের শাসনকালে বাংলা ও বাঙালির বঞ্চনার কথা তুলে আনেন তিনি নিখুঁত উচ্চারণে। তাল-লয়-ছন্দ সব কিছু মিলিয়ে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো সেই ভাষণ বাঙালিকে নতুন মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল।

বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনের নেতা। আমাদের দীর্ঘ সংগ্রামের ভেতর দিয়ে অর্জন এই স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই সংগ্রামে তিনি ছিলেন নেতা। ৭ই মার্চের বক্তৃতায় তিনি বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন। তাঁর অমোঘ উচ্চারণ, ‘বাংলার ইতিহাস এ দেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি, ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ল জারি করে ১০ বছর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছিল। ’ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর দূরদর্শিতাও ছিল অসাধারণ। তিনি জানতেন, পাকিস্তানিরা এত সহজে বাঙালিকে ক্ষমতা দেবে না। তাই তিনি বাঙালিকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন। জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তিনি উচ্চারণ করলেন, ‘…প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে…। ’ মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা হয়ে যায় সেদিনই।

চরম সংকটের দিনে জাতি নির্দেশনা পেয়েছিল ইতিহাসের বরপুত্রের কাছ থেকে। তাঁর জাদুকরী সম্মোহনী শক্তিই বাঙালি জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছিল গুলির সামনে বুক পেতে দিতে। তিনি বরাভয় দিয়েছিলেন বলেই ভয় পায়নি জাতি। ইতিহাসের সেই বরপুত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের জাতির জনক। আজও তিনি আমাদের প্রেরণার উৎস। আমাদের সত্তায় মিশে আছেন তিনি। বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতির পর এই ৭ই মার্চের ভাষণ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এ ব্যাপারে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

আরো একটি অনন্য অর্জন

আপডেট টাইম : ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর ২০১৭

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণ বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। বাঙালি জাতির জন্য এ এক অনন্য অর্জন।

বাঙালির মহান নেতা, রাজনীতির মহাকবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯ মিনিটের বক্তৃতাটি ছিল তাত্ক্ষণিক। জনসমুদ্রের মঞ্চ কাঁপিয়ে যে অমর কাব্য সেদিন তিনি শুনিয়েছিলেন, তাতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল বাঙালি জাতি। ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার যুদ্ধে। কী ছিল না সেদিনের সেই বক্তৃতায়। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমরনীতির সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন তিনি তাঁর সেই অনুপম বক্তৃতায়। কবিরা যেমন মাত্রা মেপে, সঠিক শব্দচয়নে একটি কবিতা লেখেন, তেমনি বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের প্রতিটি শব্দ যেন ঐশ্বরিকভাবেই উচ্চারিত হয়েছিল। বক্তৃতার শুরুতেই তিনি জানিয়ে দেন তাঁর দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ের কথা। কারণ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাঙালিদের হত্যা করা হয়েছে। পাকিস্তানের ২৫ বছরের শাসনকালে বাংলা ও বাঙালির বঞ্চনার কথা তুলে আনেন তিনি নিখুঁত উচ্চারণে। তাল-লয়-ছন্দ সব কিছু মিলিয়ে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো সেই ভাষণ বাঙালিকে নতুন মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল।

বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনের নেতা। আমাদের দীর্ঘ সংগ্রামের ভেতর দিয়ে অর্জন এই স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই সংগ্রামে তিনি ছিলেন নেতা। ৭ই মার্চের বক্তৃতায় তিনি বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন। তাঁর অমোঘ উচ্চারণ, ‘বাংলার ইতিহাস এ দেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি, ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ল জারি করে ১০ বছর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছিল। ’ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর দূরদর্শিতাও ছিল অসাধারণ। তিনি জানতেন, পাকিস্তানিরা এত সহজে বাঙালিকে ক্ষমতা দেবে না। তাই তিনি বাঙালিকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন। জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তিনি উচ্চারণ করলেন, ‘…প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে…। ’ মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা হয়ে যায় সেদিনই।

চরম সংকটের দিনে জাতি নির্দেশনা পেয়েছিল ইতিহাসের বরপুত্রের কাছ থেকে। তাঁর জাদুকরী সম্মোহনী শক্তিই বাঙালি জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছিল গুলির সামনে বুক পেতে দিতে। তিনি বরাভয় দিয়েছিলেন বলেই ভয় পায়নি জাতি। ইতিহাসের সেই বরপুত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের জাতির জনক। আজও তিনি আমাদের প্রেরণার উৎস। আমাদের সত্তায় মিশে আছেন তিনি। বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতির পর এই ৭ই মার্চের ভাষণ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এ ব্যাপারে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে।