ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জামিনাদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পরও মুক্তি পাননি জবি শিক্ষার্থী

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা গত বৃহস্পতিবার জামিন পান। তার জামিনের আদেশ রোববার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। কিন্তু রোববার (১৯ নভেম্বর) রাত পর্যন্ত কারাগার থেকে মুক্তি পাননি তিনি।

রাত ১১টা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের বাইরে অপেক্ষা করেন। খাদিজা মুক্তি না পাওয়ায় তাকে ছাড়াই ফিরে যান তারা।

খাদিজার বোন সিরাজুম মুনিরা গণমাধ্যমকে বলেন, কুরিয়ারের বাইকে সন্ধ্যা ৭টায় আদালতের আদেশ কারাগারে এসেছে। আমরা কুরিয়ারের লোকের সঙ্গে কথা বলেছি।

মুনিরা গণমাধ্যমকে আরও বলেন, কেন খাদিজাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে এক পুলিশ সদস্য বললেন অন্যান্য সংস্থা ও পুলিশের ছাড়পত্রের অপেক্ষা করছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার জন্য নাকি এ ছাড়পত্র লাগবে।

খাদিজার আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেন, জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে খাদিজাকে মুক্তি দেওয়া উচিত ছিল।

এদিকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারের সিনিয়র জেলসুপার শাহজাহান বলছেন, তারা রাত সাড়ে ৮টায় আদেশ পেয়েছেন।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সব কয়েদিকে যেহেতু তাদের সেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাই এই আদেশ প্রক্রিয়া করতে কিছুটা সময় লাগবে। আগামীকাল (সোমবার) তাকে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করব।

প্রসঙ্গত, খাদিজাতুল কুবরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই শিক্ষার্থী। তার বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ১১ ও ১৯ অক্টোবর কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানা পুলিশ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে। মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার পর ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১১ মাস ধরে কারাগারে থাকায় দুই সেমিস্টারের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২ মামলায় স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ গত বৃহস্পতিবার বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জামিনাদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পরও মুক্তি পাননি জবি শিক্ষার্থী

আপডেট টাইম : ০৭:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০২৩

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা গত বৃহস্পতিবার জামিন পান। তার জামিনের আদেশ রোববার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। কিন্তু রোববার (১৯ নভেম্বর) রাত পর্যন্ত কারাগার থেকে মুক্তি পাননি তিনি।

রাত ১১টা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের বাইরে অপেক্ষা করেন। খাদিজা মুক্তি না পাওয়ায় তাকে ছাড়াই ফিরে যান তারা।

খাদিজার বোন সিরাজুম মুনিরা গণমাধ্যমকে বলেন, কুরিয়ারের বাইকে সন্ধ্যা ৭টায় আদালতের আদেশ কারাগারে এসেছে। আমরা কুরিয়ারের লোকের সঙ্গে কথা বলেছি।

মুনিরা গণমাধ্যমকে আরও বলেন, কেন খাদিজাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে এক পুলিশ সদস্য বললেন অন্যান্য সংস্থা ও পুলিশের ছাড়পত্রের অপেক্ষা করছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার জন্য নাকি এ ছাড়পত্র লাগবে।

খাদিজার আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেন, জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে খাদিজাকে মুক্তি দেওয়া উচিত ছিল।

এদিকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারের সিনিয়র জেলসুপার শাহজাহান বলছেন, তারা রাত সাড়ে ৮টায় আদেশ পেয়েছেন।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সব কয়েদিকে যেহেতু তাদের সেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাই এই আদেশ প্রক্রিয়া করতে কিছুটা সময় লাগবে। আগামীকাল (সোমবার) তাকে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করব।

প্রসঙ্গত, খাদিজাতুল কুবরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই শিক্ষার্থী। তার বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ১১ ও ১৯ অক্টোবর কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানা পুলিশ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে। মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার পর ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১১ মাস ধরে কারাগারে থাকায় দুই সেমিস্টারের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২ মামলায় স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ গত বৃহস্পতিবার বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।