বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হবে নতুন সরকারের। এই মুহূর্তে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য বাছাইয়ে দলের ভেতরে চলছে আলোচনা-পর্যালোচনা। বাইরে চলছে নানা গুঞ্জন। এর মধ্যে বড় কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছেÑ জরাজীর্ণ, ক্ষতবিক্ষত আর অগোছালো শিক্ষাব্যবস্থার মশাল শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে।
সংকটে নিমজ্জিত শিক্ষাতরী গভীর অন্ধকারে দিশাহীন অবস্থায় হাবুডুব খাচ্ছে। গতানুগতিক পাঠ্যক্রম, অবকাঠামোগত দৈন্য আর শিক্ষক সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে জাতির মেরুদণ্ড তৈরির কার্যক্রম। সেকেলে পাঠ্যক্রম দিয়ে যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের মোকাবিলা করা অসম্ভব, সেখানে আজও ডিগ্রিনির্ভর এক অকেজো জনশক্তি তৈরি করছে রাষ্ট্র।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর ৭ লাখ শিক্ষিত তরুণ শ্রমবাজারে এলেও দক্ষতার অভাবে তাদের বড় অংশই বেকারত্বের তিলক কপালে নিয়ে ঘুরছে। এ ছাড়া শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার সামঞ্জস্যও নেই, যা বেকার তৈরির বড় কারণ। প্রাথমিক শিক্ষার ছবিটা আরও করুণ। সেখানে বিরাজ করছে এক অদ্ভুত বৈষম্যের রাজত্ব। সরকারি স্কুল, কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসা আর এনজিও পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন স্রোত শিশুদের শৈশবেই বিভাজনের রেখায় ভাগ করে দিচ্ছে। প্রান্তিক শিশুর কাছে শিক্ষা যেখানে শুধু উপবৃত্তির প্রতিশ্রুতি, উচ্চবিত্তের কাছে তা শুধুই প্রযুক্তিনির্ভর বিলাসিতা। ইউনিসেফ ও টিআইবির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করেছেÑ দুর্নীতি, অনিয়ম আর জলবায়ু সংকটের অভিঘাতে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এক চরম ‘শিখনক্ষতি’র মুখে।
এই অবস্থায় আগামীকাল মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পর শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা। রাজনৈতিক অলিন্দে গুঞ্জন, কে হচ্ছেন আগামীর শিক্ষার অভিভাবক। এ নিয়ে দুজনের নাম সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে। তাদের একজন হলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. ওসমান ফারুক। তার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা তাকে দৌড়ে এগিয়ে রাখছে। অপরজন হলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও চাঁদপুর-১ আসনে সংসদ সদস্য পদে বিজয়ী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি রয়েছেন আলোচনার তুঙ্গে। অতীতে শিক্ষা খাতে তার কঠোর সংস্কারবাদী ভাবমূর্তি তাকে পুনরায় এই মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে আনতে পারে।
তবে উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদে নতুন সমীকরণ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। এটি কি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় থাকবে নাকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে যাবেÑ তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। তবে এই দুই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে তিনজনের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সম্ভাব্য নাম হিসেবে আসছে কুমিল্লা-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও প্রবীণ শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া এবং পটুয়াখালী-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদ্য ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে নির্বাচিত তরুণ ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানকেও নিয়ে চলছে গুঞ্জন।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























