সংসদীয় গণতন্ত্রে (Parliamentary Democracy) সরকার যেমন অপরিহার্য, বিরোধী দলও তেমনি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে বিরোধীদলীয় নেতার পদটি কেবল একটি রাজনৈতিক অলঙ্কার নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী সাংবিধানিক ও আইনি পদ। ২০২১ সালে পাস হওয়া নতুন আইন অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় নেতা রাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তির মর্যাদা ভোগ করেন।
১. পদমর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় অবস্থান (Status & Rank)
রাষ্ট্রীয় প্রটোকল বা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স (Warrant of Precedence) অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতার অবস্থান অত্যন্ত উঁচুতে।
মর্যাদা: তিনি সরকারের একজন পূর্ণ মন্ত্রীর (Cabinet Minister) সমান পদমর্যাদা ও সম্মান ভোগ করেন।
উপনেতা: বিরোধীদলীয় উপনেতা (Deputy Leader of the Opposition) একজন প্রতিমন্ত্রীর (Minister of State) পদমর্যাদা পান।
২. বেতন, ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা (Remuneration & Privileges)
‘বিরোধীদলীয় নেতা এবং উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন-২০২১’ অনুযায়ী তিনি নিম্নোক্ত সুবিধাসমূহ পান:
বেতন ও ভাতা: একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমান মাসিক বেতন ও অন্যান্য ভাতাদি।
বাসভবন: রাষ্ট্রীয় খরচে সুসজ্জিত সরকারি বাসভবন (Official Residence) ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা।
পরিবহন: সরকারি গাড়ি (Official Car), জ্বালানি এবং ড্রাইভারের সুবিধা।
নিরাপত্তা: যথাযথ পুলিশ প্রটোকল ও গানম্যানসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
চিকিৎসা ও ভ্রমণ: মন্ত্রীদের ন্যায় দেশ-বিদেশে সরকারি খরচে চিকিৎসা এবং ভ্রমণ ভাতা (Travel Allowance)।
দফতর: জাতীয় সংসদ ভবনে নিজস্ব কার্যালয় ও প্রয়োজনীয় জনবল (Staff)।
৩. বিরোধীদলীয় নেতার মূল দায়িত্ব (Duties & Responsibilities)
সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধীদলকে বলা হয় ‘শ্যাডো গভর্নমেন্ট’ (Shadow Government) বা ছায়া সরকার। তাদের প্রধান কাজগুলো হলো:
সরকারকে জবাবদিহি করা (Accountability): সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে (Question Time) সরকারের নীতি ও কাজের সমালোচনা করা।
বিকল্প প্রস্তাব (Alternative Policy): কোনো সরকারি বিল বা আইনের ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং বিকল্প জনহিতকর প্রস্তাব পেশ করা।
জনস্বার্থ রক্ষা (Protecting Public Interest): জনগণের দাবি ও অধিকার নিয়ে সংসদে জোরালো সোচ্চার হওয়া।
স্বৈরতন্ত্র রোধ: সরকার যাতে একনায়কতান্ত্রিক পথে না হাঁটে, তার জন্য ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ হিসেবে কাজ করা।
৪. বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া (Selection Process)
নির্বাচনে সরকারি দলের বাইরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বা জোটের নেতাকে স্পিকার (Speaker) বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দল তাদের সংসদীয় দলের বৈঠকে নেতা নির্বাচন করে স্পিকারকে লিখিতভাবে জানায়।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























