ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যে প্রক্রিয়ায় ফেরানো যাবে টিউলিপকে, কঠিন পরীক্ষায় ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন এক কূটনৈতিক টানাপোড়েন। বাংলাদেশে চার বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এই লেবার এমপিকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ঢাকা। ফলে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে এখন কঠিন এক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে—সহকর্মী এমপির প্রত্যর্পণ মঞ্জুর করবেন, নাকি ঢাকার সাথে বড় ধরনের কূটনৈতিক সংঘাতে জড়াবেন।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী-নির্বাচিত তারেক রহমানের বৈদেশিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও সম্ভাব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-কে জানিয়েছেন, নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্দিকের প্রত্যর্পণ চাইবে।

তিনি টিউলিপ সিদ্দিককে একজন দণ্ডিত অপরাধী এবং ব্রিটিশ সরকারের জন্য বিব্রতকর হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “আমরা আশা করি যুক্তরাজ্য সরকার তাদের মাটিতে থাকা সেসব আওয়ামী অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে, যারা অর্থ পাচারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। আমরা তাদের তালিকা দেব এবং তাদের ফেরত চাই। অবৈধ অভিবাসন রোধে আমরা যদি যুক্তরাজ্যের অংশীদার হতে পারি, তবে আমাদের অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য কেন ভিন্ন পথ বেছে নেবে?”

যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ একটি ‘ক্যাটাগরি ২ টাইপ বি’ দেশ। এর অর্থ হলো প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েকটি ধাপের মধ্য দিয়ে যায়। প্রথমে অনুরোধকারী দেশ ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানায়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবেদনটি প্রত্যয়িত করে আদালতে পাঠাবেন কি না তা ঠিক করেন।

আদালতের বিচারক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করে শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত আদেশ দিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় সিদ্ধান্ত নেন তিনি আসলে প্রত্যর্পণের নির্দেশ দেবেন কি না।
টিউলিপ সিদ্দিক শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। যদি তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে বহাল থাকেন, তবে শাবানা মাহমুদকে এই প্রক্রিয়ার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

অতীতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (যিনি টিউলিপের খালা) সাথে একাধিকবার সাক্ষাৎ করলেও, পরে বিচারিক প্রক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করেছিলেন। ডাউনিং স্ট্রিট এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবার সরকার হয়তো তাদের কূটনীতিকদের মাধ্যমে এই বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করবে। তবে বাংলাদেশের নতুন বিএনপি সরকার যদি তাদের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করার দাবিতে অনড় থাকে, তবে তা লন্ডনের জন্য বড় এক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

যে প্রক্রিয়ায় ফেরানো যাবে টিউলিপকে, কঠিন পরীক্ষায় ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন এক কূটনৈতিক টানাপোড়েন। বাংলাদেশে চার বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এই লেবার এমপিকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ঢাকা। ফলে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে এখন কঠিন এক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে—সহকর্মী এমপির প্রত্যর্পণ মঞ্জুর করবেন, নাকি ঢাকার সাথে বড় ধরনের কূটনৈতিক সংঘাতে জড়াবেন।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী-নির্বাচিত তারেক রহমানের বৈদেশিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও সম্ভাব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-কে জানিয়েছেন, নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্দিকের প্রত্যর্পণ চাইবে।

তিনি টিউলিপ সিদ্দিককে একজন দণ্ডিত অপরাধী এবং ব্রিটিশ সরকারের জন্য বিব্রতকর হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “আমরা আশা করি যুক্তরাজ্য সরকার তাদের মাটিতে থাকা সেসব আওয়ামী অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে, যারা অর্থ পাচারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। আমরা তাদের তালিকা দেব এবং তাদের ফেরত চাই। অবৈধ অভিবাসন রোধে আমরা যদি যুক্তরাজ্যের অংশীদার হতে পারি, তবে আমাদের অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য কেন ভিন্ন পথ বেছে নেবে?”

যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ একটি ‘ক্যাটাগরি ২ টাইপ বি’ দেশ। এর অর্থ হলো প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েকটি ধাপের মধ্য দিয়ে যায়। প্রথমে অনুরোধকারী দেশ ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানায়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবেদনটি প্রত্যয়িত করে আদালতে পাঠাবেন কি না তা ঠিক করেন।

আদালতের বিচারক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করে শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত আদেশ দিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় সিদ্ধান্ত নেন তিনি আসলে প্রত্যর্পণের নির্দেশ দেবেন কি না।
টিউলিপ সিদ্দিক শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। যদি তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে বহাল থাকেন, তবে শাবানা মাহমুদকে এই প্রক্রিয়ার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

অতীতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (যিনি টিউলিপের খালা) সাথে একাধিকবার সাক্ষাৎ করলেও, পরে বিচারিক প্রক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করেছিলেন। ডাউনিং স্ট্রিট এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবার সরকার হয়তো তাদের কূটনীতিকদের মাধ্যমে এই বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করবে। তবে বাংলাদেশের নতুন বিএনপি সরকার যদি তাদের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করার দাবিতে অনড় থাকে, তবে তা লন্ডনের জন্য বড় এক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।