ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কে হচ্ছেন পুলিশের পরবর্তী আইজি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলমের পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যেই তিনি নিশ্চিত করেছেন তার পদত্যাগের খবরটি সঠিক নয়। চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের চাকরির মেয়াদ আরও ৯ মাস বাকি রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে পুলিশ বিভাগে জোর আলোচনা হচ্ছেÑ কে হচ্ছেন বাহিনীটির পরবর্তী আইজিপি।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের পরবর্তী আইজিপি হিসেবে প্রথমেই নাম শোনা যাচ্ছে চুক্তিতে নিয়োজিত ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর। ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন আইজিপি হিসেবে বাহারুল আলম এবং ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় শেখ মো. সাজ্জাত আলীকে। এই দুই কর্মকর্তা বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা। তাদের দুই বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।

গতকাল রবিবার দুপুরের পর থেকেই পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে ছড়িয়ে পড়ে আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগর খবর। আলোচনা শুরু হয় পুলিশের পরবর্তী আইজিপি কে হচ্ছেন তা নিয়ে। আইজিপির পদত্যাগের গুঞ্জন শোনা গেলেও গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পদত্যাগপত্র জমা পড়ার খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অবশ্য পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন বাহারুল আলম পদত্যাগ করেননি। আইজিপি নিজেও নিশ্চিত করেছেন তিনি পদত্যাগ করেননি। আজ (সোমবার) পুলিশ সদর দপ্তরে

মর্নিং মিটিংয়ে যোগ দেবেন তিনি। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে গত জানুয়ারিতে আইজিপি তার সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেন।

গতকাল সকালে বাহারুল আলম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পূর্বনির্ধারিত সভায় যোগ দেন। এ ছাড়া দুপুরের পর যমুনায় অনুষ্ঠিত প্রধান উপদেষ্টার এক সভায় যোগ দেন। একটি সূত্রে জানা গেছে, আইজিপি গতকাল সকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার কাছেও একই ইচ্ছা প্রকাশ করেন বাহারুল আলম। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইজিপির দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বাহারুল আলম আইজিপি হিসেবে থাকবেন নাকি নতুন কাউকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হবে, তা নির্বাচিত সরকারের ওপর নির্ভর করছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান।

বেশকিছু ইস্যুতে পুলিশ বিভাগের একটি বড় অংশ বাহারুল আলম সরিয়ে দিতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তার পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভও হয়। ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সময় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান ছিলেন বাহারুল আলম। পিলখানা হত্যাকাণ্ড তদন্তে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এসবি প্রধান হিসেবে তার ‘দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার’ কথা বলা হয়েছে। এর পরই তার পদত্যাগের দাবি আসে। এমনকি সরকারকে এ ব্যাপারে লিগ্যাল নোটিশও দেওয়া হয়।

এদিকে নতুন আইজিপি হিসেবে যেসব নাম আলোচনায় আসছে তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ ৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, বিসিএস ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি প্রশাসন একেএম আওলাদ হোসেন, সিএমপির পুলিশ কমিশনার অতিরিক্ত আইজি হাসিব আজিজ এবং এপিবিএনর প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. আওলাদ হোসেন ফকিরের নাম।

এ ছাড়া গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখা এক বার্তায় জানায়, আইজিপির পদত্যাগ-সংক্রান্ত সংবাদটি সঠিক নয়। এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

কে হচ্ছেন পুলিশের পরবর্তী আইজি

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলমের পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যেই তিনি নিশ্চিত করেছেন তার পদত্যাগের খবরটি সঠিক নয়। চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের চাকরির মেয়াদ আরও ৯ মাস বাকি রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে পুলিশ বিভাগে জোর আলোচনা হচ্ছেÑ কে হচ্ছেন বাহিনীটির পরবর্তী আইজিপি।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের পরবর্তী আইজিপি হিসেবে প্রথমেই নাম শোনা যাচ্ছে চুক্তিতে নিয়োজিত ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর। ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন আইজিপি হিসেবে বাহারুল আলম এবং ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় শেখ মো. সাজ্জাত আলীকে। এই দুই কর্মকর্তা বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা। তাদের দুই বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।

গতকাল রবিবার দুপুরের পর থেকেই পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে ছড়িয়ে পড়ে আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগর খবর। আলোচনা শুরু হয় পুলিশের পরবর্তী আইজিপি কে হচ্ছেন তা নিয়ে। আইজিপির পদত্যাগের গুঞ্জন শোনা গেলেও গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পদত্যাগপত্র জমা পড়ার খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অবশ্য পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন বাহারুল আলম পদত্যাগ করেননি। আইজিপি নিজেও নিশ্চিত করেছেন তিনি পদত্যাগ করেননি। আজ (সোমবার) পুলিশ সদর দপ্তরে

মর্নিং মিটিংয়ে যোগ দেবেন তিনি। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে গত জানুয়ারিতে আইজিপি তার সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেন।

গতকাল সকালে বাহারুল আলম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পূর্বনির্ধারিত সভায় যোগ দেন। এ ছাড়া দুপুরের পর যমুনায় অনুষ্ঠিত প্রধান উপদেষ্টার এক সভায় যোগ দেন। একটি সূত্রে জানা গেছে, আইজিপি গতকাল সকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার কাছেও একই ইচ্ছা প্রকাশ করেন বাহারুল আলম। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইজিপির দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বাহারুল আলম আইজিপি হিসেবে থাকবেন নাকি নতুন কাউকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হবে, তা নির্বাচিত সরকারের ওপর নির্ভর করছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান।

বেশকিছু ইস্যুতে পুলিশ বিভাগের একটি বড় অংশ বাহারুল আলম সরিয়ে দিতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তার পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভও হয়। ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সময় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান ছিলেন বাহারুল আলম। পিলখানা হত্যাকাণ্ড তদন্তে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এসবি প্রধান হিসেবে তার ‘দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার’ কথা বলা হয়েছে। এর পরই তার পদত্যাগের দাবি আসে। এমনকি সরকারকে এ ব্যাপারে লিগ্যাল নোটিশও দেওয়া হয়।

এদিকে নতুন আইজিপি হিসেবে যেসব নাম আলোচনায় আসছে তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ ৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, বিসিএস ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি প্রশাসন একেএম আওলাদ হোসেন, সিএমপির পুলিশ কমিশনার অতিরিক্ত আইজি হাসিব আজিজ এবং এপিবিএনর প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. আওলাদ হোসেন ফকিরের নাম।

এ ছাড়া গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখা এক বার্তায় জানায়, আইজিপির পদত্যাগ-সংক্রান্ত সংবাদটি সঠিক নয়। এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।