গুগল সাম্প্রতিককালে এআই-ভিত্তিক উদ্ভাবনী টুলস চালু করে ব্যবহারকারীদের উৎপাদনশীলতা ও সৃজনশীলতা বাড়াচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষভাগে লঞ্চ হওয়া ডিসকো, মিক্সবোর্ড এবং ভাইব কোডিং এমনই কয়েকটি টুল যা জেনারেটিভ এআইয়ের সুবিধা নিয়ে কাজ করে। এই ফিচারে এগুলোর কার্যপ্রণালি, প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য ব্যবহারকারীদের বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন জামিউর রহমান
ডিসকো : ডিসকো হলো গুগল ল্যাবসের একটি নতুন জেনারেটিভ এআই ওয়েব অ্যাপ অভিজ্ঞতা, যা ওয়েবের ভবিষ্যতের জন্য আইডিয়া পরীক্ষা করার একটি ‘ডিসকভারি ভেহিকল’। এর প্রধান কাজ হলো জটিল অনলাইন টাস্কগুলো সহজ করা, যেমন- রিসার্চ, ট্রিপ প্ল্যানিং বা মিল প্ল্যান তৈরি। এটির কোর ফিচার জেনট্যাবস, যা জেমিনি ৩ মডেল দিয়ে তৈরি। এটি ব্যবহারকারীদের ওপেন ট্যাব এবং চ্যাট হিস্ট্রি থেকে ইন্টারেক্টিভ ওয়েব অ্যাপ জেনারেট করে, কোনো কোডিং ছাড়াই।
প্রক্রিয়া : ব্যবহারকারী ওয়েটলিস্টে জয়েন করে ম্যাকওএসে ডিসকো ডাউনলোড করে। টাস্ক-সম্পর্কিত ট্যাব খুলে ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজে প্রয়োজনীয় টুল বর্ণনা করে। জেনট্যাবস প্রো-অ্যাকটিভলি টাস্ক বুঝে অ্যাপ সাজেস্ট করে এবং জেনারেট করে, যা অরিজিনাল ওয়েব সোর্সের সঙ্গে লিংকড থাকে। কনভার্সেশনাল রিফাইনমেন্টের মাধ্যমে এটি অ্যাডাপ্ট হয়। এই প্রক্রিয়া এআই-এর মাল্টিমোডাল ক্যাপাবিলিটি ব্যবহার করে ট্যাবের কনটেক্সটকে ইন্টারেক্টিভ অ্যাপে রূপান্তরিত করে। ডিসকো প্রধানত এআই উৎসাহী এবং টেস্টারদের জন্য, যারা ওয়েব ব্রাউজিংকে উন্নত করতে ফিডব্যাক দিতে চান। এ ছাড়া রিসার্চার, প্ল্যানার এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এটি ব্যবহার করতে পারেন, যারা জটিল টাস্ক ম্যানেজ করেন। প্রাথমিকভাবে ছোট কোহর্টের জন্য উপলব্ধ।
মিক্সবোর্ড : মিক্সবোর্ড হলো গুগল ল্যাবসের এক্সপেরিমেন্টাল এআই-পাওয়ার্ড কনসেপ্টিং বোর্ড, যা আইডিয়া এক্সপ্লোর, এক্সপ্যান্ড এবং রিফাইন করতে সাহায্য করে। এর কাজ হলো সৃজনশীল ব্রেইনস্টর্মিং এবং প্ল্যানিং, সাম্প্রতিক আপডেটে ন্যানো ব্যানানা প্রো (জেমিনি ৩ প্রো ইমেজ) ইন্টিগ্রেট করে প্রেজেন্টেশন জেনারেট করা। ফিচারগুলোর মধ্যে ভিজ্যুয়াল ডেক বা রিড-অনলি ডকুমেন্ট তৈরি, টেক্সট প্রম্পট-ভিত্তিক স্টাইল গাইডেন্স, প্রিসেট স্টাইল (যেমন- ফটোগ্রাফি বা ইলাস্ট্রেশন), সেলফি ক্যামেরা ফটো ইনসার্ট, পিডিএফ সাপোর্ট এবং মার্কআপ টুল উল্লেখযোগ্য।
প্রক্রিয়া : ব্যবহারকারী ক্যানভাসে আইডিয়া তৈরি করে প্রেজেন্টেশন অপশন সিলেক্ট করে টেক্সট প্রম্পট, ফরম্যাট এবং স্টাইল দেন। মিক্সবোর্ড বোর্ডের কনটেক্সটকে ন্যানো ব্যানানা প্রো দিয়ে প্রসেস করে প্রেজেন্টেশন জেনারেট করে। এটি এআই-এর টেক্সট-টু-ইমেজ ক্যাপাবিলিটি ব্যবহার করে লেজিবল গ্রাফিক্স তৈরি করে। জেনারেশন লিমিট সার্ভার লোডের উপর নির্ভরশীল। এটি ক্রিয়েটিভ ব্যক্তি, টিম এবং যারা দ্রুত প্রেজেন্টেশন দরকার তাদের জন্য। গুগল ল্যাবসের মাধ্যমে এক্সপেরিমেন্টাল, মাল্টিমোডাল কনটেন্ট ইন্টিগ্রেশনের জন্য আদর্শ।
ভাইব কোডিং : ভাইব কোডিং হলো একটি প্রোগ্রামিং স্টাইল যা ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রম্পট দিয়ে কোড জেনারেট করে, ডেভেলপমেন্টকে ত্বরান্বিত করে। গুগল এআই স্টুডিওতে ভাইব কোড ফিচার আছে, যা আইডিয়া থেকে ফাংশনাল, শেয়ারেবল অ্যাপ তৈরি করে এআই ফিচার (যেমন- ইমেজ জেনারেশন, ভিডিও আন্ডারস্ট্যান্ডিং) ইন্টিগ্রেট করে। এটি জেমিনি ৩ প্রো প্রিভিউ দিয়ে চালিত।
প্রক্রিয়া : আইডিয়া বর্ণনা করুন :
Google AI Studio-এ গিয়ে (aistudio.google.com) ‘Build’ মোডে যান। সাধারণ ভাষায় লিখুন যে অ্যাপটা কী করবে।
উদাহরণ : ‘একটা ট্রাভেল প্ল্যানার অ্যাপ বানাও যেখানে ইউজার লোকেশন, তারিখ আর লোকের সংখ্যা দিয়ে ইটিনারারি পাবে।’
এআই কোড তৈরি করে : জেমিনি এআই আপনার কথা বুঝে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোড লিখে ফেলে। ডান পাশে লাইভ প্রিভিউ দেখাবে- অ্যাপটা চালিয়ে দেখতে পারবেন!
যদি কিছু পছন্দ না হয়, চ্যাটে বলুন : ‘বাটনটা নীল করো’ বা ‘এই অংশটা বড় করো’।
অথবা প্রিভিউতে কোনো অংশ হাইলাইট করে বলুন কী চান- এআই সঙ্গে সঙ্গে আপডেট করে। এটা বারবার করতে থাকুন যতক্ষণ না পারফেক্ট হয়।
অ্যাপটা চালিয়ে দেখুন। সন্তুষ্ট হলে ডিপ্লয় করুন (Cloud Run-G)– তাহলে অনলাইনে শেয়ার করতে পারবেন। কোডটা ডাউনলোড করে আরও এডিটও করা যায়।
এভাবে মিনিটের মধ্যে একটা কার্যকরী অ্যাপ বানানো যায়। এই টুলস গুগলের এআই ইকোসিস্টেমকে সমৃদ্ধ করে, যা ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজকে আরও স্মার্ট করে তোলে। ভবিষ্যতে এগুলো আরও উন্নত হবে ফিডব্যাকের ভিত্তিতে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 

























