ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

গাজীপুরে করোনার কারনে রিসোর্ট ব্যবসায় ধস

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ করোনার কারনে লোকসান গুনছে গাজীপুরের ২ শতাধিক রিসোর্ট, পিকনিক ও শুটিং স্পট।এই প্রতিষ্ঠানেগুলোতে কাজ করতেন ২৫ হাজারের বেশি কর্মী। বর্তমানে শতকোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে রিসোর্টগুলোর। উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকার করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক খাতে প্রণোদনা দিয়েছে। কিন্তু পর্যটন খাতে কোনো প্রণোদনা দেয়নি। এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা চান উদ্যোক্তারা ।

গত মার্চ ও এপ্রিলে গাজীপুরের রাজাবাড়ী এলাকার সারাহ রিসোর্টে বুকিং ছিল দেড় কোটি টাকার বেশি। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর একের পর এক বুকিং বাতিল হতে থাকে। সরকারি সিদ্ধান্তে গত ১৯ মার্চ থেকে বন্ধ আছে ২০০ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম বড় রিসোর্টটি। এতে ওই ২ মাসে রিসোর্টটির আর্থিক ক্ষতি হয় কমপক্ষে আড়াই কোটি টাকা। তবে বন্ধ থাকলেও একাধিক সুইমিংপুল, জিম, খেলাধুলার হরেক রকমের মাঠ, শিশু কর্নার, বোটিং ইত্যাদিসহ আধুনিক সব সুবিধা নিয়ে গড়ে ওঠা রিসোর্টটির কর্মীদের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রতি মাসে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় কোটি টাকা।

বর্তমানে এ চিত্র শুধু সারাহ রিসোর্টের নয়, করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাজীপুরের দুই শতাধিক রিসোর্ট, পিকনিক ও শুটিং স্পট। সারাহ রিসোর্টের সেলস অ্যান্ড রিজার্ভেশন বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘মার্চ-এপ্রিল আমাদের ভরা মৌসুম। বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং দেশীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের এপ্রিল পর্যন্ত বুকিং ছিল। চীনে করোনার প্রভাব বিস্তারের পর এর ঢেউ আমাদের দেশেও এসে পড়ে। বিদেশিরা আসতে না পারায় মার্চের শুরু থেকেই বুকিং বাতিল হতে থাকে। কমতে থাকে দেশীয় অতিথিদের সংখ্যাও। রিসোর্ট বন্ধ থাকায় শুধু ওই দুই মাসেই আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ট্যুরিজম রিসোর্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. এমারত হোসেন বলেন, পৃথিবীর বহু উন্নত দেশ শুধু পর্যটনের আয় দিয়ে চলছে। তারা ট্যাক্সসহ অনেক সুবিধা দিচ্ছে। অথচ আমাদের দেশে ভ্যাট-ট্যাক্স অনেক বেশি। গাজীপুরের দুই শতাধিক রিসোর্ট, পিকনিক ও শুটিং স্পট শিল্পে ২৫ হাজার কর্মী কাজ করেন। তাঁদের প্রায় ২০ হাজারই এখন বেকার। রিসোর্ট, পিকনিক ও শুটিং স্পট মালিকরা ভর্তুকি দিয়ে টিকে আছেন। মাসে শতকোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। আয় না থাকলেও ভ্যাট কর্তৃপক্ষকে প্রতি মাসে রিটার্ন দাখিল করতে হচ্ছে। সরকার করোনা মহামারিতে অনেক খাতে প্রণোদনা দিয়েছে। কিন্তু পর্যটন খাতে কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

গাজীপুরে করোনার কারনে রিসোর্ট ব্যবসায় ধস

আপডেট টাইম : ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২০

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ করোনার কারনে লোকসান গুনছে গাজীপুরের ২ শতাধিক রিসোর্ট, পিকনিক ও শুটিং স্পট।এই প্রতিষ্ঠানেগুলোতে কাজ করতেন ২৫ হাজারের বেশি কর্মী। বর্তমানে শতকোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে রিসোর্টগুলোর। উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকার করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক খাতে প্রণোদনা দিয়েছে। কিন্তু পর্যটন খাতে কোনো প্রণোদনা দেয়নি। এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা চান উদ্যোক্তারা ।

গত মার্চ ও এপ্রিলে গাজীপুরের রাজাবাড়ী এলাকার সারাহ রিসোর্টে বুকিং ছিল দেড় কোটি টাকার বেশি। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর একের পর এক বুকিং বাতিল হতে থাকে। সরকারি সিদ্ধান্তে গত ১৯ মার্চ থেকে বন্ধ আছে ২০০ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম বড় রিসোর্টটি। এতে ওই ২ মাসে রিসোর্টটির আর্থিক ক্ষতি হয় কমপক্ষে আড়াই কোটি টাকা। তবে বন্ধ থাকলেও একাধিক সুইমিংপুল, জিম, খেলাধুলার হরেক রকমের মাঠ, শিশু কর্নার, বোটিং ইত্যাদিসহ আধুনিক সব সুবিধা নিয়ে গড়ে ওঠা রিসোর্টটির কর্মীদের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রতি মাসে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় কোটি টাকা।

বর্তমানে এ চিত্র শুধু সারাহ রিসোর্টের নয়, করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাজীপুরের দুই শতাধিক রিসোর্ট, পিকনিক ও শুটিং স্পট। সারাহ রিসোর্টের সেলস অ্যান্ড রিজার্ভেশন বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘মার্চ-এপ্রিল আমাদের ভরা মৌসুম। বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং দেশীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের এপ্রিল পর্যন্ত বুকিং ছিল। চীনে করোনার প্রভাব বিস্তারের পর এর ঢেউ আমাদের দেশেও এসে পড়ে। বিদেশিরা আসতে না পারায় মার্চের শুরু থেকেই বুকিং বাতিল হতে থাকে। কমতে থাকে দেশীয় অতিথিদের সংখ্যাও। রিসোর্ট বন্ধ থাকায় শুধু ওই দুই মাসেই আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ট্যুরিজম রিসোর্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. এমারত হোসেন বলেন, পৃথিবীর বহু উন্নত দেশ শুধু পর্যটনের আয় দিয়ে চলছে। তারা ট্যাক্সসহ অনেক সুবিধা দিচ্ছে। অথচ আমাদের দেশে ভ্যাট-ট্যাক্স অনেক বেশি। গাজীপুরের দুই শতাধিক রিসোর্ট, পিকনিক ও শুটিং স্পট শিল্পে ২৫ হাজার কর্মী কাজ করেন। তাঁদের প্রায় ২০ হাজারই এখন বেকার। রিসোর্ট, পিকনিক ও শুটিং স্পট মালিকরা ভর্তুকি দিয়ে টিকে আছেন। মাসে শতকোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। আয় না থাকলেও ভ্যাট কর্তৃপক্ষকে প্রতি মাসে রিটার্ন দাখিল করতে হচ্ছে। সরকার করোনা মহামারিতে অনেক খাতে প্রণোদনা দিয়েছে। কিন্তু পর্যটন খাতে কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।