ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

শিক্ষা ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা

মানবজীবনে শিক্ষা একান্ত প্রয়োজন। শিক্ষা ছাড়া এ পৃথিবীতে কোনো মানুষই পরিপূর্ণতা পায় না। তাই মানবজীবনে শিক্ষা অতি জরুরি। শিক্ষা মানুষের জ্ঞানকে বিকশিত করে; মানুষের জীবনকে করে সুন্দর ও সভ্যতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। নারী-পুরুষ সবারই শিক্ষার প্রয়োজন। তবে পুরুষের শিক্ষার চেয়ে মায়েদের শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, পরিবারে বাবা-মা শিক্ষিত, তাদের সন্তানরাও পড়ালেখায় অনেক এগিয়ে যায়। কিন্তু বাবা-মা শিক্ষিত না হলে সন্তানরা শুরু থেকেই একটা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে, পড়ালেখায় তাদের পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ইউনেস্কোর ‘২০১৫-পরবর্তী টেকসই উন্নয়নের শুরু শিক্ষা দিয়ে’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, বাবা-মা শিক্ষিত হলে সন্তানরা বেশিদূর পর্যন্ত পড়ালেখা করে। স্কুল-কলেজে পড়ালেখার যে প্রতিযোগিতা তাতে নিরক্ষর পরিবারের শিশুরা শিক্ষিত পরিবারের শিশুদের কাছে সবসময়ই হারতে থাকে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করেছে, যদিও তা এখনও কাঠামোগতভাবে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ায়নি। যখন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা আমাদের স্কুলে ছিল না, তখনও ধনী ও শিক্ষিত পরিবারের সন্তানরা ঠিকই পরিবারে একটা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা পেয়ে যেত। অন্যদিকে গরিব ও নিরক্ষর পরিবারের সন্তানরা এই প্রাক-প্রাথমিকের প্রস্তুতি ছাড়াই প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতো। নিশ্চয়ই অনুমান করা যাচ্ছে, প্রথম শ্রেণি থেকেই দরিদ্র-নিরক্ষর পরিবারের শিশুদের পিছিয়ে পড়া শুরু হতো। পুরো স্কুলজীবনেই নিরক্ষর পরিবারের শিশুর পক্ষে শিক্ষিত পরিবারের শিশুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ত। নিরক্ষর পরিবারের শিশু ও শিক্ষিত পরিবারের শিশুর মধ্যে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবধান ঘোচাতে হলে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গরূপে শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। শিক্ষিত বাবা-মা কেন পরিবারে তাদের কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে পারেন না? এসব কারণ হতে পারে, দুজনই চাকরিজীবী-কর্মজীবী বলে ছেলেমেয়েকে পড়ালেখায় সহায়তা করার সময় পান না। দরিদ্র কর্মজীবী বাবা-মা দিনের কাজের শেষে একটু বিশ্রাম ও আনন্দদায়ক কোনো অবসর খোঁজেন বলে সন্তানের ব্যাপারে মনোযোগ দিতে পারেন না। এ ব্যাপারে সরকারের করণীয় হয়তো সামান্য। তবুও সবক্ষেত্রে আট ঘণ্টার কর্মদিবস নিশ্চিত করা গেলে এক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। শিক্ষিত বাবা-মা পড়ালেখার চর্চার অভাবে এখন বেশির ভাগই ভুলে বসে আছেন। বাবা-মা শিক্ষিত কিন্তু ছেলেমেয়েকে পড়াতে পারেন না। কেননা তাদের ক্লাসের বই তারা বুঝতে পারেন না। ক্লাসের বই বুঝতে না পারার কারণ তাদের পড়া বই ও এখনকার ছেলে-মেয়ের বই এক নয়। বদলে গেছে ও ফি বছর বদলায়। আরেক কারণ, এখনকার পরীক্ষাপদ্ধতি ও পরীক্ষায় প্রশ্নের ও উত্তরের ধরন তাদের সময়কার মতো নয়। পড়ানোর ধরন অনেকখানি পরীক্ষাপদ্ধতি ও পরীক্ষায় প্রশ্ন ও উত্তরের ধরনের ওপর নির্ভর করে। এক্ষেত্রে বাবা-মা শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও যেমন হিমশিম খান, ছেলেমেয়েও তেমনি বাবা-মার কাছে পড়তে আগ্রহ হারিয়ে নোটবই এবং কোচিং-প্রাইভেট শিক্ষকের শরণাপন্ন হয়। এছাড়া সামান্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে সঙ্কটও দূর করা যায়। এ কয়েকটি সঙ্কট দূর করতে পারলে রাষ্ট্র বিনাপয়সায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষক পেয়ে যাবে। যাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব থাকবে না। যারা স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রকে এই বিরাট সেবা দেবে যার জন্য কোনো বেতন-পেনশন-অবসর সুবিধা চাইবে না। তারা শিক্ষক পদমর্যাদাও দাবি করবেন না। সরকার যে প্রাইভেট-কোচিং-গাইডবই বন্ধ করতে হিমশিম খাচ্ছে, তা সহজেই বন্ধ হয়ে যাবে। রাষ্ট্র এই বিরাট শিক্ষক বাহিনীকে অকার্যকর অবস্থায় ফেলে রেখেছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সাজানোর বেলায় এই বিরাট সম্ভাবনাটি মাথায় রাখলেই তা ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়। প্রশ্ন হতে পারে, তবে কি পাঠ্যপুস্তক, পরীক্ষাপদ্ধতি, প্রশ্নোত্তরের ধরন এসব পাল্টানো যাবে না বা দরকার নেই? অবশ্যই পাল্টাতে হবে, কিন্তু তাতে দায়িত্বজ্ঞান থাকতে হবে। রাতারাতি বিরাট পরিবর্তন আনার কোনো দরকার আছে? হঠাত্ বিরাট পরিবর্তনসহ যেসব পাঠ্যপুস্তক ছাপানো হয়, তাতে বিষয়বস্তু ও মুদ্রণে ব্যাপক ভুল থাকে, যা নিয়ে পত্রপত্রিকায় অভিযোগের শেষ নেই। উপযুক্ত প্রস্তুতি গ্রহণ ছাড়াই পরীক্ষা ও প্রশ্নোত্তর পদ্ধতি পরিবর্তন তো রীতিমতো একটা এক্সপেরিমেন্ট। ছাত্র-ছাত্রী যেন গিনিপিগ। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষিত বাবা-মা কেন, স্কুলের শিক্ষকরাই তো তাল মেলাতে পারেন না, নতুন নতুন ব্যবস্থা ও পদ্ধতির সমুদ্রে সবাই খাবি খেতে থাকেন। পরিবর্তিত ব্যবস্থা ও পদ্ধতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাঁতার শিখতে না শিখতেই আবার নতুন পরিবর্তনের বিরাট ঢেউ এসে তাদের ডুবিয়ে দেয়। এভাবেই চলতে থাকে। পরিবারে শিক্ষিত বাবা-মা ছেলে-মেয়েকে গাইডবই-কোচিং-প্রাইভেটের হাতে ছেড়ে দিয়ে অসহায়ত্ব থেকে বাঁচার চেষ্টা করেন। পাঠ্যপুস্তক, পরীক্ষাপদ্ধতি ও প্রশ্নোত্তরের ধরন ইত্যাদিতে অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে। তা না হলে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা যাবে না। কিন্তু সে পরিবর্তন যদি হঠাত্ না হয়ে নিয়মিত হয়, তবে তা গাছের বৃদ্ধির মতোই কারও চোখে পড়বে না। বড় পরিবর্তনের আগে শিক্ষক সমাজ ও অভিভাবকদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা হওয়া দরকার। তাদের সুবিধা-অসুবিধা ও পরামর্শকে মূল্যায়ন করতে হবে। প্রয়োজনে ছোটখাটো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সবাইকে প্রস্তুত করে নিতে হবে। আমাদের দেশের মানবসম্পদের একটা বিরাট অংশ এখনও শিক্ষার বাইরে রয়েছে। তাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে আনতে হবে। একটা পরিবারের সদস্যদের শিক্ষার মধ্যে আনতে হলে মায়ের শিক্ষাই অতি গুরুত্বপূর্ণ। মা শিক্ষিত হলে গোটা পরিবার শিক্ষিত হবে। যার জন্য আমাদের সরকার এখন মেয়েদের শিক্ষার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের সমাজব্যবস্থায় মেয়েদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য বেশ আগ্রহী। সঙ্গে সঙ্গে ছেলেদের যে শিক্ষা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে তা নয়। একটি সংসারে দেখা যায়, বাবা-মা ছেলেদেরকে তাদের চলার মতো লেখাপড়া শিখিয়ে তাদের কর্মস্থলে পাঠিয়ে দেয়। আর মেয়েদেরকে শিক্ষার জন্য স্কুল-কলেজে পাঠায়। ছেলেরা টাকা-পয়সা রোজগার করে তাদের বোনদেরকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে থাকে। মা-বাবা একটা জিনিস সবসময় চিন্তা করেন যে, মেয়ে যদি শিক্ষিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তার সন্তানরা শিক্ষিত হবে। তাছাড়া মেয়ের ভবিষ্যত্ জীবনে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তার শিক্ষা দ্বারা ভবিষ্যত্ জীবন চালিয়ে যেতে পারবে। তার ভাই বা বাবার ওপর নির্ভর করতে হবে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

শিক্ষা ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা

আপডেট টাইম : ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ মে ২০১৭

মানবজীবনে শিক্ষা একান্ত প্রয়োজন। শিক্ষা ছাড়া এ পৃথিবীতে কোনো মানুষই পরিপূর্ণতা পায় না। তাই মানবজীবনে শিক্ষা অতি জরুরি। শিক্ষা মানুষের জ্ঞানকে বিকশিত করে; মানুষের জীবনকে করে সুন্দর ও সভ্যতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। নারী-পুরুষ সবারই শিক্ষার প্রয়োজন। তবে পুরুষের শিক্ষার চেয়ে মায়েদের শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, পরিবারে বাবা-মা শিক্ষিত, তাদের সন্তানরাও পড়ালেখায় অনেক এগিয়ে যায়। কিন্তু বাবা-মা শিক্ষিত না হলে সন্তানরা শুরু থেকেই একটা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে, পড়ালেখায় তাদের পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ইউনেস্কোর ‘২০১৫-পরবর্তী টেকসই উন্নয়নের শুরু শিক্ষা দিয়ে’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, বাবা-মা শিক্ষিত হলে সন্তানরা বেশিদূর পর্যন্ত পড়ালেখা করে। স্কুল-কলেজে পড়ালেখার যে প্রতিযোগিতা তাতে নিরক্ষর পরিবারের শিশুরা শিক্ষিত পরিবারের শিশুদের কাছে সবসময়ই হারতে থাকে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করেছে, যদিও তা এখনও কাঠামোগতভাবে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ায়নি। যখন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা আমাদের স্কুলে ছিল না, তখনও ধনী ও শিক্ষিত পরিবারের সন্তানরা ঠিকই পরিবারে একটা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা পেয়ে যেত। অন্যদিকে গরিব ও নিরক্ষর পরিবারের সন্তানরা এই প্রাক-প্রাথমিকের প্রস্তুতি ছাড়াই প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতো। নিশ্চয়ই অনুমান করা যাচ্ছে, প্রথম শ্রেণি থেকেই দরিদ্র-নিরক্ষর পরিবারের শিশুদের পিছিয়ে পড়া শুরু হতো। পুরো স্কুলজীবনেই নিরক্ষর পরিবারের শিশুর পক্ষে শিক্ষিত পরিবারের শিশুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ত। নিরক্ষর পরিবারের শিশু ও শিক্ষিত পরিবারের শিশুর মধ্যে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবধান ঘোচাতে হলে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গরূপে শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। শিক্ষিত বাবা-মা কেন পরিবারে তাদের কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে পারেন না? এসব কারণ হতে পারে, দুজনই চাকরিজীবী-কর্মজীবী বলে ছেলেমেয়েকে পড়ালেখায় সহায়তা করার সময় পান না। দরিদ্র কর্মজীবী বাবা-মা দিনের কাজের শেষে একটু বিশ্রাম ও আনন্দদায়ক কোনো অবসর খোঁজেন বলে সন্তানের ব্যাপারে মনোযোগ দিতে পারেন না। এ ব্যাপারে সরকারের করণীয় হয়তো সামান্য। তবুও সবক্ষেত্রে আট ঘণ্টার কর্মদিবস নিশ্চিত করা গেলে এক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। শিক্ষিত বাবা-মা পড়ালেখার চর্চার অভাবে এখন বেশির ভাগই ভুলে বসে আছেন। বাবা-মা শিক্ষিত কিন্তু ছেলেমেয়েকে পড়াতে পারেন না। কেননা তাদের ক্লাসের বই তারা বুঝতে পারেন না। ক্লাসের বই বুঝতে না পারার কারণ তাদের পড়া বই ও এখনকার ছেলে-মেয়ের বই এক নয়। বদলে গেছে ও ফি বছর বদলায়। আরেক কারণ, এখনকার পরীক্ষাপদ্ধতি ও পরীক্ষায় প্রশ্নের ও উত্তরের ধরন তাদের সময়কার মতো নয়। পড়ানোর ধরন অনেকখানি পরীক্ষাপদ্ধতি ও পরীক্ষায় প্রশ্ন ও উত্তরের ধরনের ওপর নির্ভর করে। এক্ষেত্রে বাবা-মা শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও যেমন হিমশিম খান, ছেলেমেয়েও তেমনি বাবা-মার কাছে পড়তে আগ্রহ হারিয়ে নোটবই এবং কোচিং-প্রাইভেট শিক্ষকের শরণাপন্ন হয়। এছাড়া সামান্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে সঙ্কটও দূর করা যায়। এ কয়েকটি সঙ্কট দূর করতে পারলে রাষ্ট্র বিনাপয়সায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষক পেয়ে যাবে। যাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব থাকবে না। যারা স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রকে এই বিরাট সেবা দেবে যার জন্য কোনো বেতন-পেনশন-অবসর সুবিধা চাইবে না। তারা শিক্ষক পদমর্যাদাও দাবি করবেন না। সরকার যে প্রাইভেট-কোচিং-গাইডবই বন্ধ করতে হিমশিম খাচ্ছে, তা সহজেই বন্ধ হয়ে যাবে। রাষ্ট্র এই বিরাট শিক্ষক বাহিনীকে অকার্যকর অবস্থায় ফেলে রেখেছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সাজানোর বেলায় এই বিরাট সম্ভাবনাটি মাথায় রাখলেই তা ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়। প্রশ্ন হতে পারে, তবে কি পাঠ্যপুস্তক, পরীক্ষাপদ্ধতি, প্রশ্নোত্তরের ধরন এসব পাল্টানো যাবে না বা দরকার নেই? অবশ্যই পাল্টাতে হবে, কিন্তু তাতে দায়িত্বজ্ঞান থাকতে হবে। রাতারাতি বিরাট পরিবর্তন আনার কোনো দরকার আছে? হঠাত্ বিরাট পরিবর্তনসহ যেসব পাঠ্যপুস্তক ছাপানো হয়, তাতে বিষয়বস্তু ও মুদ্রণে ব্যাপক ভুল থাকে, যা নিয়ে পত্রপত্রিকায় অভিযোগের শেষ নেই। উপযুক্ত প্রস্তুতি গ্রহণ ছাড়াই পরীক্ষা ও প্রশ্নোত্তর পদ্ধতি পরিবর্তন তো রীতিমতো একটা এক্সপেরিমেন্ট। ছাত্র-ছাত্রী যেন গিনিপিগ। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষিত বাবা-মা কেন, স্কুলের শিক্ষকরাই তো তাল মেলাতে পারেন না, নতুন নতুন ব্যবস্থা ও পদ্ধতির সমুদ্রে সবাই খাবি খেতে থাকেন। পরিবর্তিত ব্যবস্থা ও পদ্ধতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাঁতার শিখতে না শিখতেই আবার নতুন পরিবর্তনের বিরাট ঢেউ এসে তাদের ডুবিয়ে দেয়। এভাবেই চলতে থাকে। পরিবারে শিক্ষিত বাবা-মা ছেলে-মেয়েকে গাইডবই-কোচিং-প্রাইভেটের হাতে ছেড়ে দিয়ে অসহায়ত্ব থেকে বাঁচার চেষ্টা করেন। পাঠ্যপুস্তক, পরীক্ষাপদ্ধতি ও প্রশ্নোত্তরের ধরন ইত্যাদিতে অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে। তা না হলে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা যাবে না। কিন্তু সে পরিবর্তন যদি হঠাত্ না হয়ে নিয়মিত হয়, তবে তা গাছের বৃদ্ধির মতোই কারও চোখে পড়বে না। বড় পরিবর্তনের আগে শিক্ষক সমাজ ও অভিভাবকদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা হওয়া দরকার। তাদের সুবিধা-অসুবিধা ও পরামর্শকে মূল্যায়ন করতে হবে। প্রয়োজনে ছোটখাটো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সবাইকে প্রস্তুত করে নিতে হবে। আমাদের দেশের মানবসম্পদের একটা বিরাট অংশ এখনও শিক্ষার বাইরে রয়েছে। তাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে আনতে হবে। একটা পরিবারের সদস্যদের শিক্ষার মধ্যে আনতে হলে মায়ের শিক্ষাই অতি গুরুত্বপূর্ণ। মা শিক্ষিত হলে গোটা পরিবার শিক্ষিত হবে। যার জন্য আমাদের সরকার এখন মেয়েদের শিক্ষার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের সমাজব্যবস্থায় মেয়েদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য বেশ আগ্রহী। সঙ্গে সঙ্গে ছেলেদের যে শিক্ষা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে তা নয়। একটি সংসারে দেখা যায়, বাবা-মা ছেলেদেরকে তাদের চলার মতো লেখাপড়া শিখিয়ে তাদের কর্মস্থলে পাঠিয়ে দেয়। আর মেয়েদেরকে শিক্ষার জন্য স্কুল-কলেজে পাঠায়। ছেলেরা টাকা-পয়সা রোজগার করে তাদের বোনদেরকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে থাকে। মা-বাবা একটা জিনিস সবসময় চিন্তা করেন যে, মেয়ে যদি শিক্ষিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তার সন্তানরা শিক্ষিত হবে। তাছাড়া মেয়ের ভবিষ্যত্ জীবনে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তার শিক্ষা দ্বারা ভবিষ্যত্ জীবন চালিয়ে যেতে পারবে। তার ভাই বা বাবার ওপর নির্ভর করতে হবে না।