ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরবরাহ নিশ্চিতে এক লাখ ১০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন সেচকাজে ডিজেলচালিত পাম্পের পরিবর্তে সৌর বিদ্যুৎচালিত পাম্প দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী আত্মঘাতী হয়ে উঠছে মানুষ জামায়াতের লং মার্চের দাবি আর সংসদের বক্তব্য দ্বিমুখী : চরমোনাই পীর ইসরায়েলের সাথে যুক্তরাজ্যের সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি লেবার নেতা করবিনের ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ব্যালন ডি’অর: সুযোগ থাকলে মেসিকে ১০০ বার ভোট দিতেন জিদান রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয় শারীরিক অবস্থার অবনতি, লাইফ সাপোর্টে মেঘমল্লার বসু পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

অর্থাভাবে চিকিৎসা হয়নি শিশুটির

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে নয় বছর বয়সী এক শিশু অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা হয়নি।

স্থানীয় এক চিকিৎসক মো. জাহিদুল ইসলাম আক্রান্ত শিশু আলিমুনের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের পাতায় পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়। স্যোশাল মিডিয়ার কল্যাণে জানতে পেরে গণমাধ্যমকর্মীরা শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছে।

রোববার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, শিশু আলিমুন ঘরের বারান্দায় বসে খাবার খাচ্ছে। মাথাটা ফোলা। হঠাৎ কেউ দেখলে আতকে উঠবেন। তার মাথায় একাধিক ফোঁড়া। যা দেখতে টিউমারের মতো। মাথা থেকে এখন পিঠে ও হাঁটুতে ফোঁড়া উঠতে শুরু করেছে।

শিশুটির শরীরে কী রোগ তা শনাক্ত হয়নি। এর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন চিকিৎসকরা। তারা শিশুটিকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে এনেছেন।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের সোনাকান্দর গ্রাম। এই গ্রামে এক শতক জমির উপর কুঁড়ে ঘরে আলিমুনের মা সখিনা বেগম, দাদি কুলসুম বেগম, বড় ভাই শুকুর আলী শেখ বসবাস করেন। বাবা আজাহার শেখ তিন বছর আগে মারা গেছেন। মা সখিনা বেগম দিনমজুর। রাস্তা ও পরের বাড়িতে কাজ যে টাকা রোজগার করেন, তাই দিয়ে কোনো রকমে চলে সংসার। অভাবের সংসার চালাতে মা সখিনাকে হিমশিম খেতে হয়। এই অভাবের মধ্যে কীভাবে তিনি ছেলের চিকিৎসা করাবেন।

আলিমুনের বড় চাচি শরীফা বেগম বলেন, চার থেকে পাঁচ বছর আগে আলিমুনের মাথায় টিউমারের মতো দেখা দেয়। তখন ওর বাবা বেঁচে ছিলেন। সেই সময়ে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছিল। ধারদেনা করে আলিমুনকে কিছু দিন ওষুধ খাওয়ানো হয়। খুলনার চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আর্থিক অনটনে তা আর সম্ভব হয়নি।

গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মো. নাসির বলেন, তারা শিশুটির অসুস্থতার বিষয়ে জানতেন না। এখন তার চিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অরুণ চন্দ্র মন্ডল বলেন, স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিশুটির বিষয়ে জানতে পেরেছেন। তার শরীরে কী রোগ হয়েছে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে বলা যাবে না। শিশুটিকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

এখানে তার চিকিৎসা সম্ভব না হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সরবরাহ নিশ্চিতে এক লাখ ১০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন

অর্থাভাবে চিকিৎসা হয়নি শিশুটির

আপডেট টাইম : ০৩:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০১৭

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে নয় বছর বয়সী এক শিশু অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা হয়নি।

স্থানীয় এক চিকিৎসক মো. জাহিদুল ইসলাম আক্রান্ত শিশু আলিমুনের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের পাতায় পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়। স্যোশাল মিডিয়ার কল্যাণে জানতে পেরে গণমাধ্যমকর্মীরা শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছে।

রোববার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, শিশু আলিমুন ঘরের বারান্দায় বসে খাবার খাচ্ছে। মাথাটা ফোলা। হঠাৎ কেউ দেখলে আতকে উঠবেন। তার মাথায় একাধিক ফোঁড়া। যা দেখতে টিউমারের মতো। মাথা থেকে এখন পিঠে ও হাঁটুতে ফোঁড়া উঠতে শুরু করেছে।

শিশুটির শরীরে কী রোগ তা শনাক্ত হয়নি। এর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন চিকিৎসকরা। তারা শিশুটিকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে এনেছেন।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের সোনাকান্দর গ্রাম। এই গ্রামে এক শতক জমির উপর কুঁড়ে ঘরে আলিমুনের মা সখিনা বেগম, দাদি কুলসুম বেগম, বড় ভাই শুকুর আলী শেখ বসবাস করেন। বাবা আজাহার শেখ তিন বছর আগে মারা গেছেন। মা সখিনা বেগম দিনমজুর। রাস্তা ও পরের বাড়িতে কাজ যে টাকা রোজগার করেন, তাই দিয়ে কোনো রকমে চলে সংসার। অভাবের সংসার চালাতে মা সখিনাকে হিমশিম খেতে হয়। এই অভাবের মধ্যে কীভাবে তিনি ছেলের চিকিৎসা করাবেন।

আলিমুনের বড় চাচি শরীফা বেগম বলেন, চার থেকে পাঁচ বছর আগে আলিমুনের মাথায় টিউমারের মতো দেখা দেয়। তখন ওর বাবা বেঁচে ছিলেন। সেই সময়ে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছিল। ধারদেনা করে আলিমুনকে কিছু দিন ওষুধ খাওয়ানো হয়। খুলনার চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আর্থিক অনটনে তা আর সম্ভব হয়নি।

গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মো. নাসির বলেন, তারা শিশুটির অসুস্থতার বিষয়ে জানতেন না। এখন তার চিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অরুণ চন্দ্র মন্ডল বলেন, স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিশুটির বিষয়ে জানতে পেরেছেন। তার শরীরে কী রোগ হয়েছে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে বলা যাবে না। শিশুটিকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

এখানে তার চিকিৎসা সম্ভব না হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।