ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

বিশ্বের ১৩টি দেশে রফতানি হচ্ছে সিলেটের শিম

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিশ্বের ১৩টি দেশে রফতানি হচ্ছে সিলেটের গোয়ালগাদ্দা শিম। স্থানীয় কৃষি অফিসের দাবি, গোয়ালগাদ্দা শিমের বীজ সিলেটের তিনটি ইউনিয়ন ছাড়া অন্য কোনো এলাকায় রোপণ করলে ফলন তেমন ভালো হয় না। অন্য শিমের তুলনায় গোয়ালগাদ্দা আকারে বড় এবং সুস্বাদু। এজন্য এই সবজির চাহিদাও রয়েছে।

নভেম্বর-মার্চ পর্যন্ত এই শিম রফতানি হয়। চলতি মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার কেজি শিম রফতানি হচ্ছে বলে জানান জালালাবাদ ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রোজেন ফিশ এক্সপোর্টার্সের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, সিলেট জেলার সব উপজেলায় কম-বেশি শিম উৎপাদন হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় গোলাপগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন লক্ষ্মণাবন্দ, লক্ষ্মীপাশা ও ফুলবাড়ী ইউনিয়নে।

এসব এলাকার মাটি ও পরিবেশ গোয়ালগাদ্দা শিম চাষে উপযোগী। চলতি মৌসুমে ৬০০ হেক্টর জমিতে গোয়ালগাদ্দা শিম চাষ হয়েছে। আগামী বছর আরো বেশি জমিতে শিমের চাষ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি মৌসুমে শতাধিক টন শিম উৎপাদন হবে বলেও আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

জালালাবাদ ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রোজেন ফিশ এক্সপোর্টার্সের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে কার্গো হাউজ হয়েছে। সেখানে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন স্ক্যানার (ইডিএস) মেশিন স্থাপন হয়েছে। কিন্তু সরকারি প্যাকিং হাউজ না থাকায় আমরা এর সুফল পাচ্ছি না।

এতে সম্ভাবনা থাকলেও আশানুরূপ রফতানি হচ্ছে না। সিলেটের শিম মূলত কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। সরাসরি কিছু কৃষক স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন। এরপর ঢাকায় সেন্ট্রাল প্যাকিং হাউজের ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে পাঠাতে হয়। এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। সিলেটে প্যাকিং হাউজ হলে শিমের পাশাপাশি অন্যান্য সবজি পণ্যও রফতানি সম্ভব।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক খায়ের উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘সিলেটের সবজির মধ্যে গোয়ালগাদ্দা শিম বেশ সম্ভাবনাময়। এটি ইউরোপসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে রফতানি হচ্ছে। এ বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে।’

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, ‘সিলেটে উৎপাদিত লেবুসহ শাকসবজি রফতানি হয়। গোলাপগঞ্জের গোয়ালগাদ্দা শিমও ইউরোপে বেশ জনপ্রিয়।

সিলেট থেকে সবজিপণ্য রফতানি শুরু হলে শিম রফতানি কয়েক গুণ বাড়বে। প্যাকিং হাউজ করা সিলেট অঞ্চলের রফতানিকারকদের দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু সরকারি উদ্যোগে প্যাকিং হাউজ করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন

বিশ্বের ১৩টি দেশে রফতানি হচ্ছে সিলেটের শিম

আপডেট টাইম : ০৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৪

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিশ্বের ১৩টি দেশে রফতানি হচ্ছে সিলেটের গোয়ালগাদ্দা শিম। স্থানীয় কৃষি অফিসের দাবি, গোয়ালগাদ্দা শিমের বীজ সিলেটের তিনটি ইউনিয়ন ছাড়া অন্য কোনো এলাকায় রোপণ করলে ফলন তেমন ভালো হয় না। অন্য শিমের তুলনায় গোয়ালগাদ্দা আকারে বড় এবং সুস্বাদু। এজন্য এই সবজির চাহিদাও রয়েছে।

নভেম্বর-মার্চ পর্যন্ত এই শিম রফতানি হয়। চলতি মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার কেজি শিম রফতানি হচ্ছে বলে জানান জালালাবাদ ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রোজেন ফিশ এক্সপোর্টার্সের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, সিলেট জেলার সব উপজেলায় কম-বেশি শিম উৎপাদন হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় গোলাপগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন লক্ষ্মণাবন্দ, লক্ষ্মীপাশা ও ফুলবাড়ী ইউনিয়নে।

এসব এলাকার মাটি ও পরিবেশ গোয়ালগাদ্দা শিম চাষে উপযোগী। চলতি মৌসুমে ৬০০ হেক্টর জমিতে গোয়ালগাদ্দা শিম চাষ হয়েছে। আগামী বছর আরো বেশি জমিতে শিমের চাষ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি মৌসুমে শতাধিক টন শিম উৎপাদন হবে বলেও আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

জালালাবাদ ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রোজেন ফিশ এক্সপোর্টার্সের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে কার্গো হাউজ হয়েছে। সেখানে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন স্ক্যানার (ইডিএস) মেশিন স্থাপন হয়েছে। কিন্তু সরকারি প্যাকিং হাউজ না থাকায় আমরা এর সুফল পাচ্ছি না।

এতে সম্ভাবনা থাকলেও আশানুরূপ রফতানি হচ্ছে না। সিলেটের শিম মূলত কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। সরাসরি কিছু কৃষক স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন। এরপর ঢাকায় সেন্ট্রাল প্যাকিং হাউজের ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে পাঠাতে হয়। এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। সিলেটে প্যাকিং হাউজ হলে শিমের পাশাপাশি অন্যান্য সবজি পণ্যও রফতানি সম্ভব।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক খায়ের উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘সিলেটের সবজির মধ্যে গোয়ালগাদ্দা শিম বেশ সম্ভাবনাময়। এটি ইউরোপসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে রফতানি হচ্ছে। এ বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে।’

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, ‘সিলেটে উৎপাদিত লেবুসহ শাকসবজি রফতানি হয়। গোলাপগঞ্জের গোয়ালগাদ্দা শিমও ইউরোপে বেশ জনপ্রিয়।

সিলেট থেকে সবজিপণ্য রফতানি শুরু হলে শিম রফতানি কয়েক গুণ বাড়বে। প্যাকিং হাউজ করা সিলেট অঞ্চলের রফতানিকারকদের দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু সরকারি উদ্যোগে প্যাকিং হাউজ করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না।’