ঢাকা , সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গ্যাস-তেল নেই, সরকারের দোষ—লংমার্চের গাড়ি কি তেলে চলে না নিউইয়র্ক সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্যাংকে পুরোনো মালিকদের ফেরার পথ বন্ধ চায় সংসদীয় কমিটি প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে যা বললেন মির্জা আব্বাস ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল সমাবেশ জনগণের প্রয়োজনে যেকোনো সময় আন্দোলনের ডাক: ডা. শফিকুর রহমান ইতিহাসের সেরা ২ নারী গোয়েন্দা ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, লক্ষ্য কী দক্ষিণখানে অস্ত্র-মাদকসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

ছাই লাগবনি ছাই …

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ ফেলনা জিনিস আঁকড়ে ধরে বাঁচার স্বপ্ন দেখেন তিনি। নামেন পথে। সেই ফেলনা জিনিসই তার বেঁচে থাকার অবলম্বন এখন। একদিন দুই দিন নয়, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তিনি এই ফেলনা জিনিসের সঙ্গেই বসবাস করছেন। সংসার চালাচ্ছেন। কথায় বলে না, যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই। পাইলেও পাইতে পার মানিক-রতন। তিনি মানিক-রতন না পেলেও পেয়েছেন বেঁচে থাকার খুঁটি। এই ছাইই তার বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছে। নাম তার শাহিনুর। দীর্ঘ বিশ বছর ধরে ছাইয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক। ছাই তার রুটি-রুজি। সেই সকালে এক বস্তা ছাই নিয়ে বের হন, সন্ধ্যায় ঘরে ফিরেন। ছাই বিক্রি করে এ টাকা নিয়ে আসেন শাহীনুর। এক ডিব্বা ছাই বিক্রি করেন ৩০ টাকায়। প্রতিদিন ছাই বিক্রি করে দুই থেকে আড়াই শ’ টাকা আয় করেন শাহিনুর। কামরাঙ্গীর চরের বস্তিতে থাকেন তিনি। প্রতিদিন কাওরান বাজার, তেজকুনি পাড়া ও নাখালপাড়ায় ঘুরে ঘুরে ছাই বিক্রি করেন। অ্যাই ছাই লাগবনি ছাই…। শাহিনুর তার জীবনের কথা বলতে গিয়ে জানান, এক সময় সংসারে নিত্য অভাব ছিল। তিন বেলার মধ্যে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতেন। অভাবের সংসারে আর কেউ নেই রোজগার করার। শাহিনুরের স্বামী হোসেন আলীর পচন রোগে এক পা কেটে ফেলতে হয়েছে। সে বাড়িতেই থাকে। শাহিনুরের তিন মেয়ে। এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে। আর বাকি দুই মেয়ে বাড়িতেই থাকে বাপের দেখাশোনা করে। কোথা থেকে ছাই কেনেন জানতে চাইলে শাহিনুর বলেন, কামরাঙ্গীচরের ছাইয়ের পাইকারি বাজার থাইক্যা। এক বস্তা ছাই কিনি তিন শ’ টাকায়। আরেকজন ছাই বিক্রেতা দিলু। সে ছাই বিক্রি করে মহাখালী এলাকায়। দিলু জানায় রাজধানীর বিভিন্ন  মহল্লায় প্রায় ত্রিশজন নারী ছাই বিক্রি করে। মানুষ তাদের ছাইআলী বলে ডাকে। কোনো পুরুষ মহল্লায় ঘুইরা ছাই বিক্রি করে না। ছাই লাগে ছাই এভাবে  নিজেরাই চিৎকার করে জানান দেয় তারা মহল্লায় এসেছে। দিলু বলেন, আমরা তো এক জায়গায় বইসা ছাই বিক্রি করি না। মহল্লায় হাইটা হাইটা ছাই বিক্রি করি। এই জন্য চিল্লান লাগে। আগে তো  এত বড় বড় বিল্ডিং আছিল না তখন এত জোরেও চিল্লান লাগতো না। এখন সব বড় বড় বিল্ডিং এই লইগা চিল্লান লাগে বেশি। যতই চিল্লাই মানুষ এখন আমাগো ডাক শুনে না। তারা ছাই না কিনা বাজার থেইকা সাবান কিনা আনে। আগে এই পেশায় অনেক মহিলা আছিল। অহন আস্তে আস্তে এই কাজ ছাইরা দিতেছে। এই কাজে কষ্ট বেশি টাকা কম। বিভিন্ন জায়গার ধান সিদ্ধর বয়লার থেকে ছাই এনে পাইকাররা কামরাঙ্গীর চরে বিক্রি করে। পাইকার লিটন বলেন ভৈরব, কালিয়াকৈর, সাভারের ধান সিদ্ধ করার বয়লার থেইকা ছাই আইনা আমরা বিক্রি করি। একবারে এক ট্রাক ছাই আনি। প্রতি বস্তার পাইকারি দাম তিনশো টাকা। কেউ যদি এক সঙ্গে বেশি বস্তা নিই তাহলে আরো কম দামে দেয়। তবে বেচা বিক্রি আগের মতো নেই বলে জানালেন শাহিনুর। এখন ভিম বারের যুগে ছাইয়ের চাহিদা অনেক কমে গেছে । শাহিনুর বলেন, আগে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় শ টাকার ছাই বিক্রি করতাম। এখন দুই থেকে আড়াই শ’ টাকার ছাই বিক্রি করতেই কষ্ট হয়। মানুষ থালা বাসুন মাজতে এখন ছাই বাদ দিয়া সাবান ব্যবহার করে। বাসা বাড়িতে এখন মানুষ  ছাই দিয়া মাছও কুটে না। বাজার থেইক্যা মাছ কুইটা আনে। সাড়া দিন মহল্লায়-মহল্লায় ঘুইরা আধা বস্তা ছাইও বেচতে পারি না। তারপরও ছাই বিক্রির টাকায়  সংসার চলে শাহিনুরের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

গ্যাস-তেল নেই, সরকারের দোষ—লংমার্চের গাড়ি কি তেলে চলে না

ছাই লাগবনি ছাই …

আপডেট টাইম : ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ ফেলনা জিনিস আঁকড়ে ধরে বাঁচার স্বপ্ন দেখেন তিনি। নামেন পথে। সেই ফেলনা জিনিসই তার বেঁচে থাকার অবলম্বন এখন। একদিন দুই দিন নয়, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তিনি এই ফেলনা জিনিসের সঙ্গেই বসবাস করছেন। সংসার চালাচ্ছেন। কথায় বলে না, যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই। পাইলেও পাইতে পার মানিক-রতন। তিনি মানিক-রতন না পেলেও পেয়েছেন বেঁচে থাকার খুঁটি। এই ছাইই তার বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছে। নাম তার শাহিনুর। দীর্ঘ বিশ বছর ধরে ছাইয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক। ছাই তার রুটি-রুজি। সেই সকালে এক বস্তা ছাই নিয়ে বের হন, সন্ধ্যায় ঘরে ফিরেন। ছাই বিক্রি করে এ টাকা নিয়ে আসেন শাহীনুর। এক ডিব্বা ছাই বিক্রি করেন ৩০ টাকায়। প্রতিদিন ছাই বিক্রি করে দুই থেকে আড়াই শ’ টাকা আয় করেন শাহিনুর। কামরাঙ্গীর চরের বস্তিতে থাকেন তিনি। প্রতিদিন কাওরান বাজার, তেজকুনি পাড়া ও নাখালপাড়ায় ঘুরে ঘুরে ছাই বিক্রি করেন। অ্যাই ছাই লাগবনি ছাই…। শাহিনুর তার জীবনের কথা বলতে গিয়ে জানান, এক সময় সংসারে নিত্য অভাব ছিল। তিন বেলার মধ্যে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতেন। অভাবের সংসারে আর কেউ নেই রোজগার করার। শাহিনুরের স্বামী হোসেন আলীর পচন রোগে এক পা কেটে ফেলতে হয়েছে। সে বাড়িতেই থাকে। শাহিনুরের তিন মেয়ে। এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে। আর বাকি দুই মেয়ে বাড়িতেই থাকে বাপের দেখাশোনা করে। কোথা থেকে ছাই কেনেন জানতে চাইলে শাহিনুর বলেন, কামরাঙ্গীচরের ছাইয়ের পাইকারি বাজার থাইক্যা। এক বস্তা ছাই কিনি তিন শ’ টাকায়। আরেকজন ছাই বিক্রেতা দিলু। সে ছাই বিক্রি করে মহাখালী এলাকায়। দিলু জানায় রাজধানীর বিভিন্ন  মহল্লায় প্রায় ত্রিশজন নারী ছাই বিক্রি করে। মানুষ তাদের ছাইআলী বলে ডাকে। কোনো পুরুষ মহল্লায় ঘুইরা ছাই বিক্রি করে না। ছাই লাগে ছাই এভাবে  নিজেরাই চিৎকার করে জানান দেয় তারা মহল্লায় এসেছে। দিলু বলেন, আমরা তো এক জায়গায় বইসা ছাই বিক্রি করি না। মহল্লায় হাইটা হাইটা ছাই বিক্রি করি। এই জন্য চিল্লান লাগে। আগে তো  এত বড় বড় বিল্ডিং আছিল না তখন এত জোরেও চিল্লান লাগতো না। এখন সব বড় বড় বিল্ডিং এই লইগা চিল্লান লাগে বেশি। যতই চিল্লাই মানুষ এখন আমাগো ডাক শুনে না। তারা ছাই না কিনা বাজার থেইকা সাবান কিনা আনে। আগে এই পেশায় অনেক মহিলা আছিল। অহন আস্তে আস্তে এই কাজ ছাইরা দিতেছে। এই কাজে কষ্ট বেশি টাকা কম। বিভিন্ন জায়গার ধান সিদ্ধর বয়লার থেকে ছাই এনে পাইকাররা কামরাঙ্গীর চরে বিক্রি করে। পাইকার লিটন বলেন ভৈরব, কালিয়াকৈর, সাভারের ধান সিদ্ধ করার বয়লার থেইকা ছাই আইনা আমরা বিক্রি করি। একবারে এক ট্রাক ছাই আনি। প্রতি বস্তার পাইকারি দাম তিনশো টাকা। কেউ যদি এক সঙ্গে বেশি বস্তা নিই তাহলে আরো কম দামে দেয়। তবে বেচা বিক্রি আগের মতো নেই বলে জানালেন শাহিনুর। এখন ভিম বারের যুগে ছাইয়ের চাহিদা অনেক কমে গেছে । শাহিনুর বলেন, আগে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় শ টাকার ছাই বিক্রি করতাম। এখন দুই থেকে আড়াই শ’ টাকার ছাই বিক্রি করতেই কষ্ট হয়। মানুষ থালা বাসুন মাজতে এখন ছাই বাদ দিয়া সাবান ব্যবহার করে। বাসা বাড়িতে এখন মানুষ  ছাই দিয়া মাছও কুটে না। বাজার থেইক্যা মাছ কুইটা আনে। সাড়া দিন মহল্লায়-মহল্লায় ঘুইরা আধা বস্তা ছাইও বেচতে পারি না। তারপরও ছাই বিক্রির টাকায়  সংসার চলে শাহিনুরের।