ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

মৃত মানুষকেও প্রমোশন দেয়া হয় এ দেশে

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ নজরুল ইসলাম খান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর এবং সাবেক সচিব। শিক্ষা সচিবের দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয় নিয়ে মুখোমুখি হন জাগো নিউজ’র। কথা হয় শিক্ষা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পাঠ্যপুস্তকের মান নিয়েও। দীর্ঘ আলোচনায় তুলে ধরেন শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ মতামত।

আপনি শিক্ষা প্রশাসনে ছিলেন। শিক্ষা প্রশাসনে মূলত কোথায় ঘাটতি আছে বলে মনে করেন?
নজরুল ইসলাম খান:
 শিক্ষা ব্যবস্থা তো একটি সামগ্রিক বিষয়। কিন্তু শিক্ষার মান, শিক্ষার বিশেষ সেক্টর ধরে যে বিশেষ কোনো গবেষণা আছে তা বলা যাবে না। যেমন- একটি কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছ থেকে কত ঘণ্টা পায় তার কোনো স্টাডি নেই। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চেয়ে কলেজ শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা কম। এসএসসি পরীক্ষার পর ভর্তি ত্বরান্বিতের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আরও ত্বরান্বিত করার সুযোগ আছে বলে মনে করি।

কিভাবে?
নজরুল ইসলাম খান: 
এসএসসি পরীক্ষার পরপরই শিক্ষার্থীদের কাছে অপশন চাইতে হবে যে, তারা কোন কলেজে ভর্তি হবে। ভর্তির সফটওয়ারের সঙ্গে রেজাল্টের সফটওয়ারের সমন্বয় করতে হবে। রেজাল্টের পরপরই শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে, তারা কোন কোন কলেজে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষার্থী তার পছন্দের কলেজের নাম জানার পর তাকে আরও এক সপ্তাহ সময় দিতে হবে শিফট করার সুযোগ হিসেবে। এটি করতে পারলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ই প্রস্তুত নিয়ে থাকতে পারবে। একইভাবে পরীক্ষার রুটিনও আগে জানিয়ে দিতে হবে।

এতে দুই/তিন মাস বেশি সময় পাবে শিক্ষার্থীরা। দায়িত্ব পালনকালে অনেক শিক্ষক ক্ষমতা বা অন্যান্য কারণে ক্লাসে আসেন না। এখানেও সফটওয়ার চালু করতে হবে। মন্ত্রণালয় থেকেই শিক্ষকদের কার্যক্রম মনিটরিং করা যাবে। একইভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবস্থা করে দিতে হবে যাতে তারা শিক্ষকদের ব্যাপারে মূল্যায়ন করার সুযোগ পায় এবং সেটিও হতে হবে প্রযুক্তি নির্ভর।

এর জন্য প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার প্রয়োজন।
নজরুল ইসলাম খান: 
মোটেও না। একেকটি কলেজের জন্য তিন থেকে চার লাখ টাকা খরচ করলেই হয়ে যাবে। পরিকল্পনাটাই বড় বিষয়। এতে শিক্ষকরা সতর্ক হয়ে যাবেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা পড়াতে মনোযোগী নন, তারাও এলার্ট হয়ে যাবেন। চাইলেও কেউ আর ফাঁকি দিতে পারবেন না। তখন আর এত গোয়েন্দাগিরিরও দরকার পড়বে না।

শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মনোযোগী হওয়ার ব্যাপার রয়েছে।
নজরুল ইসলাম খান:
 হ্যাঁ। আপনি দেখবেন, এখন আর বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসতে চায় না। তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইউটিউব থেকেই সব জানতে পারছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে যত সহজে একটি বিষয় জানার সুযোগ পায়, তা শ্রেণিকক্ষে পায় না।

আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। আপনার সময়ে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল কি না?
নজরুল ইসলাম খান:
 আমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগের সুপারিশ করেছিলাম। নীতিমালা করে দিয়েছিলাম। কতটুকু সময়ে কয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট চালু হবে তার খসড়া করা হয়েছিল। শিক্ষকরা মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা দিতে পারবে। এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও লাইভ করার সুযোগ রয়েছে।

আপনার সেই নীতিমালা কী অবস্থায় আছে?
নজরুল ইসলাম খান:
 আমার করা নীতিমালা কেউ পড়ে দেখছে বলেও মনে হয় না। আমি মাত্র এক বছর সেখানে দায়িত্ব পালন করেছি। বাস্তবায়ন করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার ছিল। পরে কী অবস্থায় আছে আর জানা হয়নি।

সরকারি কলেজের শিক্ষকদের ব্যাপারে আরেকটি বিষয়ে বলি। সরকারি কলেজের অনেকেই মনে করেন তার সঠিক পোস্টিং হয়নি। আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে থাকার সময় এটি খুব ভালো লক্ষ্য করেছি। হয়ত কোনো একদিন আমি ঢাকার বাইরে গিয়েছি। এডিশনাল সেক্রেটারি যিনি আমার দায়িত্বে ছিলেন, আমাকে না জানিয়েই হয়ত ২০০ শিক্ষককে একদিনে বদলি করে দিয়েছেন।

শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার অভাবেই সর্বনাশ হচ্ছে। কুমিল্লা বোর্ডের ফলাফল খারাপ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কুমিল্লা বোর্ডে একজন কলেজ পরিদর্শক ছিলেন। তিনি সেসিপে (সেকেন্ডারি অ্যাডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম) ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আমাকে এডিবি থেকে নানা অভিযোগ করা হয়েছিল। ভাউচার নিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। এরপর তাকে অনেক কষ্টে সেসিপ থেকে সরিয়ে আনলাম। এরপর দেখলাম, তাকে দেয়া হলো কুমিল্লা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক পদ। তার মতো লোক কলেজ পরিদর্শক হলে ফলাফল খারাপ ছাড়া ভালো হবে- এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই। কুমিল্লায় নানা অভিযোগ ওঠার পর তাকে বদলি করে রাজশাহীতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে পাঠানো হয়।

এই যদি শিক্ষা প্রশাসনের অবস্থা হয়, তাহলে ভালো ফল আশা করবেন কী করে? প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রশাসনের কারণেই শিক্ষায় সুশাসন আসছে না।

আইটি সুবিধার জন্য অনেক বড় ফান্ড রয়েছে। এই টাকা দিয়েই প্রশাসন স্কুল-কলেজে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে পারে।
কলেজ পরিদর্শন নিয়ে আমি একটি নীতিমালা করেছিলাম। এক কলেজের শিক্ষক দ্বারা আরেক কলেজ পরিদর্শন করা। সেটিও আর গুরুত্ব দেয়া হলো না।

কাজ না করলে সুশাসন আসে না। এমপিও’র জন্য প্রতি বছর ৪০ কোটি টাকা আসে। আমি থাকতেও এসেছে। রাজনৈতিক কারণে এই টাকা বণ্টন করা হয় না। বলা হয়, এক সংসদ সদস্যকে দিলে আরেকজন বেজার হবেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে শত শত কোটি টাকা সোনালি ব্যাংকে রয়ে গেছে। আমি কয়েকবার মিটিং করে এই টাকার ব্যাপারে অবগত হয়েছি।

এরপরের বিষয় হচ্ছে দুষ্টের দমন, সৃষ্টের পালন। আমি যখন যুগ্ম সচিব ছিলাম, তখন নীতিমালা করেছিলাম। যে প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করবে না, তার এমপিও বন্ধ করে দেয়া হবে। জনগণের টাকায় শিক্ষার ব্যয়, এত অবহেলা তো চলতে পারে না। কিন্তু আসলে প্রভাবশালী মহলের কারণে চাইলেও অনেক কিছু করা যায় না। অনেকেই সাপের মুখেও চুমো দেয় আবার ব্যাংকের মুখেও চুমো দেয়।

এতে কোনো লাভ হয় না। একটি সময় সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দেয়। এখন যেমনটি হচ্ছে।

তার মানে এসব সমস্যার উত্তরণ ঘটালেই ফলাফল ভালো হতে পারে?
নজরুল ইসলাম খান: 
শিক্ষা প্রশাসনের যে দুর্বলতার কথা বললাম, সেগুলো যদি কাটিয়ে ওঠা যায় তাহলে শতভাগ না হলেও ৯৯ ভাগ শিক্ষার্থী পাবলিক পরীক্ষায় পাস করবেই।

শিক্ষা হচ্ছে জীবনের জন্য প্রস্তুতি। শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েই শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন আনতে হয়। কিন্তু কলেজে শিক্ষার্থীদের কোনো অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে দেয়া হয় না। শিক্ষকরা বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট করে নেই। এটি দেখার দায়িত্ব তো শিক্ষকদের।

এটি তো দায়ের ব্যাপার। শিক্ষকদেরও জানতে হয়।
নজরুল ইসলাম খান: 
অবশ্যই। শুধু শিক্ষর্থীদের পড়তে বলা হয়। আমি মনে করি, শিক্ষকদেরই অধিক পড়তে হয়। এক ঘণ্টা পড়াতে একজন শিক্ষককে একশ ঘণ্টা পড়তে হয়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছ থেকে নির্যাসটুকু নেবে। শিক্ষকদের বই পড়ার সুযোগ করে দিতে হবে।

স্কুল-কলেজের লাইব্রেরিতে বই পড়ার সুযোগ পায় না শিক্ষার্থীরা। দুপুর না হতেই কলেজে তালা। শিক্ষার্থীদের নানামুখী বই পড়ানোর সুযোগ করে দিতে হবে। প্রয়োজনে পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরি করে দিতে হবে। অনলাইনে বা প্রযুক্তির মাধ্যমেও বই পড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এগুলো কোনো কঠিন কাজ নয়। রিফর্ম করতে হবে। সাইকেল হাতে নিয়ে রকেটের গতি প্রত্যাশা করা যায় না।

গোটা সিস্টেমই তো ত্রুটিপূর্ণ। উত্তরণের প্রত্যাশা করা যায়?
নজরুল ইসলাম খান: 
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘দ্বার রুদ্ধ করে দিয়ে ভ্রমটাকে রুখি, সত্য বলে আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি?’

সচিব থাকা অবস্থায় দেখেছি, মৃত মানুষকেও প্রমোশন দেয়া হয় এ দেশে। অনেকে ভয়ঙ্কর তথ্যও আছে। সব বিষয় বলা যায় না। কোনো কোনো সময় বলাও ঠিক না।

উপায় কী? শিক্ষা প্রশাসনের সংকট মোকাবেলায় আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি না?
নজরুল ইসলাম খান: 
প্রথমত রিফর্ম মাইন্ডেড মানুষদের দায়িত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আমলাদের এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমলাদের টেনে ধরলে চলবে না। আবার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সবাই হয়ত সঠিক বলবে না। তবে অনেক সিদ্ধান্ত থেকে সঠিকটি বেছে নিতে হবে।

বাংলাদেশে প্রধান সমস্যা হচ্ছে রিফর্ম করার মানসিকতার অভাব।

সূত্র: জাগো নিউজ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

মৃত মানুষকেও প্রমোশন দেয়া হয় এ দেশে

আপডেট টাইম : ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ জুলাই ২০১৭

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ নজরুল ইসলাম খান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর এবং সাবেক সচিব। শিক্ষা সচিবের দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয় নিয়ে মুখোমুখি হন জাগো নিউজ’র। কথা হয় শিক্ষা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পাঠ্যপুস্তকের মান নিয়েও। দীর্ঘ আলোচনায় তুলে ধরেন শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ মতামত।

আপনি শিক্ষা প্রশাসনে ছিলেন। শিক্ষা প্রশাসনে মূলত কোথায় ঘাটতি আছে বলে মনে করেন?
নজরুল ইসলাম খান:
 শিক্ষা ব্যবস্থা তো একটি সামগ্রিক বিষয়। কিন্তু শিক্ষার মান, শিক্ষার বিশেষ সেক্টর ধরে যে বিশেষ কোনো গবেষণা আছে তা বলা যাবে না। যেমন- একটি কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছ থেকে কত ঘণ্টা পায় তার কোনো স্টাডি নেই। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চেয়ে কলেজ শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা কম। এসএসসি পরীক্ষার পর ভর্তি ত্বরান্বিতের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আরও ত্বরান্বিত করার সুযোগ আছে বলে মনে করি।

কিভাবে?
নজরুল ইসলাম খান: 
এসএসসি পরীক্ষার পরপরই শিক্ষার্থীদের কাছে অপশন চাইতে হবে যে, তারা কোন কলেজে ভর্তি হবে। ভর্তির সফটওয়ারের সঙ্গে রেজাল্টের সফটওয়ারের সমন্বয় করতে হবে। রেজাল্টের পরপরই শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে, তারা কোন কোন কলেজে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষার্থী তার পছন্দের কলেজের নাম জানার পর তাকে আরও এক সপ্তাহ সময় দিতে হবে শিফট করার সুযোগ হিসেবে। এটি করতে পারলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ই প্রস্তুত নিয়ে থাকতে পারবে। একইভাবে পরীক্ষার রুটিনও আগে জানিয়ে দিতে হবে।

এতে দুই/তিন মাস বেশি সময় পাবে শিক্ষার্থীরা। দায়িত্ব পালনকালে অনেক শিক্ষক ক্ষমতা বা অন্যান্য কারণে ক্লাসে আসেন না। এখানেও সফটওয়ার চালু করতে হবে। মন্ত্রণালয় থেকেই শিক্ষকদের কার্যক্রম মনিটরিং করা যাবে। একইভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবস্থা করে দিতে হবে যাতে তারা শিক্ষকদের ব্যাপারে মূল্যায়ন করার সুযোগ পায় এবং সেটিও হতে হবে প্রযুক্তি নির্ভর।

এর জন্য প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার প্রয়োজন।
নজরুল ইসলাম খান: 
মোটেও না। একেকটি কলেজের জন্য তিন থেকে চার লাখ টাকা খরচ করলেই হয়ে যাবে। পরিকল্পনাটাই বড় বিষয়। এতে শিক্ষকরা সতর্ক হয়ে যাবেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা পড়াতে মনোযোগী নন, তারাও এলার্ট হয়ে যাবেন। চাইলেও কেউ আর ফাঁকি দিতে পারবেন না। তখন আর এত গোয়েন্দাগিরিরও দরকার পড়বে না।

শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মনোযোগী হওয়ার ব্যাপার রয়েছে।
নজরুল ইসলাম খান:
 হ্যাঁ। আপনি দেখবেন, এখন আর বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসতে চায় না। তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইউটিউব থেকেই সব জানতে পারছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে যত সহজে একটি বিষয় জানার সুযোগ পায়, তা শ্রেণিকক্ষে পায় না।

আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। আপনার সময়ে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল কি না?
নজরুল ইসলাম খান:
 আমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগের সুপারিশ করেছিলাম। নীতিমালা করে দিয়েছিলাম। কতটুকু সময়ে কয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট চালু হবে তার খসড়া করা হয়েছিল। শিক্ষকরা মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা দিতে পারবে। এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও লাইভ করার সুযোগ রয়েছে।

আপনার সেই নীতিমালা কী অবস্থায় আছে?
নজরুল ইসলাম খান:
 আমার করা নীতিমালা কেউ পড়ে দেখছে বলেও মনে হয় না। আমি মাত্র এক বছর সেখানে দায়িত্ব পালন করেছি। বাস্তবায়ন করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার ছিল। পরে কী অবস্থায় আছে আর জানা হয়নি।

সরকারি কলেজের শিক্ষকদের ব্যাপারে আরেকটি বিষয়ে বলি। সরকারি কলেজের অনেকেই মনে করেন তার সঠিক পোস্টিং হয়নি। আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে থাকার সময় এটি খুব ভালো লক্ষ্য করেছি। হয়ত কোনো একদিন আমি ঢাকার বাইরে গিয়েছি। এডিশনাল সেক্রেটারি যিনি আমার দায়িত্বে ছিলেন, আমাকে না জানিয়েই হয়ত ২০০ শিক্ষককে একদিনে বদলি করে দিয়েছেন।

শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার অভাবেই সর্বনাশ হচ্ছে। কুমিল্লা বোর্ডের ফলাফল খারাপ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কুমিল্লা বোর্ডে একজন কলেজ পরিদর্শক ছিলেন। তিনি সেসিপে (সেকেন্ডারি অ্যাডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম) ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আমাকে এডিবি থেকে নানা অভিযোগ করা হয়েছিল। ভাউচার নিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। এরপর তাকে অনেক কষ্টে সেসিপ থেকে সরিয়ে আনলাম। এরপর দেখলাম, তাকে দেয়া হলো কুমিল্লা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক পদ। তার মতো লোক কলেজ পরিদর্শক হলে ফলাফল খারাপ ছাড়া ভালো হবে- এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই। কুমিল্লায় নানা অভিযোগ ওঠার পর তাকে বদলি করে রাজশাহীতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে পাঠানো হয়।

এই যদি শিক্ষা প্রশাসনের অবস্থা হয়, তাহলে ভালো ফল আশা করবেন কী করে? প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রশাসনের কারণেই শিক্ষায় সুশাসন আসছে না।

আইটি সুবিধার জন্য অনেক বড় ফান্ড রয়েছে। এই টাকা দিয়েই প্রশাসন স্কুল-কলেজে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে পারে।
কলেজ পরিদর্শন নিয়ে আমি একটি নীতিমালা করেছিলাম। এক কলেজের শিক্ষক দ্বারা আরেক কলেজ পরিদর্শন করা। সেটিও আর গুরুত্ব দেয়া হলো না।

কাজ না করলে সুশাসন আসে না। এমপিও’র জন্য প্রতি বছর ৪০ কোটি টাকা আসে। আমি থাকতেও এসেছে। রাজনৈতিক কারণে এই টাকা বণ্টন করা হয় না। বলা হয়, এক সংসদ সদস্যকে দিলে আরেকজন বেজার হবেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে শত শত কোটি টাকা সোনালি ব্যাংকে রয়ে গেছে। আমি কয়েকবার মিটিং করে এই টাকার ব্যাপারে অবগত হয়েছি।

এরপরের বিষয় হচ্ছে দুষ্টের দমন, সৃষ্টের পালন। আমি যখন যুগ্ম সচিব ছিলাম, তখন নীতিমালা করেছিলাম। যে প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করবে না, তার এমপিও বন্ধ করে দেয়া হবে। জনগণের টাকায় শিক্ষার ব্যয়, এত অবহেলা তো চলতে পারে না। কিন্তু আসলে প্রভাবশালী মহলের কারণে চাইলেও অনেক কিছু করা যায় না। অনেকেই সাপের মুখেও চুমো দেয় আবার ব্যাংকের মুখেও চুমো দেয়।

এতে কোনো লাভ হয় না। একটি সময় সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দেয়। এখন যেমনটি হচ্ছে।

তার মানে এসব সমস্যার উত্তরণ ঘটালেই ফলাফল ভালো হতে পারে?
নজরুল ইসলাম খান: 
শিক্ষা প্রশাসনের যে দুর্বলতার কথা বললাম, সেগুলো যদি কাটিয়ে ওঠা যায় তাহলে শতভাগ না হলেও ৯৯ ভাগ শিক্ষার্থী পাবলিক পরীক্ষায় পাস করবেই।

শিক্ষা হচ্ছে জীবনের জন্য প্রস্তুতি। শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েই শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন আনতে হয়। কিন্তু কলেজে শিক্ষার্থীদের কোনো অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে দেয়া হয় না। শিক্ষকরা বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট করে নেই। এটি দেখার দায়িত্ব তো শিক্ষকদের।

এটি তো দায়ের ব্যাপার। শিক্ষকদেরও জানতে হয়।
নজরুল ইসলাম খান: 
অবশ্যই। শুধু শিক্ষর্থীদের পড়তে বলা হয়। আমি মনে করি, শিক্ষকদেরই অধিক পড়তে হয়। এক ঘণ্টা পড়াতে একজন শিক্ষককে একশ ঘণ্টা পড়তে হয়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছ থেকে নির্যাসটুকু নেবে। শিক্ষকদের বই পড়ার সুযোগ করে দিতে হবে।

স্কুল-কলেজের লাইব্রেরিতে বই পড়ার সুযোগ পায় না শিক্ষার্থীরা। দুপুর না হতেই কলেজে তালা। শিক্ষার্থীদের নানামুখী বই পড়ানোর সুযোগ করে দিতে হবে। প্রয়োজনে পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরি করে দিতে হবে। অনলাইনে বা প্রযুক্তির মাধ্যমেও বই পড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এগুলো কোনো কঠিন কাজ নয়। রিফর্ম করতে হবে। সাইকেল হাতে নিয়ে রকেটের গতি প্রত্যাশা করা যায় না।

গোটা সিস্টেমই তো ত্রুটিপূর্ণ। উত্তরণের প্রত্যাশা করা যায়?
নজরুল ইসলাম খান: 
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘দ্বার রুদ্ধ করে দিয়ে ভ্রমটাকে রুখি, সত্য বলে আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি?’

সচিব থাকা অবস্থায় দেখেছি, মৃত মানুষকেও প্রমোশন দেয়া হয় এ দেশে। অনেকে ভয়ঙ্কর তথ্যও আছে। সব বিষয় বলা যায় না। কোনো কোনো সময় বলাও ঠিক না।

উপায় কী? শিক্ষা প্রশাসনের সংকট মোকাবেলায় আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি না?
নজরুল ইসলাম খান: 
প্রথমত রিফর্ম মাইন্ডেড মানুষদের দায়িত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আমলাদের এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমলাদের টেনে ধরলে চলবে না। আবার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সবাই হয়ত সঠিক বলবে না। তবে অনেক সিদ্ধান্ত থেকে সঠিকটি বেছে নিতে হবে।

বাংলাদেশে প্রধান সমস্যা হচ্ছে রিফর্ম করার মানসিকতার অভাব।

সূত্র: জাগো নিউজ।