ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

কোরআনের বাণী দীন নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপই বিদ্রুপকারীকে ধ্বংস করবে

কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা আনআম, আয়াত : ৯-১০

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে 

وَ لَوۡ جَعَلۡنٰهُ مَلَكًا لَّجَعَلۡنٰهُ رَجُلًا وَّ لَلَبَسۡنَا عَلَیۡهِمۡ مَّا یَلۡبِسُوۡنَ ﴿۹﴾

وَ لَقَدِ اسۡتُهۡزِیٴَ بِرُسُلٍ مِّنۡ قَبۡلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِیۡنَ سَخِرُوۡا مِنۡهُمۡ مَّا كَانُوۡا بِهٖ یَسۡتَهۡزِءُوۡنَ ﴿۱۰﴾

সরল অনুবাদ

(৯) যদি তাকে ফিরিশতা করতাম, তবে তাকে মানুষের আকৃতিতেই প্রেরণ করতাম। আর তাদেরকে সেরূপ বিভ্রমেই ফেলতাম, যেরূপ বিভ্রমে তারা এখন রয়েছে।

(১০) আর আপনার আগে অনেক রাসুলকে নিয়েই তো ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়েছে। ফলে রাসুলদের সাথে বিদ্রুপকারীদেরকে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছিল তা-ই পরিবেষ্টন করেছে।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা আনআমের ৮ নং আয়াতে বলা হয়েছিল যে, কাফির সম্প্রদায় দাবি পেশ করে বলতো যে, একজন মানুষকে রাসুল না বানিয়ে একজন ফিরিশতাকে কেন রাসুল বানানো হলো না? কিংবা রাসুলের সাথে কেন অপর একজন ফিরিশতা সতর্ককারী হিসেবে সার্বক্ষনিক থাকে না। যদি এমনটি হতো তাহলে তো আমরা ঈমান আনয়ন করে নিতাম। তাদের সেই দাবি আগেও খন্ডন করা হয়েছে এখন  ৯নং আয়াতে আবারও বলা হচ্ছে যে, যদি আমি ফিরিশতাকেই রিসালাত দিয়ে প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতাম, তাহলে এ কথা পরিষ্কার যে, সে তো ফিরিশতার আকৃতিতে আসতে পারতো না, কারণ এতে (ফিরিশতার আকৃতি-প্রকৃতিতে এলে) মানুষ তাকে ভয় পেত এবং তার নিকট হওয়ার পরিবর্তে তার থেকে আরো দূর হওয়ার চেষ্টা করতো। তাই তাকে মানুষের রূপেই পাঠানো অপরিহার্য হতো।

কিন্তু তখনও তোমাদের নেতারা এই আপত্তি এবং সন্দেহ উত্থাপন করত যে, এও তো মানুষ। যেমন, এখন তারা রাসুলের মানুষ হওয়ার ব্যাপারে উত্থাপন করছে। তাহলে ফিরিশতাকে পাঠিয়ে লাভ কি?সুরার ১০ নং আয়াতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাস্তুনার জন্য বলা হয়েছেঃ স্বজাতির পক্ষ থেকে আপনি যে উপহাস, ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও যাতনা ভোগ করছেন, তা শুধু আপনারই বৈশিষ্ট্য নয়, আপনার পূর্বেও সব নবীকে এমনি হৃদয়বিদারক ও প্রাণঘাতি ঘটনাবলির সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু তারা সাহস হারাননি।

পরিণামে বিদ্রুপকারী জাতিকে সে আজাবই পাকড়াও করেছে, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত। কাজেই আল্লাহর বিধানাবলি প্রচার করাই আপনার কাজ। এ দায়িত্ব পালন করে আপনি দায়মুক্ত হয়ে যান।কেউ তা গ্রহণ করল কি না তা দেখাশোনা করা আপনার দায়িত্ব নয়। তাই এতে মশগুল হয়ে আপনি অন্তরকে ব্যথিত করবেন না।

আপনার পূর্বেও নবী-রাসূলগণের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়েছে। যেমন নূহ আলাইহিস সালামকে তারা বলেছিল, নবী হওয়ার পরে সুতার হয়ে গেলে। হুদ আলাইহিস সালামকে বলেছিল, আমরা তো এটাই বলি, আমাদের উপাস্যদের মধ্যে কেউ তোমাকে অশুভ দ্বারা আবিষ্ট করেছে। (সূরা হুদ, আয়অত: ৫৪)সালেহ আলাইহিস সালামকে বলেছিল, হে সালিহ! তুমি আমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছে, তা নিয়ে এস, যদি তুমি রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাক। (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৭৭) লূত আলাইহিস সালাম সম্পর্কে তারা বলেছিল, ‘লুত-পরিবারকে তোমরা জনপদ থেকে বহিস্কার কর, এরা তো এমন লোক যারা পবিত্র সাজতে চায়। (সূরা আন-নামল, আয়াত: ৫৬) অনুরূপভাবে শু’আইব আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছিল হে শু’আইব! তুমি যা বল তার অনেক কথা আমরা বুঝি না এবং আমরা তো আমাদের মধ্যে তোমাকে দুর্বলই দেখছি। তোমার স্বজনবর্গ না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর নিক্ষেপ করে মেরে ফেলতাম, আর আমাদের উপর তুমি শক্তিশালী নও। (সূরা হুদ, আয়াত: ৯১) তাছাড়া তারা নবীর সালাত নিয়েও ঠাট্টা করে বলত, হে শু’আইব! তোমার সালাত কি তোমাকে নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃ-পুরুষেরা যার ইবাদাত করত আমাদেরকে তা বর্জন করতে হবে অথবা আমরা আমাদের ধন-সম্পদ সম্পর্কে যা করি তাও? তুমি তো অবশ্যই সহিষ্ণু, বুদ্ধিমান। (সূরা হুদ, আয়াত: ৮৭) [আদওয়াউল বায়ান]

 

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

কোরআনের বাণী দীন নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপই বিদ্রুপকারীকে ধ্বংস করবে

আপডেট টাইম : ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা আনআম, আয়াত : ৯-১০

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে 

وَ لَوۡ جَعَلۡنٰهُ مَلَكًا لَّجَعَلۡنٰهُ رَجُلًا وَّ لَلَبَسۡنَا عَلَیۡهِمۡ مَّا یَلۡبِسُوۡنَ ﴿۹﴾

وَ لَقَدِ اسۡتُهۡزِیٴَ بِرُسُلٍ مِّنۡ قَبۡلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِیۡنَ سَخِرُوۡا مِنۡهُمۡ مَّا كَانُوۡا بِهٖ یَسۡتَهۡزِءُوۡنَ ﴿۱۰﴾

সরল অনুবাদ

(৯) যদি তাকে ফিরিশতা করতাম, তবে তাকে মানুষের আকৃতিতেই প্রেরণ করতাম। আর তাদেরকে সেরূপ বিভ্রমেই ফেলতাম, যেরূপ বিভ্রমে তারা এখন রয়েছে।

(১০) আর আপনার আগে অনেক রাসুলকে নিয়েই তো ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়েছে। ফলে রাসুলদের সাথে বিদ্রুপকারীদেরকে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছিল তা-ই পরিবেষ্টন করেছে।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা আনআমের ৮ নং আয়াতে বলা হয়েছিল যে, কাফির সম্প্রদায় দাবি পেশ করে বলতো যে, একজন মানুষকে রাসুল না বানিয়ে একজন ফিরিশতাকে কেন রাসুল বানানো হলো না? কিংবা রাসুলের সাথে কেন অপর একজন ফিরিশতা সতর্ককারী হিসেবে সার্বক্ষনিক থাকে না। যদি এমনটি হতো তাহলে তো আমরা ঈমান আনয়ন করে নিতাম। তাদের সেই দাবি আগেও খন্ডন করা হয়েছে এখন  ৯নং আয়াতে আবারও বলা হচ্ছে যে, যদি আমি ফিরিশতাকেই রিসালাত দিয়ে প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতাম, তাহলে এ কথা পরিষ্কার যে, সে তো ফিরিশতার আকৃতিতে আসতে পারতো না, কারণ এতে (ফিরিশতার আকৃতি-প্রকৃতিতে এলে) মানুষ তাকে ভয় পেত এবং তার নিকট হওয়ার পরিবর্তে তার থেকে আরো দূর হওয়ার চেষ্টা করতো। তাই তাকে মানুষের রূপেই পাঠানো অপরিহার্য হতো।

কিন্তু তখনও তোমাদের নেতারা এই আপত্তি এবং সন্দেহ উত্থাপন করত যে, এও তো মানুষ। যেমন, এখন তারা রাসুলের মানুষ হওয়ার ব্যাপারে উত্থাপন করছে। তাহলে ফিরিশতাকে পাঠিয়ে লাভ কি?সুরার ১০ নং আয়াতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাস্তুনার জন্য বলা হয়েছেঃ স্বজাতির পক্ষ থেকে আপনি যে উপহাস, ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও যাতনা ভোগ করছেন, তা শুধু আপনারই বৈশিষ্ট্য নয়, আপনার পূর্বেও সব নবীকে এমনি হৃদয়বিদারক ও প্রাণঘাতি ঘটনাবলির সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু তারা সাহস হারাননি।

পরিণামে বিদ্রুপকারী জাতিকে সে আজাবই পাকড়াও করেছে, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত। কাজেই আল্লাহর বিধানাবলি প্রচার করাই আপনার কাজ। এ দায়িত্ব পালন করে আপনি দায়মুক্ত হয়ে যান।কেউ তা গ্রহণ করল কি না তা দেখাশোনা করা আপনার দায়িত্ব নয়। তাই এতে মশগুল হয়ে আপনি অন্তরকে ব্যথিত করবেন না।

আপনার পূর্বেও নবী-রাসূলগণের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়েছে। যেমন নূহ আলাইহিস সালামকে তারা বলেছিল, নবী হওয়ার পরে সুতার হয়ে গেলে। হুদ আলাইহিস সালামকে বলেছিল, আমরা তো এটাই বলি, আমাদের উপাস্যদের মধ্যে কেউ তোমাকে অশুভ দ্বারা আবিষ্ট করেছে। (সূরা হুদ, আয়অত: ৫৪)সালেহ আলাইহিস সালামকে বলেছিল, হে সালিহ! তুমি আমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছে, তা নিয়ে এস, যদি তুমি রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাক। (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৭৭) লূত আলাইহিস সালাম সম্পর্কে তারা বলেছিল, ‘লুত-পরিবারকে তোমরা জনপদ থেকে বহিস্কার কর, এরা তো এমন লোক যারা পবিত্র সাজতে চায়। (সূরা আন-নামল, আয়াত: ৫৬) অনুরূপভাবে শু’আইব আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছিল হে শু’আইব! তুমি যা বল তার অনেক কথা আমরা বুঝি না এবং আমরা তো আমাদের মধ্যে তোমাকে দুর্বলই দেখছি। তোমার স্বজনবর্গ না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর নিক্ষেপ করে মেরে ফেলতাম, আর আমাদের উপর তুমি শক্তিশালী নও। (সূরা হুদ, আয়াত: ৯১) তাছাড়া তারা নবীর সালাত নিয়েও ঠাট্টা করে বলত, হে শু’আইব! তোমার সালাত কি তোমাকে নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃ-পুরুষেরা যার ইবাদাত করত আমাদেরকে তা বর্জন করতে হবে অথবা আমরা আমাদের ধন-সম্পদ সম্পর্কে যা করি তাও? তুমি তো অবশ্যই সহিষ্ণু, বুদ্ধিমান। (সূরা হুদ, আয়াত: ৮৭) [আদওয়াউল বায়ান]