ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অধ্যাপক পাভেলকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী রেশন সুবিধা পাচ্ছেন ১২-২০ গ্রেডের চাকরিজীবীরা মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবদান অবিস্মরণীয়: স্পিকার প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন: মাহদী আমিন নিজের অধিকার আদায়ে জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে : ড. মঈন খান গাজার যুদ্ধ পরবর্তী পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে চ্যালেঞ্জের মুখে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ভারি বর্ষণ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ১৩৩ বই পরিমার্জন, আসছে চার নতুন বই গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কোরআনের বাণী উপকার-অপকারের মালিক কেবল আল্লাহই

কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা : আনআম, আয়াত : ১৭-১৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَ اِنۡ یَّمۡسَسۡكَ اللّٰهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهٗۤ اِلَّا هُوَ ؕ وَ اِنۡ یَّمۡسَسۡكَ بِخَیۡرٍ فَهُوَ عَلٰی كُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۱۷﴾

وَ هُوَ الۡقَاهِرُ فَوۡقَ عِبَادِهٖ ؕ وَ هُوَ الۡحَكِیۡمُ الۡخَبِیۡرُ ﴿۱۸﴾

সরল অনুবাদ

(১৭) আর যদি আল্লাহ আপনাকে কোনো দুর্দশা দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া তা মোচনকারী আর কেউ নেই। আর যদি তিনি আপনাকে কোনো কল্যাণ দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি তো সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবানত।

(১৮) আর তিনিই আপন বান্দাদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী, আর তিনি প্রজ্ঞাময়, সম্যক অবহিত।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

এখানে ১৬ নং আয়াতে  ইসলামের একটি মৌলিক বিশ্বাস বর্ণিত হয়েছে।

সেটি হচ্ছে- প্রতিটি লাভক্ষতির মালিক প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাআলা। সত্যিকারভাবে কোনো ব্যক্তি কারো সামান্য উপকারও করতে পারে না, ক্ষতিও করতে পারে না। আল্লাহ যদি কারো লাভ করতে চান তবে তা বন্ধ করার ক্ষমতা কারও নেই। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহ যদি আপনার মংগল চান তবে তার অনুগ্রহ প্রতিহত করার কেউ নেই।
তার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছে তার কাছে সেটা পৌছান।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ১০৭)একটি হাদিসে বলা হয়েছে যে,

اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدّ

‘হে আল্লাহ! তুমি যা দান কর, তা কেউ রোধ করতে পারে না। আর তুমি যা রোধ কর, তা কেউ দিতেও পারে না। আর ধনীদের ধন তোমার আযাব থেকে বাঁচতে কোনো উপকারে আসবে না।

’ (বুখারি, হাদিস ৮৪৪; মুসলিম, হাদিস ৫৯৩) মহানবী (সা.) প্রত্যেক ফরয নামাযের পর এই বাক্যটি পাঠ করতেন।পরিতাপের বিষয় হচ্ছে- কোরআনুল কারিমের এ সুস্পষ্ট ঘোষণা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা সত্ত্বেও মুসলিমরা এ ব্যাপারে দিকভ্রান্ত। তারা নানান সঙ্কটে আল্লাহ্ তাআলার সব ক্ষমতার সামনে মাথা নত না করে নানা সৃষ্টজীবের কাছে গিয়ে সাহায্য চায়। তারা  বিপদের সময় আল্লাহ্ তাআলাকে স্মরণ করে না এবং তারা তার কাছে দোয়া করার পরিবর্তে বিভিন্ন নামের দোহাই দেয় এবং তাদেরই সাহায্য কামনা করে। অথচ কোনো সৃষ্ট জীবকে অভাব পূরণের জন্য বা বিপদ দূর করার জন্য ডাকা কোরআনী এ নির্দেশের পরিপন্থী ও প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণার নামান্তর।

আল্লাহ আমাদের সকলকে একমাত্র আল্লাহরই ওপর ভরসা করে সকল বিপদাপদে তাঁরই প্রতি ধাবিত হওয়ার তাওফিক দান করুন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

অধ্যাপক পাভেলকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী

কোরআনের বাণী উপকার-অপকারের মালিক কেবল আল্লাহই

আপডেট টাইম : ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা : আনআম, আয়াত : ১৭-১৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَ اِنۡ یَّمۡسَسۡكَ اللّٰهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهٗۤ اِلَّا هُوَ ؕ وَ اِنۡ یَّمۡسَسۡكَ بِخَیۡرٍ فَهُوَ عَلٰی كُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۱۷﴾

وَ هُوَ الۡقَاهِرُ فَوۡقَ عِبَادِهٖ ؕ وَ هُوَ الۡحَكِیۡمُ الۡخَبِیۡرُ ﴿۱۸﴾

সরল অনুবাদ

(১৭) আর যদি আল্লাহ আপনাকে কোনো দুর্দশা দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া তা মোচনকারী আর কেউ নেই। আর যদি তিনি আপনাকে কোনো কল্যাণ দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি তো সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবানত।

(১৮) আর তিনিই আপন বান্দাদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী, আর তিনি প্রজ্ঞাময়, সম্যক অবহিত।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

এখানে ১৬ নং আয়াতে  ইসলামের একটি মৌলিক বিশ্বাস বর্ণিত হয়েছে।

সেটি হচ্ছে- প্রতিটি লাভক্ষতির মালিক প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাআলা। সত্যিকারভাবে কোনো ব্যক্তি কারো সামান্য উপকারও করতে পারে না, ক্ষতিও করতে পারে না। আল্লাহ যদি কারো লাভ করতে চান তবে তা বন্ধ করার ক্ষমতা কারও নেই। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহ যদি আপনার মংগল চান তবে তার অনুগ্রহ প্রতিহত করার কেউ নেই।
তার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছে তার কাছে সেটা পৌছান।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ১০৭)একটি হাদিসে বলা হয়েছে যে,

اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدّ

‘হে আল্লাহ! তুমি যা দান কর, তা কেউ রোধ করতে পারে না। আর তুমি যা রোধ কর, তা কেউ দিতেও পারে না। আর ধনীদের ধন তোমার আযাব থেকে বাঁচতে কোনো উপকারে আসবে না।

’ (বুখারি, হাদিস ৮৪৪; মুসলিম, হাদিস ৫৯৩) মহানবী (সা.) প্রত্যেক ফরয নামাযের পর এই বাক্যটি পাঠ করতেন।পরিতাপের বিষয় হচ্ছে- কোরআনুল কারিমের এ সুস্পষ্ট ঘোষণা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা সত্ত্বেও মুসলিমরা এ ব্যাপারে দিকভ্রান্ত। তারা নানান সঙ্কটে আল্লাহ্ তাআলার সব ক্ষমতার সামনে মাথা নত না করে নানা সৃষ্টজীবের কাছে গিয়ে সাহায্য চায়। তারা  বিপদের সময় আল্লাহ্ তাআলাকে স্মরণ করে না এবং তারা তার কাছে দোয়া করার পরিবর্তে বিভিন্ন নামের দোহাই দেয় এবং তাদেরই সাহায্য কামনা করে। অথচ কোনো সৃষ্ট জীবকে অভাব পূরণের জন্য বা বিপদ দূর করার জন্য ডাকা কোরআনী এ নির্দেশের পরিপন্থী ও প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণার নামান্তর।

আল্লাহ আমাদের সকলকে একমাত্র আল্লাহরই ওপর ভরসা করে সকল বিপদাপদে তাঁরই প্রতি ধাবিত হওয়ার তাওফিক দান করুন।