ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

ইসরায়েলের জায়নবাদী আর ভারতের আরএসএস ‘যমজ ভাই’: কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট ও মুদ্রা উন্মোচনের পরদিনই ডানপন্থী সংগঠনটিকে ইসরায়েলের জায়নবাদীদের সঙ্গে তুলনা করে দুই পক্ষকে ‘যমজ ভাই’ আখ্যা দিয়েছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার কেরালার উপকূলীয় শহর কান্নুরে এক জনসভায় বিজয়ন বলেন, ইসরায়েলের জায়নিস্ট আর ভারতের আরএসএস হলো ‘যমজ ভাই’।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পিনারাই বলেন, ‘আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন আমাদের সংবিধানের প্রতি গুরুতর অপমান।’

আরএসএসের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সবাদী) সাধারণ সম্পাদক ডি রাজাও। তিনি বলেন, আরএসএস প্রতিক্রিয়াশীল, বিভাজন সৃষ্টিকারী, সাম্প্রদায়িক এবং সমাজকে দ্বিখণ্ডিত করে দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় আরএসএস কী ভূমিকা রেখেছিল—প্রধানমন্ত্রীকে সেটা জনগণকে ব্যাখ্যা করতে হবে।

আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সঞ্জয় সিং একইভাবে সমালোচনা করে বলেন, ‘সরকার এমন একটি সংগঠনের শতবর্ষ উদ্‌যাপন করছে, যারা টানা ৫২ বছর জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি এবং ব্রিটিশ শাসনকে সমর্থন করেছিল।’

কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপাঙ্কর ভট্টাচার্য এই উদ্‌যাপনকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এটি সেই সংগঠন, যাকে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার প্যাটেল নিষিদ্ধ করেছিলেন। আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন গান্ধী জয়ন্তীর সঙ্গে মিলে যাওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

দীপাঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, এরচেয়েও উদ্বেগজনক হলো, বর্তমান সরকার এই উদ্‌যাপনকে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে পালন করছে। বিজেপি সরকার আর আরএসএসের মধ্যে বিভাজনরেখা আজ মুছে গেছে।

অন্য দিকে স্মারক ডাকটিকিট ও বিশেষ মুদ্রা প্রকাশ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরএসএসকে বর্ণনা করেন ‘শাশ্বত জাতীয় চেতনার প্রতীক’ হিসেবে। তিনি বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আরএসএস।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

ইসরায়েলের জায়নবাদী আর ভারতের আরএসএস ‘যমজ ভাই’: কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই

আপডেট টাইম : ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট ও মুদ্রা উন্মোচনের পরদিনই ডানপন্থী সংগঠনটিকে ইসরায়েলের জায়নবাদীদের সঙ্গে তুলনা করে দুই পক্ষকে ‘যমজ ভাই’ আখ্যা দিয়েছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার কেরালার উপকূলীয় শহর কান্নুরে এক জনসভায় বিজয়ন বলেন, ইসরায়েলের জায়নিস্ট আর ভারতের আরএসএস হলো ‘যমজ ভাই’।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পিনারাই বলেন, ‘আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন আমাদের সংবিধানের প্রতি গুরুতর অপমান।’

আরএসএসের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সবাদী) সাধারণ সম্পাদক ডি রাজাও। তিনি বলেন, আরএসএস প্রতিক্রিয়াশীল, বিভাজন সৃষ্টিকারী, সাম্প্রদায়িক এবং সমাজকে দ্বিখণ্ডিত করে দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় আরএসএস কী ভূমিকা রেখেছিল—প্রধানমন্ত্রীকে সেটা জনগণকে ব্যাখ্যা করতে হবে।

আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সঞ্জয় সিং একইভাবে সমালোচনা করে বলেন, ‘সরকার এমন একটি সংগঠনের শতবর্ষ উদ্‌যাপন করছে, যারা টানা ৫২ বছর জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি এবং ব্রিটিশ শাসনকে সমর্থন করেছিল।’

কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপাঙ্কর ভট্টাচার্য এই উদ্‌যাপনকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এটি সেই সংগঠন, যাকে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার প্যাটেল নিষিদ্ধ করেছিলেন। আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন গান্ধী জয়ন্তীর সঙ্গে মিলে যাওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

দীপাঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, এরচেয়েও উদ্বেগজনক হলো, বর্তমান সরকার এই উদ্‌যাপনকে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে পালন করছে। বিজেপি সরকার আর আরএসএসের মধ্যে বিভাজনরেখা আজ মুছে গেছে।

অন্য দিকে স্মারক ডাকটিকিট ও বিশেষ মুদ্রা প্রকাশ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরএসএসকে বর্ণনা করেন ‘শাশ্বত জাতীয় চেতনার প্রতীক’ হিসেবে। তিনি বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আরএসএস।