ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

কাঁঠালপাতা বিক্রি করে চলছে সংসার

বিরামপুরে মহাসড়কের পাশের একটি ছোট দোকানেই সাজানো কাঁঠালপাতার স্তূপ। সেই দোকানেই দাঁড়িয়ে ক্রেতাদের ডাক শুনছেন দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল হামিদ। কেউ বলেন, ‘মাস্টার, এক বোঝা পাতা দেন’Ñ এমন ডাক শুনলেই তিনি দ্রুত তুলে দেন তাজা পাতা। দিনের শেষে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলছে তাঁর সংসারের সমস্ত খরচ।

৫৮ বছর বয়সী এই শিক্ষক প্রায় দুই যুগ ধরে বিরামপুর উপজেলার দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের কলাবাগান এলাকায় কাঁঠালপাতা বিক্রি করছেন। অথচ তিনি ২০০২ সালের ১ জুন দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয়ে কৃষি বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দিয়েছিলেন। যোগদানের পর এমপিওভুক্তির জন্য ৯ বার আবেদন করলেও প্রতিবারই তা বাতিল হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিদ্যালয়ে পাঠদান করলেও কখনই সরকারি বেতন পাননি তিনি।

আবদুল হামিদের বাড়ি উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় সংসার চালানো দায় হয়ে উঠেছিল। স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ভার সামলাতে বাধ্য হয়ে নিতে হয়েছে কাঁঠালপাতার ব্যবসা। প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয় এ থেকে। তাঁর ভাষায়Ñ ‘শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আর বিদ্যালয়ের প্রতি মায়া না থাকলে অনেক আগেই সব ছেড়ে দিতাম; কিন্তু ওদের মুখের দিকে তাকালে চলে যেতে মন চায় না।’ বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান করলেও স্কুল থেকে কোনো ভাতা বা আর্থিক সহায়তাও পান না তিনি। তারপরও প্রতিদিন সকালেই স্কুলে যান, ক্লাস নেন এবং বিকালে চলে আসেন মহাসড়কের ধারের দোকানে।

স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে বেতন ছাড়া স্কুলে দায়িত্ব পালন করাটা এক ধরনের ত্যাগ। তাঁরা আশা করেন, দ্রুত তাঁর এমপিও-সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান হবে এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে তাঁর কষ্টের অবসান ঘটবে।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে বেতনহীন থেকে পরিবারের দায়দায়িত্ব সামলাতে সংগ্রাম করলেও হামিদের চোখে এখনও শিক্ষকতার প্রতি অনাবিল ভালোবাসাÑ এটাই তাঁর শক্তি, এটাই তাঁর অনুপ্রেরণা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন

কাঁঠালপাতা বিক্রি করে চলছে সংসার

আপডেট টাইম : ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

বিরামপুরে মহাসড়কের পাশের একটি ছোট দোকানেই সাজানো কাঁঠালপাতার স্তূপ। সেই দোকানেই দাঁড়িয়ে ক্রেতাদের ডাক শুনছেন দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল হামিদ। কেউ বলেন, ‘মাস্টার, এক বোঝা পাতা দেন’Ñ এমন ডাক শুনলেই তিনি দ্রুত তুলে দেন তাজা পাতা। দিনের শেষে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলছে তাঁর সংসারের সমস্ত খরচ।

৫৮ বছর বয়সী এই শিক্ষক প্রায় দুই যুগ ধরে বিরামপুর উপজেলার দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের কলাবাগান এলাকায় কাঁঠালপাতা বিক্রি করছেন। অথচ তিনি ২০০২ সালের ১ জুন দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয়ে কৃষি বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দিয়েছিলেন। যোগদানের পর এমপিওভুক্তির জন্য ৯ বার আবেদন করলেও প্রতিবারই তা বাতিল হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিদ্যালয়ে পাঠদান করলেও কখনই সরকারি বেতন পাননি তিনি।

আবদুল হামিদের বাড়ি উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় সংসার চালানো দায় হয়ে উঠেছিল। স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ভার সামলাতে বাধ্য হয়ে নিতে হয়েছে কাঁঠালপাতার ব্যবসা। প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয় এ থেকে। তাঁর ভাষায়Ñ ‘শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আর বিদ্যালয়ের প্রতি মায়া না থাকলে অনেক আগেই সব ছেড়ে দিতাম; কিন্তু ওদের মুখের দিকে তাকালে চলে যেতে মন চায় না।’ বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান করলেও স্কুল থেকে কোনো ভাতা বা আর্থিক সহায়তাও পান না তিনি। তারপরও প্রতিদিন সকালেই স্কুলে যান, ক্লাস নেন এবং বিকালে চলে আসেন মহাসড়কের ধারের দোকানে।

স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে বেতন ছাড়া স্কুলে দায়িত্ব পালন করাটা এক ধরনের ত্যাগ। তাঁরা আশা করেন, দ্রুত তাঁর এমপিও-সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান হবে এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে তাঁর কষ্টের অবসান ঘটবে।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে বেতনহীন থেকে পরিবারের দায়দায়িত্ব সামলাতে সংগ্রাম করলেও হামিদের চোখে এখনও শিক্ষকতার প্রতি অনাবিল ভালোবাসাÑ এটাই তাঁর শক্তি, এটাই তাঁর অনুপ্রেরণা।