ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

ইমরান খানের এমন কিছু ঘটেছে, যা পরিবর্তন করা যাচ্ছে না—ছেলেদের আশঙ্কা

গত সপ্তাহের শুরুতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমরান খানকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া একাধিক গুজব পাকিস্তানের রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তোলে। যাচাইবিহীন এসব গুজবে দাবি করা হয়, রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নাকি হত্যা করা হয়েছে। দাবিগুলোর কোনো প্রমাণ না থাকলেও তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

এ অবস্থায় প্রায় এক সপ্তাহ পর ইমরান খানের দুই ছেলে—কাসিম খান ও সুলাইমান ইসা খান ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, জেল কর্তৃপক্ষ তাঁদের বাবার বিষয়ে ‘অপরিবর্তনীয় কিছু’ গোপন করছে। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও তাঁরা ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, এমনকি তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাননি।

কাসিম খান ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তাঁরা বাবার অবস্থা সম্পর্কে কোনো সরাসরি বা নিশ্চিত খবর জানতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আপনার বাবা নিরাপদ আছেন কি না, আঘাত পেয়েছেন কি না, এমনকি বেঁচে আছেন কি না—এই বিষয়গুলো না জানা তো মানসিক নির্যাতনেরই একটি রূপ।’ইমরানকে সরানোর খেসারত: পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর নীরব অভ্যুত্থান, দেশ শাসনের নয়া মডেলইমরানকে সরানোর খেসারত: পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর নীরব অভ্যুত্থান, দেশ শাসনের নয়া মডেল
কাসিমের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে তাঁর বাবার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেছেন, এমন নজির পাওয়া যায়নি। তাঁর মতে, ইমরান খানকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। কাসিম বলেন, ‘তারা ইমরান খানকে আলাদা করে রেখেছে, কারণ তারা তাঁকে ভয় পায়। তিনি পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা এবং গণতান্ত্রিকভাবে তাঁকে পরাজিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’

ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথের গর্ভে জন্ম নেওয়া কাসিম ও সুলাইমান তাঁদের মায়ের সঙ্গে লন্ডনে বাসবাস করছেন। এতদিন পাকিস্তানের রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও বাবার কারাবন্দীত্বের কারণে এখন প্রকাশ্যে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন। কাসিম জানান, শেষবার তাঁরা বাবাকে দেখেছিলেন ২০২২ সালের নভেম্বরে। সেদিন একটি হত্যাচেষ্টা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন ইমরান খান। স্মৃতিচারণ করে কাসিম বলেন, ‘সেই দৃশ্য এখনো চোখে ভাসে। তিনি সময়ের সঙ্গে সেরে উঠবেন বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন যখন সপ্তাহের পর সপ্তাহ কোনো খবর নেই, সেই স্মৃতি আরও ভারী হয়ে এসেছে।’

এদিকে গত বুধবার সামাজিক মাধ্যমে আবারও ছড়িয়ে পড়ে ইমরান খানের ‘হত্যার’ গুজব। কিছু পোস্টে এমনকি তাঁকে স্ট্রেচারে শোয়ানো একটি ছবি দেখানো হয়, যদিও পরে নিশ্চিত করা হয় এটি ২০২২ সালের হত্যাচেষ্টার সময়কার ছবি।

৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি আদিয়ালা জেলে বন্দী রয়েছেন।

জেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য সব গুজবকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ইমরান খান আদিয়ালা জেলেই আছেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পিটিআই নেতৃত্বকে ইমরান খানের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানানো হয়েছে। তাঁর প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা ও যত্ন নিশ্চিত করা হচ্ছে।’ এ ছাড়া তাঁকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার গুজবও সত্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

ইমরান খানের এমন কিছু ঘটেছে, যা পরিবর্তন করা যাচ্ছে না—ছেলেদের আশঙ্কা

আপডেট টাইম : ০২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

গত সপ্তাহের শুরুতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমরান খানকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া একাধিক গুজব পাকিস্তানের রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তোলে। যাচাইবিহীন এসব গুজবে দাবি করা হয়, রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নাকি হত্যা করা হয়েছে। দাবিগুলোর কোনো প্রমাণ না থাকলেও তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

এ অবস্থায় প্রায় এক সপ্তাহ পর ইমরান খানের দুই ছেলে—কাসিম খান ও সুলাইমান ইসা খান ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, জেল কর্তৃপক্ষ তাঁদের বাবার বিষয়ে ‘অপরিবর্তনীয় কিছু’ গোপন করছে। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও তাঁরা ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, এমনকি তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাননি।

কাসিম খান ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তাঁরা বাবার অবস্থা সম্পর্কে কোনো সরাসরি বা নিশ্চিত খবর জানতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আপনার বাবা নিরাপদ আছেন কি না, আঘাত পেয়েছেন কি না, এমনকি বেঁচে আছেন কি না—এই বিষয়গুলো না জানা তো মানসিক নির্যাতনেরই একটি রূপ।’ইমরানকে সরানোর খেসারত: পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর নীরব অভ্যুত্থান, দেশ শাসনের নয়া মডেলইমরানকে সরানোর খেসারত: পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর নীরব অভ্যুত্থান, দেশ শাসনের নয়া মডেল
কাসিমের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে তাঁর বাবার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেছেন, এমন নজির পাওয়া যায়নি। তাঁর মতে, ইমরান খানকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। কাসিম বলেন, ‘তারা ইমরান খানকে আলাদা করে রেখেছে, কারণ তারা তাঁকে ভয় পায়। তিনি পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা এবং গণতান্ত্রিকভাবে তাঁকে পরাজিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’

ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথের গর্ভে জন্ম নেওয়া কাসিম ও সুলাইমান তাঁদের মায়ের সঙ্গে লন্ডনে বাসবাস করছেন। এতদিন পাকিস্তানের রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও বাবার কারাবন্দীত্বের কারণে এখন প্রকাশ্যে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন। কাসিম জানান, শেষবার তাঁরা বাবাকে দেখেছিলেন ২০২২ সালের নভেম্বরে। সেদিন একটি হত্যাচেষ্টা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন ইমরান খান। স্মৃতিচারণ করে কাসিম বলেন, ‘সেই দৃশ্য এখনো চোখে ভাসে। তিনি সময়ের সঙ্গে সেরে উঠবেন বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন যখন সপ্তাহের পর সপ্তাহ কোনো খবর নেই, সেই স্মৃতি আরও ভারী হয়ে এসেছে।’

এদিকে গত বুধবার সামাজিক মাধ্যমে আবারও ছড়িয়ে পড়ে ইমরান খানের ‘হত্যার’ গুজব। কিছু পোস্টে এমনকি তাঁকে স্ট্রেচারে শোয়ানো একটি ছবি দেখানো হয়, যদিও পরে নিশ্চিত করা হয় এটি ২০২২ সালের হত্যাচেষ্টার সময়কার ছবি।

৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি আদিয়ালা জেলে বন্দী রয়েছেন।

জেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য সব গুজবকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ইমরান খান আদিয়ালা জেলেই আছেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পিটিআই নেতৃত্বকে ইমরান খানের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানানো হয়েছে। তাঁর প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা ও যত্ন নিশ্চিত করা হচ্ছে।’ এ ছাড়া তাঁকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার গুজবও সত্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়।