ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

নির্বাচনের আগে ভারত-বাংলাদেশ উত্তেজনা নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড কারা

দেশের মানুষ যখন নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে, প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত; তখন হঠাৎ করে বাংলাদেশ-ভারত চরম উত্তেজনা। ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে একে অপরের হাইকমিশনারদের তলব পাল্টা তলব চলছে। ঢাকায় ভারতের হাইকমিশন ঘেরাও এবং ভারতে দিল্লি, কোলকাতা, আগরতলায় বাংলাদেশের হাইকমিশন অফিস, ভিসা সেন্টার অফিস ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘটছে। দুই দেশের উগ্রবাদীরা এসব কা- করছে। দেশের সবকিছুই যখন নির্বাচনমুখী তখন বৈরী সম্পর্কের প্রতিবেশী হিন্দুত্ববাদী ভারতের সঙ্গে হঠাৎ উত্তেজনা সৃষ্টির কী রহস্য? যারা নির্বাচন পেছানোর চেষ্টার আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে তারাই কী নির্বাচন ঠেকাতে বিশৃংখলার ষড়যন্ত্র করছে? মৃত্যুদ-প্রাপ্ত হাসিনাকে আশ্রয় দেয়ায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে তলানিতে। দুই দেশের মধ্যেকার ছ্ইাচাপা পুরনো বিরোধ উস্কে দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলাটে করার কী অপচেষ্টা হচ্ছে? নাকি ‘ভারত বিরোধী কার্ড’ ব্যবহার করে ভোটারদের মনজয় করে ভোট নেয়ার পুরনো চেষ্টা? বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির নেপথ্যের মাস্টারমাই- কারা?

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি নতুন ঘটনা নয়। ফ্যাসিস্ট হাসিনা বাংলাদেশকে দিল্লির দাসত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পাল্টে যায় দৃশ্যপাট। হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার অপরাধীকে দিল্লি আশ্রয় দিয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সাপে-নেউলে সম্পর্কে পৌঁছেছে। বাংলাদেশীদের ভিসা বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষও ভারতের বদলে চিকিৎসার জন্য চীনমুখী হয়েছে। ভারত শত্রু রাষ্ট্র না হলেও স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও প্রকৃত বন্ধুত্বের প্রমাণ দিতে পারেনি। মূলত হিন্দুত্ববাদী ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রতিবেশী প্রতিটি রাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক চলছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। ভারতের এই আগ্রাসী নীতির মধ্যেই প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভারতের বিজেপি নেতাদের মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্যের কারণে দেশের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ ভারত বিরোধী। এ অবস্থার মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন দিচ্ছে। সারাদেশে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। এর মধ্যে দীর্ঘ দেড় যুগ বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে স্বাগত জানাতে কয়েক দিন ধরে চলছে প্রস্তুতি। এমন সময় বাংলাদেশ-ভারত বিরোধের ছাইচাপা আগুন জ্বালিয়ে তোলা হয়েছে। নির্বাচনের আগে ভারতের সঙ্গে বিরোধ ইস্যুকে উস্কে দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার রহস্যজনক আত্মঘাতী চেষ্টার নেপথ্যে কারা?

দুই দেশের মধ্যেকার উত্তেজনা এবং দিল্লি ও কোলকাতা হাইকমিশন উগ্রহিন্দুত্ববাদীদের ঘেরাও প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘আমরা ভারতীয় কূটনীতিকদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়েছি, তাদেরও উচিত আমাদের কূটনীতিকদের নিরাপত্তা দেয়া। বাংলাদেশের প্রতি ভারতের পলিসি রিসেট করতে হবে, হাসিনার মত হলে হবে না। কারণ বাংলাদেশ এখন হাসিনা ও আওয়ামী লীগ বলতে কিছুই নেই’।

গতকাল মঙ্গলবার ভারতের কেন্দ্রীয় রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে একদল বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হাইকমিশনের সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুরো এলাকাটি তিন স্তরের ব্যারিকেডে ঘিরে রাখা হয় এবং সেখানে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে উগ্র হিন্দুরা। এর আগে ২২ ডিসেম্বর শিলিগুড়িতে বাংলাদেশ ভিসা কেন্দ্রে বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ত্রিপুরাও বাংলাদেশে উপ হাইকমিশন অফিস ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘটে। গত ২০ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গেটে বিক্ষোভ করে একদল উগ্রহিন্দুবাদী। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের গভীর উদ্বেগ জানাতে গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে। প্রণয় ভার্মাকে জানানো হয় নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও হাইকমিশনারের বাসভবনের বাইরে ঘটে যাওয়া দুঃখজনক ঘটনা। ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ঘটনার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। প্রণব ভার্মাও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন। এর ১০ দিন আগেও প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে প্রায় ২০-২৫ জন যুবক জড়ো হয়েছিলেন। তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা হাইকমিশনের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করেনি বা কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেনি। গতকালও একই ভাবে বিক্ষোভকারীদের সরানো হয়। ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘ভারতের ওই প্রেস নোট আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন এতো লোক কি করে হাইকমিশনের কাছে পৌঁছলো? এর মধ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করেছিল। ভারত বাংলাদেশের ভিসা সেন্টার সাময়িক ভাবে বন্ধ করে এবং বাংলাদেশও নয়া দিল্লিস্থ হাইকমিশন থেকে ভারতীয়দের ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দেয়। ভারতের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক ওপেন সিক্রেট। কিন্তু নির্বাচনের আগে কেন বিরোধপুর্ণ সম্পর্কের আগুনে ঘি ঢালা হচ্ছে?’

ঢাকা-দিল্লির মধ্যেকার ছাইচাপা বিরোধ উস্কে দেয়ার নেপথ্যে রয়েছে রাজনীতির ভিতরে নোংরা পলিটিক্স। এটা মূলত আসন্ন নির্বাচন ঠেকানো এবং পেছানোর গভীর ষড়যন্ত্র। নির্বাচন ঠেকানো সম্ভব না হলে ভারত বিরোধী হিসেবে ইমেজ তৈরি করে ভোটারদের মনজয় করা। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকা-কে কেন্দ্র করে মূলত বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনা ইস্যু তৈরি করা হয়। ওসমান হাদির হত্যাকা- ছাড়াও খুলনায় এনসিপির এক নেতাকে গুলি, চট্টগ্রামে বিএনপির এক প্রার্থীকে গুলি, লক্ষিপুরে বিএনপি নেতার বাসার দরজা বন্ধ করে আগুন লাগিয়ে শিশু হত্যা, ময়মনসিংহে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে হিন্দু ধর্মাবলম্বী গার্মেস্টস কর্মীকে পুড়িয়ে মারা এবং পাবনায় বিএনপির প্রার্থীর উপর গুলির ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে হাদির খুনি শনাক্ত হয়েছে এবং পাবনায় বিএনপির প্রার্থীর অনুষ্ঠানে গুলির ঘটনায় ছাত্রশিবিরের নেতা পিস্তলসহ ধরা পড়েছে। এছাড়া অন্যান্য ঘ্টনাগুলোর নেপথ্যের কাহিনী এখনো মানুষের অজানা। কিন্তু ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর প্রকাশনায় হামলা অগ্নিকা-ের ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান অভিযোগ উঠেছে। স্টারের বিল্ডিংয়ে অগ্নি সংযোগের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিবিরের শীর্ষ নেতা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত শিবিরের শীর্ষ নেতা আগুন দেয়ার জন্য উচ্ছৃংখল উগ্রবাদীদের নির্দেশনা দেন। ইসলামী ছাত্রশিবির অবশ্য পরে দাবি করেন শিবিরের ওই দুই নেতা মুখ ফসকে এমন কথা বলেছেন। তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দ্য নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবির জামায়াত-শিবির ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের রিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি ঘটনাস্থলে জামায়াত-শিবিরের নেতাদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং প্রশাসনও আগুন নেভাতে উগ্রবাদী তথাকথিত তৌহিদী জনতাকে নিবৃত্ত করেনি বলে দাবি করেছেন। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ কেউ গণমাধ্যমের বিল্ডিংয়ে আগুন লাগানো ঠেকানোর চেষ্টা করেননি। তিনি বলেন, দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনা মধ্যযুগীয় কায়দায় আগুন লাগিয়ে সাংবাদিকদের পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। পত্রিকা অফিসের মধ্যে আগুন লাগিয়ে দিয়ে এবং ফায়ার সার্ভিস আসার সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। আমি নিজেই ঘটনা শুনে কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি তারা আড়াই ঘন্টায়ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখাননি। প্রথম দিকে তারা উগ্রবাদীদের ঠেকানোর কথা বলেও পরে তাদের কথাবার্তায় আমার মনে হয়েছে তারা গণমাধ্যমের অগ্নিকা- ঠেকানোয় আগ্রহী নন। শুধু তাই নয়, ওসমান হাদি নিজেও নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন এবং ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। অথচ তার চেতনার বিপরীতে গিয়ে গণমাধ্যমে আগুন দিয়ে বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে শিবির। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার ওই গোষ্ঠীর (জামায়াত-শিবির) লক্ষ্য প্রস্ফুটিত হয়েছে; তারা চেয়েছে মধ্যযুগীয় কায়দায় চারপাশ থেকে আগুন লাগিয়ে যাদের সঙ্গে তাদের মতান্তর তৈরি হয়, তাদের পুড়িয়ে হত্যা করতে এবং পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যেকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের অনেকেই লিখেছেন, যারা নির্বাচন পেছাতে চায় এবং সেটা সম্ভব না হলে ভারত বিরোধিতা ধোঁয়ার নাটক করে ভোট পেতে চায় তারাই মূলত এই বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনার নেপথ্যে থাকতে পারে। কারণ প্রবাসে থেকে কিছু ইউটিউবার প্রথম আলোতে আগুন দেয়ার প্ররোচনা দিয়েছে। ওই মহল নানা ইস্যুতে বিএনপির বিরুদ্ধে এবং জামায়াতের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করেছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ‘জামায়াত ভারতের বিরুদ্ধে নয়’ ঘোষণা দেয়ার কয়েকদিন পর দলটির নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বাংলাদেশ আক্রমণের জন্য ভারতকে আমন্ত্রণ জানান। যুদ্ধ শুরু হলে জামায়াত-শিবিরের ৫০ লাখ তরুণ যুদ্ধ করবে বলেও ঘোষণা দেন। জামায়াত নেতাদের এই বক্তব্য ফলাও করে প্রচার করেন প্রবাসে থাকা ওই সব বিতর্কিত ইউটিউবার ও কন্টেইন ক্রিয়েটার। অতঃপর জামায়াতের ‘আগে সংস্কার পরে নির্বাচন’ জুলাই সনদে সই না করার প্রচারণা চালানো (পরে সই করেছে), সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট, জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী ১৪ দলের শরীকদের নিষিদ্ধ করাসহ বেশ কিছু ইস্যুতে আন্দোলন করে। ওই সব কর্মসূচির পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরালো প্রচারণা চালায় ওই প্রবাসী ইউটিউবারগণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা রয়েছে ঘোষিত তারিখে যাতে নির্বাচন না হতে পারে সে লক্ষ্যে আইন শৃংখলার অবনতির ইস্যুকে সামনে এনে নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা হতে পারে। প্রখ্যাত সাংবাদিক নুরুল কবির যে বক্তব্য দিয়েছেন, প্রশাসনের কিছু লোক এবং তাদের অনুসারী রাজনৈতিক দল এমন অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় এমন ইস্যু সৃষ্টি হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহিদ উর রহমান বলেছেন, গণমাধ্যমের অফিসে অগ্নিসংযোগ করায় কার লাভ হয়েছে তা বোঝা গেছে পরিষ্কারভাবে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের শীতল সম্পর্ক পুরনো। হাসিনাসহ বাংলাদেশের বহু খুনের মামলার আসামিকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে। পাশাপাশি সেখানে নিরাপদে থেকে হাসিনা একের পর এক হুংকার দিচ্ছে। ফলে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক সহসাই স্বাভাবিক হবে এমন নয়। কিন্তু ছাইচাপা আগুনের মতো নিস্তেজ সেই বিরোধের আগুন নির্বাচনের আগে উস্কে দেয়ার নেপথ্যের মাস্টারমাই- কারা সেটাই পরিষ্কার হওয়া জরুরি। দুই দেশের মধ্যেকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির নেপথ্যে কী আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে?

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

নির্বাচনের আগে ভারত-বাংলাদেশ উত্তেজনা নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড কারা

আপডেট টাইম : ০৭:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশের মানুষ যখন নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে, প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত; তখন হঠাৎ করে বাংলাদেশ-ভারত চরম উত্তেজনা। ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে একে অপরের হাইকমিশনারদের তলব পাল্টা তলব চলছে। ঢাকায় ভারতের হাইকমিশন ঘেরাও এবং ভারতে দিল্লি, কোলকাতা, আগরতলায় বাংলাদেশের হাইকমিশন অফিস, ভিসা সেন্টার অফিস ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘটছে। দুই দেশের উগ্রবাদীরা এসব কা- করছে। দেশের সবকিছুই যখন নির্বাচনমুখী তখন বৈরী সম্পর্কের প্রতিবেশী হিন্দুত্ববাদী ভারতের সঙ্গে হঠাৎ উত্তেজনা সৃষ্টির কী রহস্য? যারা নির্বাচন পেছানোর চেষ্টার আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে তারাই কী নির্বাচন ঠেকাতে বিশৃংখলার ষড়যন্ত্র করছে? মৃত্যুদ-প্রাপ্ত হাসিনাকে আশ্রয় দেয়ায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে তলানিতে। দুই দেশের মধ্যেকার ছ্ইাচাপা পুরনো বিরোধ উস্কে দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলাটে করার কী অপচেষ্টা হচ্ছে? নাকি ‘ভারত বিরোধী কার্ড’ ব্যবহার করে ভোটারদের মনজয় করে ভোট নেয়ার পুরনো চেষ্টা? বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির নেপথ্যের মাস্টারমাই- কারা?

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি নতুন ঘটনা নয়। ফ্যাসিস্ট হাসিনা বাংলাদেশকে দিল্লির দাসত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পাল্টে যায় দৃশ্যপাট। হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার অপরাধীকে দিল্লি আশ্রয় দিয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সাপে-নেউলে সম্পর্কে পৌঁছেছে। বাংলাদেশীদের ভিসা বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষও ভারতের বদলে চিকিৎসার জন্য চীনমুখী হয়েছে। ভারত শত্রু রাষ্ট্র না হলেও স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও প্রকৃত বন্ধুত্বের প্রমাণ দিতে পারেনি। মূলত হিন্দুত্ববাদী ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রতিবেশী প্রতিটি রাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক চলছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। ভারতের এই আগ্রাসী নীতির মধ্যেই প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভারতের বিজেপি নেতাদের মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্যের কারণে দেশের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ ভারত বিরোধী। এ অবস্থার মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন দিচ্ছে। সারাদেশে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। এর মধ্যে দীর্ঘ দেড় যুগ বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে স্বাগত জানাতে কয়েক দিন ধরে চলছে প্রস্তুতি। এমন সময় বাংলাদেশ-ভারত বিরোধের ছাইচাপা আগুন জ্বালিয়ে তোলা হয়েছে। নির্বাচনের আগে ভারতের সঙ্গে বিরোধ ইস্যুকে উস্কে দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার রহস্যজনক আত্মঘাতী চেষ্টার নেপথ্যে কারা?

দুই দেশের মধ্যেকার উত্তেজনা এবং দিল্লি ও কোলকাতা হাইকমিশন উগ্রহিন্দুত্ববাদীদের ঘেরাও প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘আমরা ভারতীয় কূটনীতিকদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়েছি, তাদেরও উচিত আমাদের কূটনীতিকদের নিরাপত্তা দেয়া। বাংলাদেশের প্রতি ভারতের পলিসি রিসেট করতে হবে, হাসিনার মত হলে হবে না। কারণ বাংলাদেশ এখন হাসিনা ও আওয়ামী লীগ বলতে কিছুই নেই’।

গতকাল মঙ্গলবার ভারতের কেন্দ্রীয় রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে একদল বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হাইকমিশনের সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুরো এলাকাটি তিন স্তরের ব্যারিকেডে ঘিরে রাখা হয় এবং সেখানে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে উগ্র হিন্দুরা। এর আগে ২২ ডিসেম্বর শিলিগুড়িতে বাংলাদেশ ভিসা কেন্দ্রে বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ত্রিপুরাও বাংলাদেশে উপ হাইকমিশন অফিস ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘটে। গত ২০ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গেটে বিক্ষোভ করে একদল উগ্রহিন্দুবাদী। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের গভীর উদ্বেগ জানাতে গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে। প্রণয় ভার্মাকে জানানো হয় নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও হাইকমিশনারের বাসভবনের বাইরে ঘটে যাওয়া দুঃখজনক ঘটনা। ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ঘটনার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। প্রণব ভার্মাও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন। এর ১০ দিন আগেও প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে প্রায় ২০-২৫ জন যুবক জড়ো হয়েছিলেন। তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা হাইকমিশনের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করেনি বা কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেনি। গতকালও একই ভাবে বিক্ষোভকারীদের সরানো হয়। ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘ভারতের ওই প্রেস নোট আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন এতো লোক কি করে হাইকমিশনের কাছে পৌঁছলো? এর মধ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করেছিল। ভারত বাংলাদেশের ভিসা সেন্টার সাময়িক ভাবে বন্ধ করে এবং বাংলাদেশও নয়া দিল্লিস্থ হাইকমিশন থেকে ভারতীয়দের ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দেয়। ভারতের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক ওপেন সিক্রেট। কিন্তু নির্বাচনের আগে কেন বিরোধপুর্ণ সম্পর্কের আগুনে ঘি ঢালা হচ্ছে?’

ঢাকা-দিল্লির মধ্যেকার ছাইচাপা বিরোধ উস্কে দেয়ার নেপথ্যে রয়েছে রাজনীতির ভিতরে নোংরা পলিটিক্স। এটা মূলত আসন্ন নির্বাচন ঠেকানো এবং পেছানোর গভীর ষড়যন্ত্র। নির্বাচন ঠেকানো সম্ভব না হলে ভারত বিরোধী হিসেবে ইমেজ তৈরি করে ভোটারদের মনজয় করা। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকা-কে কেন্দ্র করে মূলত বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনা ইস্যু তৈরি করা হয়। ওসমান হাদির হত্যাকা- ছাড়াও খুলনায় এনসিপির এক নেতাকে গুলি, চট্টগ্রামে বিএনপির এক প্রার্থীকে গুলি, লক্ষিপুরে বিএনপি নেতার বাসার দরজা বন্ধ করে আগুন লাগিয়ে শিশু হত্যা, ময়মনসিংহে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে হিন্দু ধর্মাবলম্বী গার্মেস্টস কর্মীকে পুড়িয়ে মারা এবং পাবনায় বিএনপির প্রার্থীর উপর গুলির ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে হাদির খুনি শনাক্ত হয়েছে এবং পাবনায় বিএনপির প্রার্থীর অনুষ্ঠানে গুলির ঘটনায় ছাত্রশিবিরের নেতা পিস্তলসহ ধরা পড়েছে। এছাড়া অন্যান্য ঘ্টনাগুলোর নেপথ্যের কাহিনী এখনো মানুষের অজানা। কিন্তু ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর প্রকাশনায় হামলা অগ্নিকা-ের ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান অভিযোগ উঠেছে। স্টারের বিল্ডিংয়ে অগ্নি সংযোগের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিবিরের শীর্ষ নেতা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত শিবিরের শীর্ষ নেতা আগুন দেয়ার জন্য উচ্ছৃংখল উগ্রবাদীদের নির্দেশনা দেন। ইসলামী ছাত্রশিবির অবশ্য পরে দাবি করেন শিবিরের ওই দুই নেতা মুখ ফসকে এমন কথা বলেছেন। তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দ্য নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবির জামায়াত-শিবির ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের রিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি ঘটনাস্থলে জামায়াত-শিবিরের নেতাদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং প্রশাসনও আগুন নেভাতে উগ্রবাদী তথাকথিত তৌহিদী জনতাকে নিবৃত্ত করেনি বলে দাবি করেছেন। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ কেউ গণমাধ্যমের বিল্ডিংয়ে আগুন লাগানো ঠেকানোর চেষ্টা করেননি। তিনি বলেন, দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনা মধ্যযুগীয় কায়দায় আগুন লাগিয়ে সাংবাদিকদের পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। পত্রিকা অফিসের মধ্যে আগুন লাগিয়ে দিয়ে এবং ফায়ার সার্ভিস আসার সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। আমি নিজেই ঘটনা শুনে কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি তারা আড়াই ঘন্টায়ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখাননি। প্রথম দিকে তারা উগ্রবাদীদের ঠেকানোর কথা বলেও পরে তাদের কথাবার্তায় আমার মনে হয়েছে তারা গণমাধ্যমের অগ্নিকা- ঠেকানোয় আগ্রহী নন। শুধু তাই নয়, ওসমান হাদি নিজেও নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন এবং ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। অথচ তার চেতনার বিপরীতে গিয়ে গণমাধ্যমে আগুন দিয়ে বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে শিবির। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার ওই গোষ্ঠীর (জামায়াত-শিবির) লক্ষ্য প্রস্ফুটিত হয়েছে; তারা চেয়েছে মধ্যযুগীয় কায়দায় চারপাশ থেকে আগুন লাগিয়ে যাদের সঙ্গে তাদের মতান্তর তৈরি হয়, তাদের পুড়িয়ে হত্যা করতে এবং পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যেকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের অনেকেই লিখেছেন, যারা নির্বাচন পেছাতে চায় এবং সেটা সম্ভব না হলে ভারত বিরোধিতা ধোঁয়ার নাটক করে ভোট পেতে চায় তারাই মূলত এই বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনার নেপথ্যে থাকতে পারে। কারণ প্রবাসে থেকে কিছু ইউটিউবার প্রথম আলোতে আগুন দেয়ার প্ররোচনা দিয়েছে। ওই মহল নানা ইস্যুতে বিএনপির বিরুদ্ধে এবং জামায়াতের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করেছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ‘জামায়াত ভারতের বিরুদ্ধে নয়’ ঘোষণা দেয়ার কয়েকদিন পর দলটির নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বাংলাদেশ আক্রমণের জন্য ভারতকে আমন্ত্রণ জানান। যুদ্ধ শুরু হলে জামায়াত-শিবিরের ৫০ লাখ তরুণ যুদ্ধ করবে বলেও ঘোষণা দেন। জামায়াত নেতাদের এই বক্তব্য ফলাও করে প্রচার করেন প্রবাসে থাকা ওই সব বিতর্কিত ইউটিউবার ও কন্টেইন ক্রিয়েটার। অতঃপর জামায়াতের ‘আগে সংস্কার পরে নির্বাচন’ জুলাই সনদে সই না করার প্রচারণা চালানো (পরে সই করেছে), সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট, জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী ১৪ দলের শরীকদের নিষিদ্ধ করাসহ বেশ কিছু ইস্যুতে আন্দোলন করে। ওই সব কর্মসূচির পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরালো প্রচারণা চালায় ওই প্রবাসী ইউটিউবারগণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা রয়েছে ঘোষিত তারিখে যাতে নির্বাচন না হতে পারে সে লক্ষ্যে আইন শৃংখলার অবনতির ইস্যুকে সামনে এনে নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা হতে পারে। প্রখ্যাত সাংবাদিক নুরুল কবির যে বক্তব্য দিয়েছেন, প্রশাসনের কিছু লোক এবং তাদের অনুসারী রাজনৈতিক দল এমন অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় এমন ইস্যু সৃষ্টি হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহিদ উর রহমান বলেছেন, গণমাধ্যমের অফিসে অগ্নিসংযোগ করায় কার লাভ হয়েছে তা বোঝা গেছে পরিষ্কারভাবে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের শীতল সম্পর্ক পুরনো। হাসিনাসহ বাংলাদেশের বহু খুনের মামলার আসামিকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে। পাশাপাশি সেখানে নিরাপদে থেকে হাসিনা একের পর এক হুংকার দিচ্ছে। ফলে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক সহসাই স্বাভাবিক হবে এমন নয়। কিন্তু ছাইচাপা আগুনের মতো নিস্তেজ সেই বিরোধের আগুন নির্বাচনের আগে উস্কে দেয়ার নেপথ্যের মাস্টারমাই- কারা সেটাই পরিষ্কার হওয়া জরুরি। দুই দেশের মধ্যেকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির নেপথ্যে কী আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে?